ললিত মোদীর ছবি সংগৃহিত
অলস্পোর্ট ডেস্ক: আইপিএল-এর প্রাক্তন কমিশনার ললিত মোদী একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, লিগটি তার মূল ফর্ম্যাট মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে অতিরিক্ত ২,৪০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। দু’টি ফ্র্যাঞ্চাইজি—রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) এবং রাজস্থান রয়্যালস (আরআর)—মোট প্রায় ৩১,০০০ কোটি টাকায় বিক্রি হওয়ার পর লিগের বাজারমূল্য যে আকাশচুম্বী হয়েছে, তাতে মোদী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি চান, এই অনুভূত ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বোর্ড যেন পুনরায় পূর্ণাঙ্গ ‘হোম-অ্যান্ড-অ্যাওয়ে’ ফর্ম্যাটে ফিরে যায়। মোদীর মতে, মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি দলেরই একে অপরের বিপক্ষে দু’বার করে খেলার কথা ছিল। ২০২২ সালে লিগের কলেবর বেড়ে ১০টি দল হওয়ার পর, এমন কাঠামো অনুসরণ করলে লিগ পর্বে ৯০টি ম্যাচ এবং এরপর চারটি নক-আউট ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। অথচ, ‘হোম-অ্যান্ড-অ্যাওয়ে’ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে আইপিএল বর্তমানে মাত্র ৭৪টি ম্যাচ নিয়েই পরিচালিত হচ্ছে।
‘স্পোর্টস্টার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘প্রতিটি ম্যাচের আয়ের ৫০ শতাংশ পায় বিসিসিআই, এবং বাকি ৫০ শতাংশ দলগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। ফলে, দলগুলো এখন ২০টি ম্যাচের আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দলগুলো যে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রদান করছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ‘হোম-অ্যান্ড-অ্যাওয়ে’ ভিত্তিতে খেলার সুযোগ করে দেওয়াটা একটি চুক্তিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা।’’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘লিগের আসল মূল্য বা গুরুত্ব নিহিত রয়েছে এই ‘হোম-অ্যান্ড-অ্যাওয়ে’ বিন্যাসের মধ্যেই। যদি ক্যালেন্ডারে বা সময়সূচিতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকে, তবে দলের সংখ্যা বাড়ানো উচিত নয়। বিষয়টি এতটাই সহজ-সরল। আমরা তো এই পরিবর্তিত বিন্যাসটি বিক্রি করিনি। সবাই কি এই পরিবর্তনের বিষয়ে সম্মতি স্বাক্ষর করেছে? আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, তারা তা করেনি।’’
‘‘তারা কেন ‘হোম-অ্যান্ড-অ্যাওয়ে’ ভিত্তিতে খেলছে না? এ নিয়ে নানা অজুহাত থাকতে পারে, কিন্তু দলগুলোর দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি চুক্তিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা এবং একটি বাণিজ্যিক লেনদেনের বিষয়,’’ বলেন তিনি।
মোদী মনে করেন, ম্যাচের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি সরাসরি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর এবং খোদ লিগটির বাজারমূল্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘যদি আজ ‘হোম-অ্যান্ড-অ্যাওয়ে’ ভিত্তিতে মোট ৯৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতো—যেখানে প্রতি ম্যাচের মূল্য ১১৮ কোটি টাকা—তবে শুধুমাত্র মিডিয়া স্বত্ব থেকেই অতিরিক্ত ২,৪০০ কোটি টাকা আয় হতো। অর্থাৎ, বিসিসিআই-এর কোষাগারে অতিরিক্ত ২,৪০০ কোটি টাকার রাজস্ব জমা হতো।’’ এর মধ্যে ১,২০০ কোটি টাকা ১০টি দলের কাছে যেত—প্রতিটি দলের ভাগে পড়ত ১২০ কোটি টাকা—এবং এর ফলে দলগুলোর মূল্য স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বৃদ্ধি পেত।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
