Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক: বিশ্বের এক নম্বর তারকা জানিক সিনার এবং আরিনা সাবালেঙ্কাসহ শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়রা গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টগুলোর ওপর চাপ অব্যহত রেখেছেন। সোমবার রোলাঁ গারোজের (ফ্রেঞ্চ ওপেন) উদ্দেশ্যে লেখা একটি চিঠিতে তারা ২০২৬ সালের ফ্রেঞ্চ ওপেনের প্রাইজ মানি বা পুরস্কারের অর্থ নিয়ে “গভীর হতাশা” প্রকাশ করেছেন। গত বছর প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড় চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টের প্রধানদের কাছে দু’টি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। সেই চিঠিগুলোতে তারা পুরস্কারের অর্থ বৃদ্ধি, অবসর ও মাতৃত্বকালীন সুবিধা উন্নত করার লক্ষ্যে খেলোয়াড় কল্যাণ তহবিলে অর্থ প্রদান এবং তাদের প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নিজেদের সম্পৃক্ত করার দাবি জানিয়েছিলেন।

চিঠিগুলোতে টুর্নামেন্টের মোট আয়ের ২২ শতাংশ অংশীদারিত্বের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এই লক্ষ্য অর্জিত হলে গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টগুলো এটিপি পুরুষদের ট্যুর এবং ডব্লিউটিএ মহিলাদের ট্যুর দ্বারা পরিচালিত সম্মিলিত নয়টি ‘১০০০-স্তরের’ ইভেন্টের সমকক্ষ হয়ে উঠত।

সোমবার এক বিবৃতিতে খেলোয়াড়রা জানান যে, গত ১৬ এপ্রিল রোলাঁ গারোজের পক্ষ থেকে পুরস্কারের অর্থ ৯.৫ শতাংশ বৃদ্ধির যে ঘোষণা করা হয়েছিল, তা যথেষ্ট নয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় যে, গত বছর ফরাসী ওপেন থেকে ৩৯৫ মিলিয়ন ইউরো (৪৬৩ মিলিয়ন ডলার) আয় হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি। তবে টুর্নামেন্টের মোট পুরস্কারের অর্থ বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র ৫.৪ শতাংশ; ফলে মোট আয়ের মধ্যে খেলোয়াড়দের অংশীদারিত্ব কমে দাঁড়িয়েছে ১৪.৩ শতাংশে। খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে, চলতি বছর টুর্নামেন্টের আয় ৪০০ মিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে যাবে; কিন্তু এরপরও আয়ের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের অংশীদারিত্ব ১৫ শতাংশের নিচেই থেকে যাবে।

চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে রোলাঁ গারোজ কর্তৃপক্ষ উপেক্ষা করছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘‘গত এক বছর ধরে খেলোয়াড়রা ধারাবাহিকভাবে এবং যৌক্তিকভাবে যেসব কাঠামোগত সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন, রোলাঁ গারোজ সেগুলোর কোনোটিরই সমাধান করতে পারেনি।’’

‘‘খেলোয়াড়দের কল্যাণের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের উদ্যোগ বা আলোচনা করা হয়নি; এমনকি গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্ট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় খেলোয়াড়দের মতামত গ্রহণের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রেও কোনও অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।’’

যদিও ট্যুর কর্তৃপক্ষ গত বছর চিঠিতে স্বাক্ষরকারী খেলোয়াড়দের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি, তবুও গত মার্চ মাসে লেখা প্রথম চিঠির অনুলিপি থেকে জানা যায় যে, শীর্ষ র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা ১১ জন মহিলা খেলোয়াড়ের মধ্যে ১০ জনই সেই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। পুরুষ খেলোয়াড়দের মধ্যে জানিক সিনার, নোভাক জকোভিচ, আলেকজান্ডার জভেরেভ এবং কার্লোস আলকারাজ সেই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন—তবে গ্রীষ্মে লেখা দ্বিতীয় চিঠিতে জকোভিচ স্বাক্ষর করেননি বলে জানা গিয়েছে।

খেলোয়াড়দের একজন মুখপাত্র এএফপি-কে জানিয়েছেন যে, সার্বিয়ার এই তারকা খেলোয়াড় সর্বশেষ চিঠিতেও স্বাক্ষর করেননি। ‘‘গ্র্যান্ড স্ল্যাম কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাইত, তবে তা নিশ্চিতভাবেই দারুণ হতো; কারণ নিয়ম অনুযায়ী ঠিক এমনটাই হওয়া উচিত। কিন্তু কেন যে এখন আর কোনও খোলামেলা আলোচনার সুযোগ নেই—তা আমি সত্যিই বুঝে উঠতে পারি না,’’ গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত ডব্লুটিএ ফাইনালে ইগা সুইয়াতেক এই মন্তব্য করেন।

এদিকে, গত মার্চ মাসে ২০২১ সালে জকোভিচ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাঁরই ছেড়ে আসা বিচ্ছিন্ন সংগঠন ‘প্রফেশনাল টেনিস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন’—টেনিস জগতের প্রায় প্রতিটি সংগঠনের বিরুদ্ধেই একের পর এক মামলার ঝড় তোলে।

ইউএস ওপেন আয়োজকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় পিটিপিএ উল্লেখ করে যে, ‘‘২০২৪ সালে ইউএস ওপেন কর্তৃপক্ষ কেবল একটি বিশেষ ধরণের ককটেল বিক্রি করেই ১২.৮ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে—যা তাদের উভয় সিঙ্গলস চ্যাম্পিয়নকে প্রদত্ত মোট পুরস্কারের অর্থের চেয়েও বেশি।’’

‘হানি ডিউস’ নামের এই বিশেষ ককটেলটি গত বছরের টুর্নামেন্ট চলাকালীন প্রতিটি ২৩ ডলার মূল্যে বিক্রি হয়েছিল।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *