ছবি— এএফসি
অলস্পোর্ট ডেস্ক: সোমবার ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড জানিয়েছেন, বলিভিয়ার বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্লে-অফ ম্যাচের প্রস্তুতির সময় তিনি তাঁর দলকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের খবরাখবর থেকে আড়াল করে রাখার চেষ্টা করছেন। আর্নল্ডের দলের যে খেলোয়াড়রা ইরাকে থাকেন, তাদের এই অঞ্চলের সংঘাতের ছায়াতেই অনুশীলন ও যাতায়াত করতে হয়েছে; জর্ডন হয়ে স্থলপথে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর এক যাত্রার পর তারা অবশেষে মেক্সিকোতে পৌঁছেছেন। তবে আর্নল্ড দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, প্রস্তুতির এই সংকটময় পরিস্থিতি যেন তাঁর দলের মনোযোগে ব্যাঘাত না ঘটায়—কারণ তারা ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের পর এই প্রথমবার ইরাকের হয়ে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্যে লড়ছেন।
সোমবার মন্টেরিতে সাংবাদিকদের আর্নল্ড বলেন, ‘‘৪ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করাটা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। আমার কাজের একটি বড় অংশই খেলোয়াড়দের মানসিক দিকটির ওপর আলোকপাত করে সাজানো হয়েছে।”
৬২ বছর বয়সী এই অস্ট্রেলীয় কোচ আরও যোগ করেন, ‘‘খেলোয়াড়দের উচিত পুরো দেশের পরিস্থিতি নিয়ে না ভেবে বরং নিজেদের ওপরই মনোযোগ নিবদ্ধ করা—কেবল নিজেদের পরিবার-পরিজন এবং ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধুর কথা ভাবা; অন্যথায়, চাপের বোঝাটা তাদের কাছে অসহনীয় হয়ে উঠবে।’’
মঙ্গলবার আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ম্যাচের জন্য ইরাকের প্রস্তুতি গত এক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এক পক্ষে এবং ইরানের অন্য পক্ষে অবস্থান নিয়ে চলা এই সংঘাতের তীব্র প্রভাব পুরো অঞ্চলজুড়েই ছড়িয়ে পড়েছে। ইরাক দলের অধিকাংশ সদস্যই বাগদাদ থেকে তিন দিনের এক দীর্ঘ যাত্রা শেষে মাত্র ১০ দিন আগে মেক্সিকোতে এসে পৌঁছেছেন; তাদের সেই যাত্রার সূচনা হয়েছিল স্থলপথে জর্ডন অতিক্রম করার মধ্যে দিয়ে।
এএফপি-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইরাকে অন্তত ১০১ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আর্নল্ড স্বীকার করে বলেন, ‘‘গত মাসটি আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল।’’ উল্লেখ্য, তিনি শুরুতেই মঙ্গলবার নির্ধারিত এই প্লে-অফ ম্যাচটি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘‘আমি আপাতত (মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে) কোনও কথা বলতে চাই না। আমি আমার খেলোয়াড়দের এই বিষয়গুলো থেকে আড়াল করে রাখার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।’’
‘‘মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে অত্যন্ত গুরুতর সব ঘটনা ঘটছে; খেলোয়াড়রা যদি সেগুলোর ওপর অতিরিক্ত মনোযোগ দেয় বা সেগুলোর কথা নিয়ে খুব বেশি ভাবে, তবে তা তাদের মানসিক স্থিরতা নষ্ট করে দেবে। তারা খুব ভালো করেই জানে যে দেশের জন্য তাদের কী করণীয়। গত ২০টি দিন তাদের জন্য খুবই কঠিন ছিল, তবে এখন তারা বেশ স্বস্তিতে ও নির্ভার অবস্থায় রয়েছে।’’
আর্নল্ড বিশ্বাস করেন যে, বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করাটা ‘‘একটি দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং সেই দেশ সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি—উভয়ই বদলে দিতে পারে।’’
তিনি বলেন, ‘‘ইরাকে ফুটবল নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরণের প্রবল উন্মাদনা বা আবেশ কাজ করে, এটিই আমাদের জাতীয় খেলা। এই খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করাটা সম্মানের। এই সপ্তাহে আমি তাদের কাছে একজন পিতৃসম অভিভাবক হয়ে ওঠার চেষ্টা করেছি, কারণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আমি এর আগে এমন পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি,” তিনি যোগ করেন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
