Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

‌মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ জেমি ম্যাকলারেন। মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট দলের গোলমেশিন। আর পাঁচটা বিদেশির মতো স্বল্পভাষী বা গোমড়া মুখে বিদেশি নন। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপার স্ট্রাইকারের দখলে রয়েছে এ-‌লিগে সর্বাধিক গোল করার রেকর্ড। তবু তাঁর কথাবার্তায় এতটুকু তদম্ভ নেই। বরং তাঁর চলনে বলনে সবসময় একটা বিনম্র ভাব লক্ষ্য করা যায়। প্রশ্নের উত্তরও দেন খোলামেলা মেজাজে। যেমন দিলেন বৃহস্পতিবার যুবভারতীর সাংবাদিক সম্মেলন কক্ষে মহমেডানের মুখোমুখি হওয়ার দু’‌দিন আগে।

এটা ম্যাকলারেনের দ্বিতীয় মরশুম মোহনবাগানে। গতবছর মরশুমের শেষদিকে দলে যোগ দিয়েছিলেন। এবার শুরু থেকে। এতে কতটা সুবিধা হয়েছে নিজের পারফরমেন্সের ধার বাড়াতে?‌ আইএসএলের প্রথম ২ ম্যাচেই গোল পেয়েছেন। তার জন্য চলতি মরশুমে চেনা সতীর্থ ও কোচ সের্জিও লোবেরার সঙ্গে থাকার কোনও ভূমিকা আছে?‌ ম্যাকলারেন বলেন, ‘‌ গত মরশুমে মোহনবাগানে যোগ দিলেও আইএসএলের শুরুর দিকের ম্যাচে খেলতে পারিনি, চোট সমস্যায়। পরে ফিট হয়ে মাঠে নামার মুহূর্ত থেকে গোল পেতে থাকি। এবার অবশ্য মরশুমের শুরু থেকেই ফিট থাকায় মাঠে নামতে সমস্যা হয়নি। ডুরান্ড কাপ, শিল্ড, সুপার কাপ খেলেছি। গোলও পেয়েছি। আইএসএল ঘিরে অনিশ্চয়তা থাকলেও আমাদের প্র‌্যাকটিস বা প্রস্তুতি থেমে থাকেনি। এতে লাভই হয়েছে। দলে একটা ছন্দ আছে। আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। আইএসএলের প্রথম ২ ম্যাচে গোল পেয়েছি। আশা করছি, আরও গোল পাব আগামী ম্যাচগুলোয়।’‌

এ-‌লিগে নিয়মিত খেলেছেন। ওই লিগে আপনি সর্বাধিক গোলদাতা। আইএসএলের মান নিয়ে আপনার কী মত?‌ এখানকার খেলার ধরনের সঙ্গে মানাতে কি কোনও সমস্যায় পড়তে হয়েছিল?‌ ম্যাকলারেনের চমকপ্রদ জবাব, ‘‌ এ লিগের ডিফেন্ডারদের থেকে এদেশে আইএসএলে খেলা ডিফেন্ডারদের মোকাবিলা করা কঠিন মনে হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দলে থাকা স্প্যানিশ ডিফেন্ডাররা। ওদের মধ্যে যে নাছোড়বান্দা মনোভাব দেখেছি, তা এ লিগের ডিফেন্ডার মনোভাবে কম ছিল। মোহনবাগান এসে এখানকার খেলার কৌশলের সঙ্গে মানাতে কোনও সমস্যা হয়নি। আমার সতীর্থ ভাগ্য খুব ভাল। কোচও ভাল পেয়েছি। এবার নতুন কোচ লোবেরার পরিকল্পনার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগেনি। লক্ষ্য তো একটাই, ভাল খেলে ম্যাচ জেতা। সেটাই করছি।’‌

গতবার গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন আলাদিন আজারে। এবার তিনি ভারতীয় কোনও দলেই নেই। তবে ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে প্রথম মাচ থেকেই গোল করে নজর কেড়েছেন ইউসেফ এজেজারি। তাঁর সঙ্গে লড়ে গোল্ডেন বুটটা জিতে নিতে পারবেন?‌ ম্যাকলারেন বলেন, ‘‌ এজেজারি ভাল ফুটবলার। তেকাঠি ভালই চেনে। ও নিজের দলের জন্য গোল পেতে চেষ্টা করবে, আমি করব মোহনবাগানের জন্য। দেখা যাক, শেষপর্যন্ত এজেজারি বা অন্য কেউ আমার থেকে বেশি গোল করে কিনা?‌ গোল্ডেন বুট পেলে ভালই লাগবে, তবে একজন ফুটবলারের ওটাই আসল লক্ষ্য হতে পারে না। আমি যেমন শুধু নিজের গোলের কথা ভাবি না, দলের জন্য খেলি। আমি স্বার্থপর নই, আগে লক্ষ্য থাকে দলের সাফল্য, তারপর ব্যক্তিগত লক্ষ্যপূরণ। সেটা বদলাচ্ছে না। চাই এবারও যেন আমরা লিগ শিল্ড জিতি।’‌

দিমিত্রি পেত্রাতোসের সঙ্গে আপনার জুটি বেশ জমেছে?‌ এটা নিয়ে কী বলবেন?‌ ম্যাকলারেন জানালেন, ‘‌ দিমিত্রির সঙ্গে বোঝাপড়া বেশ ভালই জমেছে। ২০১৫ মরশুমে ব্রিসবেন রোয়ার্স এফসিতে দিমিত্রির সঙ্গে খেলেছিলাম সাফল্যের সঙ্গে। সেই দিলগুলোর কথা মনে পড়িয়ে দিচ্ছে। তারপর ১০ বছর কেটে গেছে। কিন্তু মনে হচ্ছে, যেন পুরোন দিলগুলোতে ফিরে গিয়েছি আমরা। নিজেকেও ২০১৫র মতো চনমনে লাগছে। আসলে নিজের খেলা উপভোগ করছি। খেলা ছাড়ার সময় এগিয়ে আসছে। তার আগে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে চাই।’‌

পরিবারের থেকে দূরে থাকাটা কষ্ট দেয় ম্যাকলারেনকে। মিস করেন তাঁদের। কিন্তু দলের স্বার্থে সমর্থকদের কথা ভেবে এই আত্মত্যাগটুকু স্বীকার করে নেন ম্যাকলারেন। ভাল খেলা, গোল করা, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চাপ নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই তাঁর। বরং এটা পারফরমেন্সে উন্নতি ঘটায় বলেই মনে করেন তিনি।

আইএসএল জিতলেও এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোনও ম্যাচ খেলতে পারবেন না এএফসির শাস্তির কবলে পড়ায়। এনিয়ে কি কোনও আক্ষেপ আছে?‌ ম্যাকলারেন মতে, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ব্যাপারটা তাঁদের হাতে আছে। তার জন্য ঝাঁপাবেন। বাকিটা তাঁদের হাতে নেই। ওটা এএফসির ব্যাপার।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *