অলস্পোর্ট ডেস্ক: আইএসএলে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের পালতোলা নৌকা তরতর করে এগোচ্ছে। প্রথম তিন ম্যাচ জিতে রয়েছে ভাল জায়গায়। সেই যাত্রা পথে পালের হাওয়ায় হঠাৎই একটা ধাক্কা লাগল ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের নেওয়া এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্তে। দোলের দিন তাতে কিছুটা হলেও বেরং হল বাগান। সমর্থকদের জন্য মন খারাপ করা খবর। ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটি সুপার জায়ান্ট ক্লাব কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে, আইএসএলে ৬ মার্চ যুবভারতীতে ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে দর্শকশূণ্য মাঠে খেলতে হবে মোহনবাগানকে।
এমনতর অভিনব শাস্তির কারণ কী? ফেডারেশন সূত্রে খবর, গত মরশুমে আইএসএল কাপ ফাইনালের দিন যুবভারতীতে বেঙ্গালুরু এফসির মুখোমুখি হয়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। সেরাতে মোহনবাগান সমর্থকদের ছোড়া বাজিতে বেঙ্গালুরুর বেশ কয়েকজন সমর্থক আহত হন। এব্যাপারে বেঙ্গালুরু কর্তৃপক্ষ ফেডারেশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিল এবং বড়পরম শাস্তির দাবি রেখেছিল। সেসময় ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মোহনবাগানকে শাস্তি দেওয়া। তাতে আর্থিক জরিমানা করা ছাড়া এটা মোহনবাগান টিম ম্যানেজমেন্টকে জানানো হয়েছিল, তাদের এইমুহূর্তে কোনও নির্বাসন বা অন্য কোনও শাস্তি চাপানো হচ্ছে না, তবে আগামী একবছরের মধ্যে তাদের কোনও ম্যাচে এইধরনের দর্শক হামলার ঘটনা ঘটলে, মোহনবাগানের আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি দর্শকশূণ্য মাঠে খেলতে হবে অন্তত এক ম্যাচ। তারপর আবার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে সেই শাস্তি বাড়বে।
সেটাই হল। চলতি মরশুমে আইএসএলের প্রথম ম্যাচে কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে খেলা চলাকালীন মোহনবাগান সমর্থকদের ছোঁড়া বাজি পটকায় আহত হন প্রতিপক্ষের সমর্থকরা। একদল সবুজ মেরুন সমর্থক কেরলের দর্শকদের ওপর চড়াও হন বলেও অভিযোগ। কেরালা ব্লাস্টার্সের পক্ষ থেকে এআইএফএফের কাছে এই মর্মে অভিযোগ জমা পড়ে। তার ভিত্তিতেই ফেডারেশন শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটি চরম শাস্তি দিল মোহনবাগানকে। আর্থিক জরিমানার সঙ্গে ওড়িশার বিরুদ্ধে দর্শকশূণ্য মাঠে খেলার।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ম্যাচটা ফেডারেশনের সূচীতে মোহনবাগানের অ্যাওয়ে ম্যাচ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। পরে ম্যাচটা মোহনবাগানের হোম ম্যাচ করে দেওয়া হয়। বাগান টিম ম্যানেজেমেন্ট জানিয়েছিল, ওড়িশার অনুরোধেই তারা এই ম্যাচ ঘরে আয়োজনের দায়িত্ব নিয়েছে। এতে যুবভারতীর মাঠে টিকিট বিক্রির টাকাটা মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের ঘরে যেত। এখন আম ও ছালা দুটোই গেল মোহনবাগানের। ম্যাচ আয়োজনের পুরো খরচটা বহন তো করতেই হবে, উপরন্তু আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি গেট সেলের এক পয়সাও ঘরে ঢুকবে না। দর্শকশূণ্য মাঠে খেলা মাঠে ঘরের মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধা কিছুটা ক্ষুন্ন তো হবেই।
গোটা ব্যাপারটায় মর্মাহত মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। তারা একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটির এই শাস্তি দানে তারা রীতিমতো হতাশ। এভাবে ৬ মার্চ ওড়িশার বিরুদ্ধে যুবভারতীতে সম্পূর্ণ দর্শকশূণ্য মাঠে খেলার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া খুবই কষ্টের। জরিমানার ব্যাপারটা মানতে পারলেও, দর্শকশূণ্য মাঠে খেলার শাস্তি চাপানোর অর্থ হাজার হাজার আবেগপ্রবণ ও আইন মেনে চলা সমর্থকদের খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত করা। তাই আমরা ফেডারেশনকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আবেদন জানাচ্ছি সেসব সমর্থকদেল কথা মাথায় রেখে। সমর্থকদের নিয়েই ফুটবল। তারা এটুকু আশা করতেই পারেন।
এর আগে আইলিগের ম্যাচে দু’মরশুম আগে নৈহাটির মাঠে মহমেডান সমর্থকদের তান্ডবের কারণে ফেডারেশনের শৃঙ্খরারক্ষাকারী কমিটি রাজস্থান ইউনাইটেড ও নামধারী এফসির বিরুদ্ধে দুটি ম্যাচে মহমেডানকে দর্শকশূণ্য মাঠে খেলার শাস্তি দিয়েছিল।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
