Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
আর্মান্দো সাদিকু

২০১৬-র ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে রোমানিয়ার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক গোল করেছিলেন তিনি। সেই গোলেই রোমানিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবলে জয় পায় আলবানিয়া। লা লিগার দ্বিতীয় ডিভিশন ক্লাব এফসি কার্তাগেনা থেকে তাঁকে দু’বছরের চুক্তি করে নিয়ে আসছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। আলবানিয়ার জাতীয় দলের হয়ে খেলা সেন্টার ফরোয়ার্ড আর্মান্দো সাদিকু আসন্ন হিরো আইএসএলে সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন।

গোল করায় পারদর্শী এই ফরোয়ার্ড দলে আসায় সমর্থকদের একজন প্রকৃত স্ট্রাইকারের চাহিদা পূরণ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। গতবার অস্ট্রেলিয়ার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার দিমিত্রিয়স পেট্রাটসকে স্ট্রাইকারে রূপান্তরিত করে দলকে হিরো আইএসএল চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন কোচ ফেরান্দো। সারা মরসুমে দলের গোলের সংখ্যা অপ্রত্যাশিত ভাবে কম হয়েছিল। সেই জন্যই সম্ভবত এ বার একজন বিশেষজ্ঞ সেন্টার ফরোয়ার্ডকে দলে নিয়ে এল সবুজ-মেরুন বাহিনী।

এ বারেই প্রথম এশিয়ার মাটিতে পা রাখতে চলেছেন সাদিকু। ৩২ বছর বয়সী এই ছ’ফুট উচ্চতার ফরোয়ার্ড গত মরশুমে লা লিগার দ্বিতীয় ডিভিশনে ৩১টি ম্যাচ খেলেছেন ও আটটি গোল করেছেন। কোপা দেল রে-তেও তিনটি ম্যাচ খেলেন তিনি। দেশের হয়ে ৩৮টি ম্যাচে ১২টি গোল করেছেন তিনি। তিনটি গোলে অ্যাসিস্টও করেছেন তিনি। এ বার কি তিনি আসছেন এশিয়ার ক্লাব ফুটবলে ঝড় তুলতে?

সাদিকুর মতো একজন ফুটবলারকে দলে পেয়ে বেশ খুশি মোহনবাগান এসজি-র কোচ হুয়ান ফেরান্দো বলেছেন, “এতদিনে সবাই নিশ্চয়ই জেনে গিয়েছেন সাদিকু কেমন ফুটবলার। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ও একজন দুর্দান্ত ফুটবলার, যে মানসিক ভাবে খুবই শক্তিশালী। তা ছাড়া স্পেনে ওর অভিজ্ঞতাও প্রচুর”।

স্পেনের ক্লাব ফুটবলে ইউডি লা পালমা, লেভান্তে, মালাগা সিএফ-এর হয়ে খেলেছেন সাদিকু। এ ছাড়াও সুইজারল্যান্ডের এফসি জুরিখ, এফসি লুগানোর হয়ে ও পোল্যান্ডের লেগিয়া ওয়ারজাওয়ার হয়েও খেলা এই ফরোয়ার্ড সম্পর্কে কয়েকটি অজানা তথ্য এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হল।

জাকা-ভাইয়েদের কাজিন 

সুইজারল্যান্ডের প্রাক্তন মিডফিল্ডার ও আর্সেনালের প্রাক্তন তারকা গ্র্যানিট জাকা ও এফসি বাসেলের টলান্ট জাকা-র সম্পর্কে ভাই হন এই সাদিকু। যদিও নিজের ভাই নন, ইংরেজিতে যাকে বলে ‘কাজিন ব্রাদার’। জাকা ভাইয়েরা জন্মেছিলেন আলবানিয়াতেই। তাঁদের বাবা-মা-র জন্ম কসভোয়। জাকা ভাইয়েদের বেড়ে ওঠা সুইজারল্যান্ডে। ফলে তাঁদের তিন দেশের হয়েই খেলার অধিকার আছে। যুব ফুটবলে এই দুই ভাই সুইজারল্যান্ডের হয়েই খেলতেন। তবে ক্রমশ গ্র্যানিট সুইজারল্যান্ডের হয়ে খেলা চালিয়ে গেলেও তাঁর ছোট ভাই টলান্ট আলবানিয়ার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৪ থেকে সাদিকুর সঙ্গে আলবানিয়ার হয়ে খেলেন মিডফিল্ডার টলান্ট জাকা।

