অলস্পোর্ট ডেস্ক: কেউ হাসলেন, কেউ কেঁদে ভাসালেন, ম্যাচ শেষেই ছুটে গেলেন একে অপরের কাছে, জরিয়ে ধরলেন সবাই সবাইকে। এ এক অসাধারণ মুহূর্ত তৈরি হল থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই স্টেডিয়ামে। ছেলেরা পারেননি, কিন্তু ক্রিপিন ছেত্রীর হাত ধরে পারল ভারতের মেয়েরা। থাইল্যান্ডকে তাদেরই ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হারিয়ে এএফসি এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন করল ভারতীয় মহিলা সিনিয়র ফুটবল দল। ভারতীয় ফুটবলের জন্য এ এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সম্প্রতি ভারতীয় ফুটবল ও ফুটবল প্রশাসনকে ঘিরে শুধুই উঠে আসছে খারাপ মুহূর্ত। এই জয় তাতে অবশ্যই কিছুটা প্রলেপ দেবে। ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ভালো থাকার মুহূর্ত দেবে এই জয়।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছে ভারতের মেয়েরা। প্রথম থেকেই তাঁদের ঘিরে স্বপ্ন দেখার শুরু। কখনও চার গোল তো কখনও পাঁচ গোলের মালা পরিয়েছে প্রতিপক্ষকে। কিন্তু শেষ লড়াই ছিল সব থেকে কঠিন। তবে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ভারতের মেয়েরা গ্রুপের শীর্ষে থেকেই নেমেছিল থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে নির্ণায়ক ম্যাচ খেলতে। ঝুলিতে ছিল তিন ম্যাচে ২২ গোল। লড়াই ছিল ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৪৬ বনাম ৭০-এর। সেদিক থেকে দেখতে গেলে অনেকটাই পিছিয়ে থেকেই নেমেছিল ভারতের মেয়েরা। তবে ক্রিসপিন ছেত্রীর এই দলের কাছে র্যাঙ্কিং যে একটা সংখ্যা মাত্র তা বুঝিয়ে দিল তাদের খেলা।
শুরু থেকেই দুই পক্ষ একে অপরকে মেপে নিচ্ছিল। থাইল্যান্ড খুব ভালো করেই জানত ভারতের মেয়েরা ফর্মের শীর্ষে রয়েছে। তাই ধিরে চলো নীতি মেনেই ম্যাচে এগিয়েছে থাইল্যান্ড। তার মধ্যেই শুরুতে তাদের একটি শট ক্রসবারে লেগে বেরিয়ে যায়। এর পর ২৪ মিনিটে ভারতের একটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট হলেও গোল করে এগিয়ে যেতে বেশি দেড়ি করেনি ভারত। সঙ্গীতা বাসফোরের দূরপাল্লার শটে ২৯ মিনিটেই এগিয়ে যায় ভারত। এর পর দুই পক্ষই বেশ কিছু নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া করে। যার ফল ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে ভারত।

দ্বিতীয়ার্ধে গোল মিসের বহর থেকে ঘুরে দাঁড়ানোটাই ছিল লক্ষ্য। ১-০ গোলে ব্যবধান যে কোনও সময় ভেঙে যেতে পারে, সেই ঝুঁকি থেকে মুক্তি পেতে গোলের ব্যবধান বাড়ানো খুবই প্রয়োজন ছিল। কারণ ততক্ষণে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে থাইল্যান্ড। যার ফল দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দুই মিনিটেই সমতায় ফেরে থাইল্যান্ড। ৪৭ মিনিটে চাততাওয়াং রডথংয়ের গোলে ১-১ করে খেলায় ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয় থাইল্যান্ড। কিন্তু মরিয়া ভারত তাতে দমে যাওয়ার পক্ষে ছিল না। ৭৪ মিনিটে আবার ভারতকে এগিয়ে দেন সেই মেয়ে সঙ্গীতা। এবার কর্নার থেকে উড়ে আসা বল জটলার মধ্যে থেকে হেড করেছিলেন সিল্কি। সেই বলেই দ্বিতীয় পোস্টের গা ঘেঁষে হেডে গোলে পাঠান সঙ্গীতা। বাঙালি হলেও সঙ্গীতার জন্ম ওড়িশায়।
তার পর বাকি সময়টা ছিল এই ব্যবধান ধরে রাখার। জোড়া গোল করে ভারতকে এএফসি এশিয়ান কাপে পৌঁছে দিয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন সঙ্গীতা। এই সাফল্য মনে রাখবে ভারতীয় ফুটবল। যদিও দলের কোচ ক্রিসপিন ছেত্রী আগেই বলে দিয়েছিলেন, ‘‘যোগ্যতা নির্ণয় তো সবে শুরু। সামনে অনেক বড় কাজ বাকি।’’ তাঁর এই লাইনই হয়তো ভারতের মেয়েদের ভোকাল টনিক।
ছবি— ইন্ডিয়ান ফুটবল টিম এস্ক
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
