Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ান স্পিন কিংবদন্তি শেন ওয়ার্ন কেবল হাতে বল নিয়ে জাদুকরই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব—যিনি জানতেন কখন এবং কীভাবে সঠিক বাজি ধরতে হয়। ২০০৮ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) উদ্বোধনী আসরে যখন তিনি রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক হন, তখন তিনি নাকি তাঁর চুক্তিতে এমন একটি শর্ত যুক্ত করেছিলেন, যা প্রায় দুই দশক পর তাঁর পরিবারের জন্য বিশাল এক আর্থিক পুরস্কার নিয়ে আসতে চলেছে। সেই শর্তটি কার্যকর হয় তখন, যখন রাজস্থান রয়্যালসকে কাল সোমানির নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে ১.৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (যা প্রায় ১৫,২৯০ কোটি ভারতীয় টাকার সমান) বিশাল অঙ্কের বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

২০০৮ মরসুমের আগে যখন রয়্যালস ওয়ার্নের সঙ্গে চুক্তি করে, তখন তাঁকে কেবল অধিনায়কের ভূমিকাই দেওয়া হয়নি, বরং ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্রিকেট-সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণও তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই চুক্তির অংশ হিসেবে, এই প্রয়াত অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তিকে দলের হয়ে খেলা প্রতিটি বছরের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানার ০.৭৫ শতাংশ অংশীদারিত্ব প্রদান করা হয়েছিল।

“আমার চুক্তির একটি অংশ ছিল… তারা আমাকে অধিনায়ক ও কোচ হতে বলেছিল এবং একটি ক্রিকেট দলকে ঠিক যেভাবে আমি চাই, সেভাবেই পরিচালনা করার স্বাধীনতা দিয়েছিল… আমিই ছিলাম সবকিছুর একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু বা ‘ওয়ান-স্টপ শপ’,” ‘দ্য হেরাল্ড সান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়ার্ন এমনটাই জানিয়েছিলেন।

ওয়ার্ন এই ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে টানা চার মরসুম খেলেছিলেন এবং ২০০৮ সালের উদ্বোধনী মরসুমেই দলকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন তিনি। এর ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানায় তাঁর মোট অংশীদারিত্ব বেড়ে ৩ শতাংশে গিয়ে দাঁড়ায়। যেহেতু দলটি এখন ১.৬৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছে, তাই এই লেনদেনে ওয়ার্নের মালিকানা-অংশের আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে বিশাল অঙ্কের—৪৫০ থেকে ৪৬০ কোটি ভারতীয় টাকা।

২০২৬ সালের আইপিএল আসর শেষ হওয়ার পর তাঁর পরিবার এই মালিকানা-অংশ বিক্রি করে নগদ অর্থ গ্রহণ করার অধিকারী হবে; অবশ্য এই লেনদেনটি কার্যকর হওয়ার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (বিসিসিআই) অনুমোদন থাকা আবশ্যক।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে মনোজ বাদলের নেতৃত্বাধীন ‘ইমার্জিং মিডিয়া’ নামক প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কিনেছিল।

দুঃখজনক হলেও সত্যি, এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি স্বচক্ষে দেখার জন্য ওয়ার্ন আজ আর আমাদের মাঝে নেই; ২০২২ সালে তিনি প্রয়াত হন। তবুও তাঁর সেই দূরদৃষ্টির সুবাদেই, ১৮ বছর আগে স্বাক্ষরিত সেই চুক্তি থেকে তাঁর পরিবার এখন বিপুলভাবে উপকৃত হতে চলেছে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *