Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক: ১৭ বছর বয়সী গ্রান্ডমাস্টার গুকেশ ডি (ডোমমারাজু গুকেশ) মঙ্গলবার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে মিসরাতদিন ইস্কান্দারভকে হারিয়ে সবার নজর করে নিয়েছেন। এই জয়ের সঙ্গে তিনি লাইভ ওয়ার্ল্ড ফিডে র‍্যাঙ্কিং-এ বিশ্বনাথান আনন্দকে ছাঁপিয়ে গেলেন। গুকেশ দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচের দ্বিতীয় খেলায় আজারবাইজানের ইস্কান্দারভকে ৪৪ চালে হারিয়ে দেন।

আন্তর্জাতিক দাবা ফেডারেশন (এফআইডিই) টুইটে করে জানিয়েছে, ‘‘গুকেশ ডি আজ আবার জিতেছে এবং লাইভ রেটিং-এ বিশ্বনাথন আনন্দকে তিনি পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছেন। এক সেপ্টেম্বর পরবর্তী অফিসিয়াল ফিডে রেটিং তালিকার জন্য এখনও এক মাস বাকি আছে। তবে আশা করা যায় ১৭ বছর বয়সী তরুণ খেলোয়াড় ভারতের এক নম্বর হিসাবে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং-এর সেরা ১০-এ জায়গা করে নেবেন।’’

মাত্র সাত বছর বয়সে গুকেশ দাবা জগতে প্রথম পা দেন। চেন্নাইয়ের স্কুল থেকেই দাবার সঙ্গে তাঁর পথ চলা শুরু। যে চেন্নাই থেকে উঠে আসা দেশের সর্বকালের সেরা দাবারু বিশ্বনাথান আনন্দের। স্কুলে গুকেশের কোচ ছিলেন মিস্টার ভাস্কর। গুকেশের খেলা দেখে তিনি বুঝেছিলেন তিনি এক বড়মাপের দাবাড়ু হবেন। এবং তিনি গুকেশকে দাবা শেখা শুরুর ছয় মাসের মধ্যেই ফিডে রেটেড প্লেয়ার করে দেন।

এরপর বিজয়আনন্দের কোচিং-এ গুকেশ আন্তর্জাতিক স্তরে ম্যাচ জিততে থাকেন। ২০১৫-তে এশিয়ান স্কুল চেজ চ্যাম্পিয়নশিপে অনূর্ধ্ব-৭ বিভাগে তিনি জয় তুলে নেন। এবং এর সঙ্গে তিনি অনুর্ধ্ব-৯ বিভাগে ক্যান্ডিটেড ম্যাস্টার খেতাবও জিতে নেন। ২০১৮-এ তিনি প্রথম মেজর জেতেন। গুকেশ এশিয়ান যুব চ্যাম্পিয়নশিপে পাঁচটি মেডেল জেতেন। সেই বছরেই তিনি অনুর্ধ্ব-১২ বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপে ১০/১১ পয়েন্টে সেই খেতাব জেতেন।

মাত্র ১১ বছর নয় মাস নয় দিন বয়সে গুকেশ আন্তর্জাতিক মাস্টার হয়েছিলেন। এরপর তাঁর আরও সফল হওয়ার জেদ চেপে যায়। সর্বকনিষ্ঠ গ্রান্ডমাস্টার হওয়ার জন্য তিনি নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকেন। ২০১৯-এর জানুয়ারিতে গুকেশের জীবনে সবচেয়ে বড় জয় আসে। মাত্র ১২ বছর সাত মাস ১৭ দিনে তিনি গ্র্যান্ডমাস্টার হন। অল্পের জন্য সার্জি কার্জাকিনের রেকর্ড ছুঁতে পারেননি। কার্জাকিন ১২ বছর সাত মাসে জিএম হয়েছিলেন।

গুকেশকে ভারতের সবচেয়ে উজ্জ্বল দাবা প্রতিভাদের মধ্যে একজন ধরা হয়। ২০২২-এ তিনি ২৭০০-এর লাইভ রেটিং করে চতুর্থ কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হয়ে ছিলেন। সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার পরও তাঁর উত্থান চলতে থাকে। তিনি ২০২২ ফিডে দাবা অলিম্পিয়াডে দলীয় ব্রোঞ্জ এবং ব্যক্তিগত সোনা জিতেছেন।

২০২৩-এ তিনি জুনিয়ার স্পিড চেজ চ্যাম্পিয়নশিপ আইএম এমিন ওহানিয়ান, জিএম প্রণব ভি এবং জিএম রৌনক সাধওয়ানিকে হারিয়ে দেন। তিনি ২৭৫০ ফিডে রেটিং অতিক্রম করে ইতিহাসের পাতায় সর্বকনিষ্ঠ দাবারু হিসাবে নাম লেখান। সর্বশেষ গেমে গুকেশ ২৭৫৫.৯ লাইভ রেটিং করেন যেখানে আনন্দ করেন ২৭৫৪.০। ফলস্বরূপ বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং-এর ৯-এ থাকা আনন্দের জায়গায় এখন ডোমমারাজু গুকেশ। তাঁর এই র‍্যাঙ্কিং-এর পর পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন বিশ্বনাথান আনন্দ এখন দশ নম্বরে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *