অলস্পোর্ট ডেস্ক: মরশুমের প্রথম জয়ের মুখ দেখেছে মহমেডান, বৃহস্পতিবার ডুরান্ড কাপে গ্রুপের শেষ ম্যাচে বিএসএফকে ৩ গোলে হারিয়ে। একইগ্রুপে মোহনবাগান এসজি ও ডায়মন্ড হারবার এফসির কাছে হারলেও সাদা কালো ব্রিগেডের নবীন ফুটবলারদের লড়াই নজর কেড়েছে। তবে সেটা যথেষ্ট ছিল না ডুরান্ডের নকআউটে যেতে। আপাতত তাই মহমেডানের ফোকাস থাকছে কলকাতা ফুটবল লিগে। ৬ ম্যাচ খেলে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে মহমেডান প্রচন্ড চাপে আছে। বাকি ৬ ম্যাচে নিজেদের গ্রুপে শেষ ৩ স্থানের ওপরে উঠতে না পারলে, অবনমন বাঁচাতে লড়তে হবে তাদের। কলকাতা লিগের নিয়মে ২টো গ্রুপের শেষ ৩টি করে দল, অর্থাৎ ৬টি দলকে অবনমন বাঁচাতে লড়তে হবে। সেই ৬ দলের মধ্যে সবচেয়ে কম পয়েন্ট পাওয়া শেষ ২টি দল নেমে যাবে।
ডুরান্ডে ভাল খেললেও, কলকাতা লিগে এমন খারাপ অবস্থা কেন মহমেডানের? কোচ মেহরাজ থেকে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্তা মহম্মদ কামারউদ্দিনের মতে, ভূমিপুত্র খেলানো বাধ্যতামূলক নিয়ম ও ট্র্যান্সফার ব্যানের জন্যই তাঁদের ভুগতে হচ্ছে। কামারের বক্তব্য, ‘ আমরা আইএসএল খেলার কথা মাথায় রেখে দল গোছানোর কাজ শুরু করেছিলাম। তখন আইএফএ জানায়নি কলকাতা লিগের দলে ৬ ভূমিপুত্র রাখতেই হবে। এটা পরে ঠিক হয়। তাও ব্যাপারটা সামলে নেওয়া যেত আইএসএলের কথা ভেবে দলে নেওয়া হীরা মন্ডল, ইসরাফিল দেওয়ান, ফারদিন আলা মোল্লা, জুয়েল আহমেদ মজুমদার সহ ৬ ভূমিপুত্রকে খেলানো গেলে। এরা তো আটকে গেছে ট্র্যান্সফার ব্যানের কারণে। যতদিন না সেই ব্যান তোলা সম্ভব হচ্ছে, এদের সই করানো বা খেলানোর সুযোগ নেই। দলের সঙ্গে এরা প্র্যাকটিস করছে। যদি আগামী ১০/১২ দিনে ট্র্যান্সফার ব্যান তোলা যায়, তাহলে এদের কলকাতা লিগে খেলানো গেলে অন্তত অবনমন বাঁচিয়ে ফেলা যাবে।’ কোচ মেহরাজের গলাতেও এক সুর।
গত মরশুমের দেনা বাবদ কোচ-ফুটবলার ও অন্যান্য বিষয়ে মহমেডানকে মেটাতে হবে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ট্র্যান্সফার ব্যান তুলতে। সে টাকাটা নতুন মরশুমে কীভাবে আসবে? মহমেডান কর্তা কামারউদ্দিন জানালেন, ‘ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উদ্যোগে টেকনো আমাদের আর্থিক সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে। সেই পরিমানটা ২৫ কোটির মতো। তবে সেটা ভাল দল গড়া, সুপার কাপ, আইএসএল খেলা, গোটা মরশুম চালানোর মতো যথেষ্ট নয়। আমাদের আরও কয়েকটা ছোট-বড় সহযোগী স্পনসর জোগাড় করতে হবে। যতদিন সেটা না হচ্ছে, আমাদের নিজেদের পকেট থেকে খরচ করতে হবে ক্লাবের সুনাম বাঁচাতে।’
বৃহস্পতিবার ফেডারেশনের ডাকা বৈঠকে হাজির ছিলেন মহমেডান কর্তা। কামারউদ্দিন বলেন, ‘ ফেডারেশন সভাপতি কল্যান চৌবে বা এফএসডিএলের কথা ধোঁয়াশা ভরা। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর স্লটে ফরম্যাট বদলে সুপার কাপ করতে চায় ফেডারেশন। কিন্তু আইএসএল আদৌ হবে কিনা, সে নিয়ে কিছুই বলতে পারেনি। একটা টপ টায়ার লিগ করার কথা বলা হয়েছে বৈঠকে। সেটা কীভাবে হবে, কবে হবে, কোথায় হবে, সবটাই ধাঁধা। এরকমও শুনলাম, কোভিডের সময় একটা কেন্দ্রে সব দলকে নিয়ে যেভাবে আইএসএল হয়েছিল, তেমন নাকি হতে পারে, খরচ ও সময় বাঁচাতে। দেখা যাক, ৭ দিন পর আর একটা মিটিং হলে, কী দাঁড়ায়।’
আইএসএল যখনই হোক, আপাতত কলকাতা লিগের পর সুপার কাপে মনঃসংযোগ করবে মহমেডান, সূচী জানলে। মহমেডান কর্তা জানালেন, এইমুহূর্তে তাঁরা আর নতুন বিদেশি কোচ নিয়োগের পথে হাঁটবেন না। তাঁরা দেশীয় কোচ মেহরাজউদ্দিনেই আস্থা রাখছেন। সুপার কাপে মেহরাজই কোচের ভূমিকায় থাকবেন। আগে ট্র্যান্সফার ব্যান তুলে দলটা শক্তিশালী করা জরুরি। কাদরি ছাড়া আর কোনও বিদেশির সঙ্গে চুক্তি নেই। তাই ব্যান উঠলে আরও ৫ বিদেশি দলে নেবেন। তারপর সুপার কাপের পারফরমেন্স ও ফল দেখে আইএসএলের দিন ঘোষণা হলে ঠিক করবেন বিদেশি কোচ আনা আদৌ জরুরি কিনা।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
