Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক: ঘরের মাঠে দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নিয়ে ফাইনালের দিকে পা বাড়িয়ে রাখল জামশেদপুর এফসি। বৃহস্পতিবার আইএসএলের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের প্রথম লেগে হাভিয়ে হার্নান্ডেজের শেষ মুহূর্তের গোলে তারা শিল্ডজয়ী মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে ২-১-এ হারিয়ে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এগিয়ে রইল জামশেদপুর এফসি। 

আগাগোড়া উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে ভরপুর ম্যাচে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট হাভিয়ে সিভেরিওর গোলে পিছিয়ে যাওয়ার পরও কামিংসের বিশ্বমানের গোলে প্রথমার্ধেই সমতা আনে। দ্বিতীয়ার্ধের নির্ধারিত সময়ে মোহনবাগান তাদের আধিপত্য বজায় রাখলেও সংযুক্ত সময়ে অসাধারণ এক ক্রসে হার্নান্ডেজকে গোলের সুযোগ কার্যত সাজিয়ে দেন বঙ্গসন্তান ঋত্বিক দাস। এই গোলই জয় এনে দেয় খালিদ জামিলের দলকে। 

এই হার সত্ত্বেও ফাইনালে উঠতে গেলে আগামী সোমবার ঘরের মাঠে দ্বিতীয় লেগে অন্তত দু’গোলের ব্যবধানে জিততে হবে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে তাদের বিরুদ্ধে জেতা বেশ কঠিন হবে জামশেদপুরের পক্ষে। কারণ, এ দিন চতুর্থ হলুদ কার্ড দেখায় সেই ম্যাচে খেলতে পারবেন না প্রথম দলের দুই নির্ভরযোগ্য সদস্য স্টিফেন এজে ও আশুতোষ মেহতা। এ ছাড়া গত ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় এমনিতেই মাঠের বাইরে রয়েছেন মোবাশির রহমান। ফলে সেরা এগারো নামানো কঠিন হবে খালিদের পক্ষে। 

এ দিন ম্যাচের শুরুর দিকে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে বেশ কোণঠাসা করে রাখে জামশেদপুর এফসি। ২৪ মিনিটের মাথায় সিভেরিওর গোলের পর যে ধাক্কা খায় সবুজ-মেরুন বাহিনী, সেই ধাক্কাই তাদের খেলায় ফিরতে সাহায্য করে এবং ৩৭ মিনিটের মাথায় কামিংসের অসাধারণ ফ্রি কিক জালে জড়িয়ে যাওয়ায় ১-১ স্কোর নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল। 

দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের দাপটই বেশি ছিল। কিন্তু গোলের সুযোগ তৈরি করেও বারবার ব্যর্থ হয় তারা। এরই মাশুল তাদের দিতে হয় সংযুক্ত সময়ে। শেষ মিনিটে ফের সমতা আনার সুযোগ পেয়ে যান অনিরুদ্ধ থাপা। কিন্তু অনবদ্য সেভ করে দলের হার বাঁচান গোলকিপার আলবিনো গোমস। এ দিন ১১টির মধ্যে যেখানে তিনটি শট গোলে রাখে, সেখানে পাঁচটির মধ্যে চারটি শটই গোলে রাখে জামশেদপুর। মাত্র ২৬.৭ শতাংশ বল দখলে রাখলেও বা তাদের ৫৫ শতাংশ পাস নিখুঁত হলেও শেষ হাসি হাসে ইস্পাতনগরীর সমর্থকেরাই।      

এ দিন পাঁচটি পরিবর্তন করে দল নামান মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কোচ হোসে মোলিনা। দলের দুই আহত সদস্য আপুইয়া ও মনবীর সিং এ দিনের স্কোয়াডেই ছিলেন না। আক্রমণে জেমি ম্যাকলারেনের জায়গায় নামেন জেসন কামিংস। দিমিত্রিয়স পেট্রাটসও ছিলেন রিজার্ভ বেঞ্চে। কামিংসের সঙ্গে গ্রেগ স্টুয়ার্টকেও রাখা হয় আক্রমণের জন্য। অন্যদিকে, আগের ম্যাচের প্রথম দলে দুটি পরিবর্তন করেন জামশেদপুরের কোচ খালিদ জামিল। হাভিয়ে সিভেরিও ও সৌরভ দাসকে প্রথম এগারোয় আনেন। 

