অলস্পোর্ট ডেস্ক: ২৪৩ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে, মঙ্গলবার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ২০২৬-এর ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ব্যাট হাতে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয় দিল্লি ক্যাপিটালস। ইনিংসের সূচনা করতে নেমে কেএল রাহুল এবং পাথুম নিশাঙ্কা জুটির জন্য একটি বিস্ফোরক শুরুর প্রয়োজন ছিল; কিন্তু নিশাঙ্কা মাত্র ৬ বলে ৮ রান করেই ফেরেন। এই মরসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রাহুলের কাছে প্রত্যাশা ছিল যে, তিনি সানরাইজার্সের অভিষেক শর্মার পারফরম্যান্সের সমকক্ষ হবেন এবং দিল্লি ক্যাপিটালসকে ম্যাচ জেতাতে হলে সেঞ্চুরির লক্ষ্যে এগিয়ে যাবেন। কিন্তু বাস্তবে, তিনি ২৩ বলে মাত্র ৩৭ রান করতে সক্ষম হন। ম্যাচ-পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে দিল্লি ক্যাপিটালসের ক্রিকেট পরিচালক ভেনুগোপাল রাও কোনও রাখঢাক না করেই স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, রাহুল এবং দলের অন্যান্য শীর্ষ-সারির ব্যাটারদের ব্যর্থতাই তাদের ম্যাচটি হারের পিছনে দায়ী।
৩ নম্বর পজিশনে দলে প্রত্যাবর্তন করা নীতীশ রানাও প্রথম বল থেকেই নিজের টাইমিং খুঁজে পেতে হিমশিম খান। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি ৩০ বলে ৫৭ রান করেন, তবুও দলটি প্রথম ছয় ওভারে (পাওয়ারপ্লে) মাত্র ৫৯ রানই তুলতে পারে। দিল্লি ক্যাপিটালসের ক্রিকেট পরিচালক ভেনুগোপাল রাও স্বীকার করে নেন যে, পাওয়ারপ্লে-তে প্রত্যাশামাফিক শুরু করতে না পারাই দলের ম্যাচ হারার কারণ। রাও বলেন, প্রথম ছয় ওভারে টপ অর্ডার ব্যাটারদের অন্তত ৮০ থেকে ৯০ রান তোলার লক্ষ্য রাখা উচিত ছিল এবং তা করতে ব্যর্থ হওয়াটা দলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাচ-পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘২৪০-এর বেশি রানের লক্ষ্য তাড়া করার সময়, প্রথম ছয় ওভারে একটি শক্তিশালী শুরু করা অপরিহার্য। আমার মনে হয়, ওই সময়ের মধ্যে আমরা লক্ষ্য থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ রান পিছিয়ে পড়েছিলাম। এমন বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে হলে, আদর্শগতভাবে পাওয়ারপ্লে শেষে আপনার স্কোর ৮০ বা ৯০ রানের কাছাকাছি থাকা প্রয়োজন; আমাদের ব্যাটিং গভীরতা যেমন, সেখান থেকে আমরা সহজেই লক্ষ্যটি অর্জন করতে পারতাম। কিন্তু পাওয়ারপ্লে শেষে ৫৯ রানে থাকাটা যথেষ্ট ছিল না; আমরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেছি।’’
নিশাঙ্কার আউটের পর রাহুলকে স্ট্রাইক পেতে বেশ লড়াই করতে হয়, যার ফলে পাওয়ারপ্লে-র অধিকাংশ বলই খেলতে হয় নীতীশকে। বস্তুত, নিশাঙ্কা আউট হওয়ার পর প্রথম ছয় ওভারে রাহুল মাত্র ছ’টি বল খেলার সুযোগ পান, যেখানে নীতীশ খেলেন ১৭টি বল।
‘‘বিষয়টি আরও কঠিন হয়ে পড়েছিল কারণ পাথুম নিশাঙ্কা আউট হওয়ার পর কেএল রাহুল স্ট্রাইক বা বল খেলার পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছিলেন না। আপনি যদি প্রথম কয়েকটি ওভারের দিকে তাকান, তবে দেখবেন তিনি হাতেগোনা কয়েকটি বলের বেশি খেলার সুযোগ পাননি। একজন ব্যাটার হিসেবে, পাওয়ারপ্লে-তে সত্যিকারের প্রভাব ফেলতে হলে আপনাকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বল খেলতে হয়। তিনি একটি ছক্কা ও একটি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু যেহেতু নীতীশ রানাই অধিকাংশ বল খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন, তাই রাহুল নিজের ছন্দে ফিরতে পারেননি। আমার মনে হয়, ঠিক ওই মুহূর্তেই ম্যাচের মোমেন্টাম বা গতিপথ সানরাইজার্স হায়দরাবাদের দিকে ঘুরে গিয়েছিল,’’ মন্তব্য করেন ভারতের সাবেক এই ব্যাটার।
রাও-কে আরও প্রশ্ন করা হয়েছিল সেই সিদ্ধান্তটি সম্পর্কে, যেখানে দলের বিশেষজ্ঞ স্পিনার কুলদীপ যাদব মাত্র দু’টি ওভার বল করলেও, পার্ট-টাইম স্পিনার নীতীশ রানাকে দিয়ে পুরো চারটি ওভার বল করানো হয়েছিল।
‘‘দিনশেষে, মাঠে দাঁড়িয়ে অধিনায়কের কী মনে হচ্ছে—সবকিছু নির্ভর করে তার ওপরই। এখন বসে আঙুল তোলা এবং প্রশ্ন করা খুব সহজ যে নীতীশ কেন চারটি ওভার বল করল; কিন্তু মনে রাখতে হবে, এগুলি সবই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত। এই ফর্ম্যাটে, যদি কোনও ঝুঁকি বা ‘গ্যাম্বল’ কাজে লেগে যায়, তবে তাকে এক অসাধারণ চাল হিসেবেই গণ্য করা হয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এমন ঘটনা ঘটেই থাকে,’’ বিষয়টি স্পষ্ট করে দেন রাও।
অভিষেক শর্মাকে আউট করার যে সুযোগগুলো দল হাতছাড়া করেছিল, তা নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন রাও। বাঁ-হাতি ওপেনার অভিষেক ৬৮ বলে ১৩৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটি খেলার পথে দু’বার আউট হতে হতে বেঁচে যান। রান-আউটের সুযোগটি হাতছাড়া করেছিলেন রাহুল, আর নিশাঙ্কা ফেলে দিয়েছিলেন একটি অত্যন্ত সহজ ক্যাচ—যার ফলে অভিষেক একাধিকবার নিশ্চিত আউট হওয়া থেকে বেঁচে যান।
‘‘অভিষেকের মতো একজন খেলোয়াড় যখন আপনাকে তাকে আউট করার সুযোগ করে দেয়, তখন সেই সুযোগটি লুফে নিতেই হয়। সে আমাদের সুযোগ দিয়েছিল, কিন্তু আমরা তা কাজে লাগাতে পারিনি। ৫০ রানের গণ্ডি পেরোনোর পর সে একবার রান-আউটের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিল; এরপর যখন সে ৮৪ বা ৮৬ রানে ব্যাট করছিল, তখন আমরা আবারও তার ক্যাচ ফেলে দিই। সেইসব ভুলের খেসারত বা মাশুলই শেষমেশ আমাদের দিতে হল,’’ জোর দিয়ে বলেন তিনি।
এই পরাজয়ের পর, পয়েন্ট তালিকায় দিল্লি ক্যাপিটালস এখন পঞ্চম স্থানে রয়েছে; ছয়টি ম্যাচ খেলে তাদের জয়ের সংখ্যা তিনটি।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
