Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

‌মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে ম্যাচ শুরুর আগে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা দর্শক গ্যালারিতে দুর্ঘটনায় প্রযান তাঁদের প্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুনোদয় ব্যানার্জির স্মরণে এক বিরাট ব্যানার ঝুলিয়েছিলেন। তাতে লাল হলুদের একান্ত ভক্ত রাহুলের প্রতি আবেগপূর্ণ ভাষায় লেখা ছিল, ‘‌ গ্যালারির আকাশে এক বিষন্ন সূর্যোদয়, লাল-‌হলুদ হৃদয়ে অমর ‘‌ অরুণোদয়’‌। রাহুল সশরীরে গ্যালারিতে না থাকলেও, তাঁর আশীর্বাদ যে তাঁর প্রিয় দলের জন্য ছিল, সেটা ফুটবলারদের শেষপর্যন্ত লড়াইয়ে ধরা পড়েছে। ১০ জনে মিলে ৩-‌৩ ড্র করে ১ পয়েন্ট নিয়ে মাথা উঁচু করে মাঠ ছেড়েছেন লাল হুলদ ফুটবলররা। রাহুলের আত্মা যেখানেই থাকুন, তিনি নিশ্চয়ই খুশি হয়েছেন দলের এই পারফরমেন্সে।

ফুটবলারদের লড়াই, সমর্থকদের গোটা ম্যাচে পাশে থাকার কথা ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁর কথাতেই উঠে এসেছে। কিন্তু মিগুয়েলকে লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল না কিনা, এই প্রশ্নে অস্কার মেজাজ হারিয়ে বিষ্ফোরক মন্তব্য করলেন, যা তাঁর বিরুদ্ধে যেতে পারে। ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটি কড়া ব্যবস্থা নিলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

অস্কারের প্রতিক্রিয়া, ‘‌ এসব নিয়ে মন্তব্য করলে আমার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হতেই পারে। আমি গতকালই বলেছিলাম, এমন সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা ফুটবলের পরিপন্থী। আমাদের ম্যাচের আগে বেঙ্গালুরু এফসির স্যাঞ্চেজের নির্বাসেনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। আর এদিন মিগুয়েলের সঙ্গে যেটা ঘটেছে, সেটা খুব খারাপ। বেঙ্গালুরুর কোচিং স্টাফ মিগুয়েলকে পর্তুগীজ ভাষায় ‘‌ভিদাও’‌ বলে কটূ্ক্তি করেন, যার অর্থ সমকামী। এতে মেজাজ হারায় মিগুয়েল। প্রত্যাঘাত করে এইধরনের প্রোভোকেশনে পড়ে। আমার দাবি, স্যাঞ্চেজের সাসপেনশনের মতো মিগুয়েলের লাল কার্ডের শাস্তি প্রত্যাহার করা হোক। সেটা যদি না করায় হয়, তাহলে বুঝতে হবে, এর পিছনে অন্য খেলা চলছে। আর এই কথা বলার জন্য যদি আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে, বুঝতে হবে, আমি যেটা বলছি সেটাই ঠিক। রেফারিংয়ের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় আরও বাড়বে।’‌

লাল কার্ড দেখে বেরিয়ে যাওয়ার মুখে মিগুয়েল বল দিয়ে বেঙ্গালুরু রিজার্ভ বেঞ্চ লক্ষ্য করে শট নিলে, তা প্রতিপক্ষ দলের সহকারী কোচের গায়ে লাগে। এতে আরও একবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল দু’‌দলের মধ্যে। মিগুয়েলের এই আচরণ কি সমর্থনযোগ্য, এই প্রশ্নের কোনও উত্তর দেননি কোচ অস্কার। বরং শুধু বলেন, এরপর যা যা ঘটেছে, তা মিগুয়েলের প্রতি অণ্যায় সিদ্ধান্তের জের। ইস্টবেঙ্গলের তরফে গোটা ঘটনার উল্লেখ করে একটি প্রতিবাদপত্র ফেডারেশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে অস্কার যাই বলুন, ইস্টবেঙ্গল যে প্রতিবাদপত্রই জমা দিক না কেন, মিগুয়েলের আচরণের প্রতিটি বিষয় রেফারির রিপোর্টে উল্লেখ থাকছে, এবং তা ম্যাচ কমিশনারের মাধ্যমে ফেডারেশনের শৃঙ্খলারাক্ষাকারী কমিটির কাছে জমা পড়ছে। তার জন্য শুধু এক বা দু’‌ম্যাচ নয়, আরও বেশি ম্যাচের নির্বাসনের খাঁড়া নেমে আসতে পারে মিগুয়েলের ওপর। শুধু তাই নয়, ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পর সাংবাদিক সম্মেলন কক্ষে দাঁড়িয়ে থেকে কোচ অস্কারের মন্তব্য শোনার জন্য ইস্টবেঙ্গলের সহকারী কোচ আদ্রিয়ানের শাস্তি প্রাপ্তির সম্ভাবনা থাকছে লিগের নিয়মে।

দশজন হয়ে গিয়েও দুরন্ত লড়াই করে ম্যাচে ফিরে ড্র করেছে ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচে ফেরার মন্ত্রটা কী ছিল ফুটবলারদের জন্য?‌ অস্কার জানালেন, ‘‌ ফুটবলারদের বলেছিলাম হাল না ছাড়তে। বিরতিতে বলি, সমর্থকরা তোমাদের ওপর অনেক প্রত্যাশা রাখে। ওরা তোমাদের প্রেরণা জুগিয়ে চলেছে সারাক্ষণ চিৎকার করে। ওদের সঙ্গে নিজেদের কানেক্ট করো। সেরা দাও শেষপর্যন্ত। ফুটবলাররা সেটাই করেছে। ১০ জনে খেলে ড্র করাটা নিঃসন্দেহে কৃতিত্বের। কিন্তু ১ পয়েন্টে খুশি নই। কারণ এটা জেতা ম্যাচ ছিল। মিগুয়েলকে লাল কার্ড দেখিয়ে অণ্যায়ভাবে বের করে না দিলে, ৩ পয়েন্ট পাওয়া নিশ্চিত ছিল। তবে ১ পয়েন্ট পেয়ে লিগ টেবিলের ৩ নম্বরে থেকে লড়াইয়ে থাকলাম।’‌

চোট পেয়ে মাঠ ছেড়ছিলেন আনোয়ার আলি। কোচ অস্কার জানান, চোট গুরুতর নয়। পেশি শক্ত হয়ে গিয়েছিল। তাই তাঁকে মাঠে রাখার ঝুঁকি নেননি পরবর্তী ম্যাচগুলোর কথা ভেবে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *