অলস্পোর্ট ডেস্ক: একেই হয়ত বলে চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। বাংলাদেশকে সামনে রেখে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড প্রথমে ভারত ম্যাচ বয়কটের হুমকি দিয়ে, পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ভারতের সঙ্গে টি২০ বিশ্বকাপের ম্যাচে খেলেও নিল। তারপর পকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কার অনুরোধ ফেলতে না পেরেই তারা বয়কটের ভাবনা ছেড়ে কলম্বোর মাঠে খেলেছে। পাকিস্তানের সেই বক্তব্যে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে বাতিল হয়ে যাওয়া সম্পর্কে কোনও প্রতিবাদের কথা নেই। বাংলাদেশ সম্ভবত দেরিতে হলেও বুঝেছে, তাদের দাবার বড়ে হিসেবে ব্যবহার করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে রাজনীতি করেছে পাকিস্তান। দেরিতে হলেও, এই উপলব্ধির কারণেই সম্ভবত বাংলাদেশের ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল হক শপথ গ্রহণের পরই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতিতে উদ্যোগী হয়েছেন।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রাক্তন গোলকিপার আমিনুল ইসলাম বাংলাদেশ ন্যাশানাল পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সময় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মধুর সম্পর্কে গভীর ফাটল ধরেছিল। তার পরিণতিস্বরূপ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভারতের মাটিতে এসে আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করে। নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় আইসিসি, বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে খেলার সুযোগ দিয়েছিল বিশ্বকাপে। এতে প্রকান্তরে ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের।
শুধু তাই নয়, ভারতীয় দল ২০২৫য়ে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজে অংশ নিতে বাংলাদেশ সফর করেনি। সেটা ২০২৬য়ে হওয়ার কথা। কিন্তু দু’দেশের সম্পর্কের উন্নতি না ঘটলে, সেই সফর হওয়ার সম্ভাবনা কম। আর একারণেই খেলাধুলোর প্রাঙ্গনে দু’দেশের মধ্যে আগের হৃদ্যতা ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী আমিনুল হক।
ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের ক্রীড়ামন্ত্রী আমিনুল দায়িত্বভার বুঝে নিয়ে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন। আমিনুল জানিয়ছেন,‘ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর আমি সংসদ ভবনে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারের আলোচনা সেরেছি। টি২০ বিশ্বকাপের বিষয়টি নিয়ে। তিনি খুব বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেছেন। আমিও সেই মনোভাব দেখিয়েছি। আমি ওঁকে জানিয়েছি, টি২০ বিশ্বকাপ ঘিরে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা মেটাতে চাই। কারণ প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ক্রীড়াঙ্গন থেকে সববিষয়ে।
আমিনুল হক মনে করেন, ঠিকভাবে গোটা বিষয়টা ট্যাকল করতে পারলে বাংলাদেশের টি২০ বিশ্বকাপে খেলা হয়ত সম্ভব হত। বাংলাদেশের জাতীয় দলের প্রাক্তন গোলকিপার, বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের দুই ক্রিকেট তারকা শাকিব আল হাসান ও মাসরফি মোর্তাজার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির যাতে দ্রুত নিষ্পত্তি হয়, তার ব্যবস্থা করবেন। যাতে বাংলাদেশ ক্রিকেটে তাঁরা আবার নিজেদের অবদান রাখতে পারেন। বাংলাদেশ সরকারের কাছে তিনি অনুরোধ করবেন, এই দু’জনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যেন সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা হয় কোনওরকম কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ভাবনা ছেড়ে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