তবে ম্যাচের শুরুর দিকে এই অ্যাটাকারদের কড়া পাহাড়ায় রাখেন জামশেদপুরের ফুটবলাররা। প্রথম কোয়ার্টারে প্রতিপক্ষের গোল এরিয়ায় বেশি দেখা যায়নি সবুজ-মেরুন খেলোয়াড়দের। কোনও শটও তাঁদের নিতে দেননি স্টিফেন এজেরা। বরং একাধিকবার আক্রমণ হানে জামশেদপুর, দুটি শটও গোলে রাখে তারা। ছ’মিনিটের মাথায় তাদের আক্রমণ আটকাতে গিয়ে কনুইয়ের ওপরের অংশে বলও লাগিয়ে ফেলেন আশিস। রেফারি অবশ্য জামশেদপুরের খেলোয়াড় ও মুখর সমর্থকদের আবেদনে সাড়া দেননি। 

শুরু থেকেই ঘন ঘন আক্রমণে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের রক্ষণকে বেশ চাপে ফেলে দেন হাভিয়ে হার্নান্ডেজ, মহম্মদ সনন, সিভেরিও, জর্ডন মারে-রা এবং ২৪ মিনিটের মাথায় তাদের উদ্দেশ্য পূরণও হয়, যখন সিভেরিওর গোলে এগিয়ে যায় জামশেদপুর। মহম্মদ উভেইসের লম্বা থ্রো উড়ে গিয়ে পড়ে বক্সের মধ্যে থাকা স্টিফেন এজের মাথায়। তিনি অসাধারণ হেডে বল গোলের সামনে পাঠালে শুভাশিস বোসকে ধোঁকা দিয়ে হেড করে জালে বল জড়িয়ে দেন সিভেরিও (১-০)। 

গোল খাওয়ার পরেই জেগে ওঠে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট এবং ৩৪ মিনিটের মাথায় গ্রেগ স্টুয়ার্টের ফ্রি কিকে হেড করে প্রায় গোল করেই ফেলেছিলেন আলবার্তো রড্রিগেজ। কিন্তু তাঁর হেড পোস্টের ভিতরে লেগে গোললাইনের সামনে পড়ে এবং শুভাশিস সেই বলের নাগাল পাওয়ার আগেই জামশেদপুরের গোলকিপার আলবিনো গোমস ক্ষিপ্রতার সঙ্গে তা নিজের দখলে নিয়ে নেন। 

এর দু’মিনিট পরেই জামশেদপুরের বক্সের সামনে ফাঁকায় বল পেয়ে যান কামিংস। তিনি গোলের দিকে দৌড় শুরু করতেই তাঁকে বিপজ্জনক ফাউল করেন ও হলুদ কার্ড দেখেন আশুতোষ মেহতা। এ জন্য পরের ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি। তবে এর পরেই, ৩৭ মিনিটের মাথায় কামিংসের অনবদ্য ফ্রিকিক আটকানোর ক্ষমতা ছিল না প্রতিপক্ষের কারও। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর অসাধারণ ও মাপা বাঁ পায়ের ফ্রিকিক গোলের ডানদিকের ওপরের কোণ দিয়ে যে ভাবে গোলে ঢোকে, তার নাগাল পাননি আলবিনো (১-১)। 

এই গোলের পর থেকেই খেলার ছবিটা দ্রুত পাল্টে যায় এবং ক্রমশ আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় সবুজ-মেরুন বাহিনী। লিস্টন কোলাসো, গ্রেগ স্টুয়ার্ট, সহাল আব্দুল সামাদরা পরপর গোলের সুযোগ তৈরি করায় এ বার বেশ চাপে পড়ে যায় জামশেদপুরের রক্ষণ। তবে বিরতির আগে আর কোনও গোল পায়নি কোনও পক্ষই। 

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে দেওয়ার চেষ্টা করে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সহাল, থাপা ও স্টুয়ার্ট পরপর তিনটি গোলের সুযোগ পেয়েও সাফল্য পাননি ডিফেন্ডারদের তৎপরতায়। জামশেদপুর প্রতি আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। প্রথম ১৫ মিনিটে যেখানে প্রতিপক্ষের বক্সে আটবার বল ছোঁন কোলাসোরা, সেখানে একবারও মোহনবাগান গোল এরিয়ায় বলে পা লাগাতে পারেননি সিভেরিওরা। ওই সময়ে দুই পক্ষের রক্ষণেই গড়ে ওঠে দুর্ভেদ্য দেওয়াল। তবে নিজেদের দখলেই বেশিরভাগ বল রাখার প্রবণতা দেখা যায় সবুজ-মেরুন বাহিনীর খেলায়। 

ম্যাচের ৬৭ মিনিটের মাথায় দীপক টাঙরির গোলমুখী শট প্রণয় হালদারের পায়ে লেগে গোলের বাইরে চলে যায়। এর পরেই সহালের পাসে প্রায় গোলের ঠিকানা খুঁজে পেয়ে গিয়েছিলেন শুভাশিস। তবে প্রতিপক্ষের বাধায় তিনি সফল হতে পারেননি। 

শেষ ২০ মিনিটে আক্রমণে ঝড় তোলার জন্য ৭১ মিনিটের মাথায় স্টুয়ার্টের জায়গায় নামেন জেমি ম্যাকলারেন। এর পাঁচ মিনিট পরে কামিংস ও সহালকেও তুলে নেন মোলিনা, নামান দিমি পেট্রাটস ও আশিক কুরুনিয়ানকে। তবে শেষ কুড়ি মিনিটে জামশেদপুরও খেলায় ফেরার চেষ্টা শুরু করে। দু’বার ডানদিক দিয়ে আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করেন জর্ডন মারে। কিন্তু সবুজ-মেরুন রক্ষণের তৎপরতায় তিনি বেশিদূর এগোতে পারেননি।   

পরিবর্তনগুলির পরেই অবশ্য আক্রমণে গতি বা তীব্রতা আনতে পারেনি মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। বরং আরও কমে যায়। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করে তখন ম্যাচে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে দুই দলই। হয়তো হার এড়ানোর কথাই তখন দুপক্ষের মাথাতে ঢুকে পড়ে। গোলের জন্য মরিয়া ভাবও উধাও হয়ে যায়। কামিংস যে জায়গা থেকে ফ্রি কিক নিয়ে গোল করেছিলেন, প্রায় সে রকমই জায়গা থেকে ফ্রি কিক পেয়েও সেই সুযোগ হাতছাড়া করেন পেট্রাটস। তবে ম্যাচের উত্তেজনা চরমে ওঠে চার মিনিটের সংযুক্ত সময়ে। 

কিন্তু সংযুক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে ওঠা ঋত্বিক দাস যে ভাবে হাভিয়ে হার্নান্ডেজকে প্রায় গোল সাজিয়ে দেন, তার কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। সেন্টার লাইনের ওপার থেকে আসা বল নিয়ে যখন উঠে যান ঋত্বিক, তখনই তাঁকে সমান্তরাল ভাবে অনুসরণ করেন হাভি। ঋত্বিকের ক্রস ও হাভির বক্সে প্রবেশ একসঙ্গেই ঘটে এবং গোল তখন তাঁর সামনেই ছিল। সেই সময়ে কলকাতার দলের চার ডিফেন্ডার বক্সের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও প্রাক্তন মোহনবাগানীকে আটকাতে পারেননি। এর চার মিনিট পরেই থাপার গোলমুখী শট অনবদ্য সেভ করেন আলবিনো।   

তুমুল উত্তেজনার মধ্যে শেষ বাঁশি বাজার পর প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে অশান্তিতে জড়িয়ে পড়ে হলুদ কার্ড দেখেন স্টিফেন এজে। যার ফলে পরের ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি। যা সবুজ-মেরুন শিবিরের পক্ষে ভাল খবর বলা যায়।

মোহনবাগান এসজি দল (৪-৪-২): বিশাল কয়েথ (গোল), আশিস রাই, টম অলড্রেড, আলবার্তো রড্রিগেজ, শুভাশিস বোস, সহাল আব্দুল সামাদ (আসিক কুরুনিয়ান-৭৭), অনিরুদ্ধ থাপা, দীপক টাঙরি, লিস্টন কোলাসো, জেসন কামিংস (দিমিত্রিয়স পেট্রাটস- ৭৭), গ্রেগ স্টুয়ার্ট (জেমি ম্যাকলারেন- ৭১)। 

ম্যাচের সেরা: হাভিয়ে হার্নান্ডেজ (জামশেদপুর এফসি) 

(লেখা আইএসএল ওয়েব সাইট থেকে)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *