মুনাল চট্টোপাধ্যায়: ঘরের মাঠে টানা ৪ ম্যাচ জয়ের পর বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচে খেলতে গিয়ে পয়েন্ট খুইয়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট গোলশূণ্য ড্র করে। পরের ম্যাচ হারে যুবভারতীতে মুম্বই সিটির কাছে। চলতি মরশুমে আইএসএলে দ্বিতীয় অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে গিয়েও জামশেদপুরের মাঠে শেষ মুহূর্তের গোলে ১-১ ড্র করে জেতা ম্যাচ হাতছাড়া করেছিল সবুজ মেরুন। ৩ ম্যাচ পর জয়ে ফেরে মোহনবাগান ঘরের মাঠে পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে লড়ে ৩-২ গোলে জিতে। তাতে বাগান শিবিরে আত্মবিশ্বাস ফিরেছে বলাই বাহুল্য। রবিবার তারা মরশুমে তৃতীয়বার অ্যাওয়ে ম্যাচে মুখোমুখি হবে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের গুয়াহাটির ম্যাচে। এখন দেখার আগের ২টি অ্যাওয়ে ম্যাচ না জেতার জুজু কাটিয়ে নর্থ ইস্টের বিরুদ্ধে পুরো ৩ পয়েন্ট নিয়ে মোহনবাগান এসজি ঘরে ফিরতে পারে কিনা? সবচেয়ে বড় কথা, ৮ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে বাগান ব্রিগেড রয়েছে লিগ টেবিলের ২ নম্বরে, মুম্বই সিটির ঠিক ১ পয়েনট পিছনে থেকে। মোহনবাগানের হেড স্যার সের্জিও লোবেরার এখন মূল লক্ষ্য, নর্থইস্ট ইউনাইটডকে হারিয়ে এক নম্বরে ওঠার লড়াইটা জারি রাখা।
প্রতিপক্ষ নর্থইস্ট ইউনাইটেড ডুরান্ড কাপ জিতলেও আইএসএলে এবারেই ছন্দে নেই। ৮ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে তারা লিগ টেবিলের ১০ নম্বরে। তাদের গোলমেশিন আলাদিন আজারে চলে যেতেই ছন্দপতন ঘটে। এখনও পর্যন্ত কোচ বেনালি তাঁর দলকে চেনা ছন্দে ফেরাতে পারেননি। তাও নর্থইস্টকে হাল্কাভাবে নিয়ে ডুবতে নারাজ মোহনবাগানের চিফ কোচ লোবেরা। খেতাবের দৌড়ে থাকতে নর্থইস্ট ম্যাচ জয় পাওয়া জরুরি। এটা কতটা চাপের? লোবেরার সাফ কথা,‘ ম্যাচ জেতার লক্ষ্যটা চাপের নয়, মোটিভেশন। নিজেদের মাঠে নর্থইস্ট সবসময় কঠিন প্রতিপক্ষ। ওদের কিছু হারানোর নেই। আমাদের আছে। অ্যাওয়ে ম্যাচে এখনও জয় আসেনি। ফুটবলাররা সেটা জানে। আর সেটা মাথায় রেখে ৩ পয়েন্টের জন্য খেলবে।’
পাঞ্জাব ম্যাচের মতো নর্থইস্ট ম্যাচেও নেই আপুইয়া। লোবেরা বলেই দিলেন, আপুইয়া চোটমুক্ত হলেও, পুরো ফিট হওয়ার জন্য তাঁকে বাড়তি সময় দিতে চান। সামনে একটা লম্বা ব্রেক আছে। তাতে আপুইয়া পরের ম্যাচগুলোর আগে পুরোপুরি খেলার জায়গায় চলে আসবে। সাংবাদিক সম্মেলনে লোবেরা যদিও বলেন, দলে আর কোনও চোট নেই। আলবার্তো রডড্রিগেজ খেলার জায়গাতেই আছে। কিন্তু যুবভারতীর ট্রেণিং গ্রাউন্ডের অনুশীলনে দেখা যায়, শুরুতে মাঠে নেমে দলের ফিজিওর সঙ্গে আলবার্তোকে মেডিকেল রুমে যেতে। কিছুক্ষণ পরে মাঠে ফিরলেও, তাঁকে দেখা যায় আপুইয়ার সঙ্গে মাঠের ধারে আলাদাভাবে রিহ্যাব সারতে। তাই আলবার্তোর নর্থইস্ট ম্যাচে দলের সঙ্গে যাওয়া ও খেলা নিয়ে একটা ধোঁয়াশা থাকছে।
পাঞ্জাব ম্যাচ ৩-২ গোলে জিতলেও লোবেরা জানিয়েছিলেন, তিনি দলের খেলায় খুশি নন। সি কথার রেশ ধরে বলেন, ‘ আমি শুরু থেকে বলে আসছি, খেলায় আরও উন্নতি করতে হবে। এমনকি ৫-১ গোলে ম্যাচ জেতার পরও সেটা বলেছিলাম। প্রথম ৪ ম্যাচে প্রচুর গোলের সুযোগ তৈরি করে গোলও পেয়েছিল ফুটবলাররা। পরের ম্যাচগুলোর মধ্যে মুম্বই ম্যাচ ছাড়া বাকি সব ম্যাচেই জেতার মতো যথেষ্ট পরিমান গোলের সুযোগ পেয়েছিল দল। সেগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট এখন আরও ভাল জায়গায় থাকত। পাঞ্জাব ম্যাচে আবার দল ভাল খেলেনি, কিন্তু গোলগুলো পেয়ে যাওয়ায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ৩ পয়েন্ট এসেছে। তবে এটা মনে রাখতে হবে, ফুটবল এমন একটা যেখানে আক্রমণ ও রক্ষণে সমান ভারসাম্য রাখা জরুরি। জয়ের জন্য গোল পাওয়া জরুরি, অনেকক্ষেত্রে একটা গোলই যথেষ্ট। তার মানে এই নয় যে আমি রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলার কথা বলছি। আমার দর্শন হল, রক্ষণ জমাট রেখে আক্রমণে ঝাঁজ বজায় রাখার মাধ্যমে ম্যাচ জেতা। কোচ হিসেবে এটা আমার কাজ দলকে সঠিকভাবে পরিচালনা করে। হাতে একঝাঁক ফুটবলার নিয়ে সেটা না করতে পারলে, আমার ব্যর্থতা।’
লোবেরা বলেন, অনেকেই বারবার মুম্বই বা ওড়িশায় তাঁর কোচিং করার সময়ের সঙ্গে বর্তমানে মোহনবাগানের তুলনা টানেন। তাঁদের বলতে চাই, কোচিংয়ে কোনও একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্ন থাকে না। আমার শহর সেগোভিয়ার সঙ্গে যেমন ভারত বা অন্যান্য দেশের ফুটবলের একটা পার্থক্য আছে, তেমন মুম্বই, ওড়িশা বা মোহনবাগানেরও ক্ষেত্রেও সেটা খাটে। তার পিছনে অনেকরকম কারণ আছে। কিন্তু একটা বিষয়ে মিল সর্বত্র এক। সেটা হল ম্যাচ জিতে সর্বোচ্চ সাফল্য পাওয়া। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছেন তিনি সবুজ মেরুনে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
