ছবি বিসিসিআই এক্স থেকে
অলস্পোর্ট ডেস্ক: শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটে, যখন ভারতের বৈভব সূর্যবংশী লঙ্কান খেলোয়াড়দের সঙ্গে মৌখিক বিতর্ক থেকে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন। ভারত ‘এ’ এবং শ্রীলঙ্কা ‘এ’-র মধ্যে এই ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ; শেষ পর্যন্ত ‘সুপার ওভার’-এর লড়াইয়ে আয়োজক দল জয়লাভ করে। তবে সুপার ওভারের পর, শ্রীলঙ্কার এক খেলোয়াড় ১৫ বছর বয়সী সূর্যবংশীকে—যিনি স্বাভাবিকভাবেই এই ম্যাচে সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন—কিছু আপত্তিকর কথা বলেন বলে জানা গিয়েছে। কারণ একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে দুই ভারতীয় প্লেয়ার জয়োল্লাসরত শ্রীলঙ্কা দলের পাস কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং তার পরই তারা ঘুরে আসেন এবং সেই জয়োল্লাসের মধ্যে থেকেই শ্রীলঙ্কার এক প্লেয়ার তাদের দিকে তাকিয়ে কিছু মন্তব্য করছে, এমনটাও দেখা গিয়েছে।
‘ক্রিকবাজ’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কা ‘এ’-র খেলোয়াড় বিশেন হালাম্বাগে সূর্যবংশীকে বলেন, ‘‘ম্যাচ শেষ… এবার বাড়ি যাও…’’—যা শুনে ভারতীয় ব্যাটার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ সময় সামান্য শারীরিক ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে, যার ফলে ম্যাচ অফিসিয়াল ও অন্যান্য খেলোয়াড়দের হস্তক্ষেপ করতে হয়। যদিও ‘এ’ দলের মধ্যে ম্যাচে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) হস্তক্ষেপ সচরাচর দেখা যায় না, তবুও এক্ষেত্রে তাদের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে, ম্যাচের পর শ্রীলঙ্কা ‘এ’-র ড্রেসিংরুমে মাঠের ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা হয়। ড্রেসিংরুমের কেউ কেউ পরামর্শ দেন যে দলের উচিত ভারতের কাছে ক্ষমা চাওয়া; বিশেষ করে যেহেতু স্টেডিয়ামে পর্যাপ্ত আলো না থাকা সত্ত্বেও সুপার ওভার খেলা হয়েছিল। সবকিছুতেই আইপিএল-এর প্রসঙ্গ টেনে আনা ঠিক নয়—প্রতিপক্ষ দলের এটা দ্রুত বোঝা উচিত। গতকাল শ্রীলঙ্কান দল অনেকটা পাকিস্তানের মতো আচরণ করেছে।
সুপার ওভার শুরুর ঠিক আগে ভারত ‘এ’-র অধিনায়ক তিলক ভার্মা ম্যাচ অফিসিয়ালদের সঙ্গে উত্তপ্ত আলোচনায় লিপ্ত হন; প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, শ্রীলঙ্কা ভারতের সমান রান (২৬৫) তুলে ম্যাচটি টাই করার পর তিলকই সুপার ওভার খেলার জন্য জোর দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কান পক্ষ সম্ভবত ‘ওয়ান-ওভার এলিমিনেটর’ বা সুপার ওভারের মাধ্যমে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করতে চায়নি।
এও জানা গিয়েছে যে, আম্পায়াররা এই শর্তে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, সুপার ওভারে ভারতের ব্যাটিংয়ের সময় আলোর অবস্থা আরও খারাপ হলে খেলা থামিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু আলোর অবস্থা খারাপ হওয়া সত্ত্বেও আম্পায়াররা খেলা বন্ধ করেননি।
ম্যাচ শেষে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের (এসএলসি) এক কর্মকর্তা বলেন, ‘‘আসলে সুপার ওভার হওয়াটাই উচিত ছিল না।’’ প্রাণপণ চেষ্টা সত্ত্বেও ম্যাচটিতে ভারতের পক্ষে খুব একটা কিছু ঘটেনি। এর আগে মাঠের আম্পায়ার প্রগীত রামবুকওয়েলা ও শান্ত ফনসেকা সফরকারী দলকে ১০ পেনাল্টি রান দেওয়ার মাধ্যমে শাস্তি দিয়েছিলেন; তাঁদের মতে, অলরাউন্ডার বিপরাজ নিগম সতর্কবার্তা পাওয়া সত্ত্বেও দু’বার পিচের সংরক্ষিত এলাকায় দৌড়েছিলেন।
ম্যাচটি যখন শুরু হয়, শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের স্কোরবোর্ডে তখন থেকেই ১০ রান জমা ছিল। ফলে, ত্রিদেশীয় সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডে ম্যাচে ভারত ‘এ’ দলের পরাজয়ের ক্ষেত্রে এই পেনাল্টিই নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