জাতীয় দলের সর্বোচ্চ স্কোরার

আলবানিয়ার জাতীয় দলের বর্তমান ফুটবলারদের মধ্যে সাদিকু হলেন যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা। এ পর্যন্ত ৩৮ ম্যাচে এক ডজন গোল করেছেন সাদিকু, যে কৃতিত্ব রয়েছেন আর একজনেরও। তিনি হলেন সোকোল সিকালেশি। জাতীয় দলের হয়ে সাদিকু শেষ গোল করেছেন ২০১৯-এর মার্চে। ইউরো ২০২০-র বাছাই পর্বে অ্যান্ডোরার বিরুদ্ধে আলবানিয়ার ৩-০ জয়ে এই গোল করেন তিনি। সে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা এরজন বোদগানির ১৮ গোলের মাইলফলকের চেয়ে তিনি আর মাত্র ছ’গোল দূরে।

ইউরো ১৬-য় দেশের নায়ক

ইউরো ২০১৬-য় ইউরোপের ফুটবল মহলে হইচই ফেলে দেন সাদিকু। সে বারই প্রথম কোনও বড় টুর্নামেন্টে রোমানিয়াকে হারায় আলবানিয়া। ১-০-য় সেই জয়ে গোল করে রাতারাতি নায়ক বনে যান সাদিকু। সে বার ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে অল্পের জন্য হারের পর রোমানিয়ার বিরুদ্ধেও ওই জয়ের ফলে ইউরোর নক আউট পর্বে উঠতে পারেনি আলবানিয়া। কিন্তু সেই সাফল্যই ছিল দেশের ফুটবল মহলের আনন্দের একমাত্র কারণ এবং সেই ঘটনায় সবচেয়ে বড় চরিত্র হয়ে ওঠেন আরমান্দো সাদিকু, যিনি এ বার হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের গ্রহে পা রাখতে চলেছেন।  

পেশাদার ক্লাব কেরিয়ারে দেড়শোর বেশি গোল

পেশাদার ক্লাব ফুটবল জীবনে ছ’টি বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশের লিগ খেলেছেন সাদিকু। এমনকী দক্ষিণ আমেরিকায় বলিভিয়াতে গিয়েও সেখানকার ক্লাব বলিভারে খেলেছেন তিনি। সব মিলিয়ে ক্লাব ফুটবলে দেড়শোর ওপর গোল আছে তাঁর। সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন সুইজারল্যান্ডের দ্বিতীয় ডিভিশনে, সুইস চ্যালেঞ্জ লিগে। সেখানে ৫০-এর ওপর গোল করেছেন তিনি। সুইস চ্যাালেঞ্জ লিগে এফসি লোগানো, এফসি জুরিখ ও এফসি লোকারনোর হয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি। ভারতে আসার আগে সাদিকু খেলতেন স্পেনের দ্বিতীয় ডিভিশন ক্লাব এফসি কার্তায়েনার হয়ে। তাদের হয়ে ৩১টি ম্যাচ খেলে আটটি গোল করেছেন এই আলবানিয়ান তারকা।

ইউরোপের সর্বোচ্চ স্তরের ফুটবলে অংশগ্রহণ

মোহনবাগান এসজি-র নতুন এই ফরোয়ার্ডের সর্বোচ্চ স্তরের ক্লাব ফুটবলেও খেলার অভিজ্ঞতার ঝুলিও কম বড় নয়। আলবানিয়া, সুইজারল্যান্ড, পোল্যান্ড, স্পেন, তুরস্ক ও বলিভিয়ার বিভিন্ন ক্লাবে খেলার সময়ে তিনি উয়েফা চ্যাম্পিয়নশিপ, কোপা দেল রে এবং কোপা লিবারতেদোর্সের আসরে অংশ নিয়েছেন। ২০১৭-১৮-র ইউরোপিয়ার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বাছাই পর্বের তৃতীয় রাউন্ডে তিনি খেলেন লেগিয়া ওয়ারজাওয়ার হয়ে। কাজাখস্তানের এফসি আস্তানা-র বিরুদ্ধে দু’রাউন্ডের সেই লড়াইয়ে ওয়ারজাওয়া ১-৪-এ হেরে যায়। কিন্তু সেই লড়াইয়ে তাদের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছিলেন যিনি, তাঁর নাম আরমান্দো সাদিকু। সেই মরশুমে এফসি জুরিখের হয়ে ইউরোপা লিগের গ্রুপ পর্বেও খেলেন তিনি। তিন ম্যাচে একটি গোল করেন। কিন্তু তার পরেই চোটের জন্য আর খেলতে পারেননি। তাঁর ক্লাবও নক আউটে উঠতে পারেনি।

(লেখা আইএসএল ওয়েবসাইট থেকে)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *