ছবি: এআইএফএফ
অলস্পোর্ট ডেস্ক: তিন প্রধানে খেলা ফুটবলার মোহন সিংয়ের জীবনাবসান। বৃহস্পতিবার দুপুরে কলকাতার একটি নার্সিং হোমে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৭৯ বছরের এই প্রাক্তন ফুটবলার। ১৯৪৭ সালে পাঞ্জাবে জন্ম হলেও পৈত্রিক ব্যবসার সূত্রে মোহন সিং কলকাতায় চলে এসেছিলেন পরের দিকে। কলকাতায় ফুটবল খেলা শুরু করে অচিরেই সকলের নজর কেড়ে নেন। বড় ক্লাবের কর্তাদের পছন্দের ফুটবলার হয়ে ওঠেন। তিন প্রধানে সুনামের সঙ্গে খেলেনও। সেই থেকে কলকাতার বাসিন্দা হয়ে যান, বলতে গেলে একপ্রকার বাঙালি হয়ে ওঠেন। হকির প্রবাদপ্রতিম গুরবক্স সিংয়ের মতো মোহন সিংকেও কোনদিন বাঙালির বাইরে কিছু ভাবেননি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত।
কলকাতা ময়দানে বেশিদিন খেলেননি, কিন্তু যেটুকু সময় খেলেছিলেন, তাতেই নিজের দক্ষতার পরিচয় রেখেছিলেন মোহন সিং। ১৯৬৭ সালে এরিয়ানের জার্সিতে কলকাতা ময়দানে তাঁর আত্মপ্রকাশ। আক্রমণভাগ ও মাঝমাঠে ছিলেন সমান সাবলীল। ১৯৬৮তে যোগ দেন বিএনআর ক্লাবে। চার বছর টানা বিএনআর জার্সিতে নজরকাড়া ফুটবল খেলায় তাঁকে ডেকে নেয় ইস্টবেঙ্গল। ১৯৭২ পর্যন্ত লাল হলুদেই ছিলেন। কলকাতা ফুটবল লিগ সহ বিভিন্ন ট্রফি জয়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। ১৯৭২-৭৩ মরশুমে ইস্টবেঙ্গল জার্সিতে বর্ষসেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি পান তিনি।
৭৩ ও ৭৪য়ের মরশুমে মোহনবাগানের জার্সি গায়ে চাপান মোহন সিং। সবুজ মেরুন জার্সিতে ডুরান্ড কাপ জয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল তাঁর। করেছিলেন ৩ গোল,। ১৯৭৫য়ে আবার ফিরে আসেন ইস্টবেঙ্গলে। সেখান থেকে মহমেডানে গিয়ে ২ বছর কাটিয়ে ফুটবল জীবন শেষ করেন বিএনআর জার্সিতে।
ভারতীয় দলের জার্সিতেও নিজের জাত চিনিয়েছিলেন মোহন সিং। ১৯৭২ সালের ২২ মার্চ তৎকালীন বর্মা ফুটবল দলের বিরুদ্ধে জাতীয় দলে অভিষেক ঘটেছিল তাঁর। রেঙ্গুনে প্রিঅলিম্পিক ম্যাচ খেলার সুবাদে। তিনটি প্রিঅলিম্পিকের ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
বাংলা দলের হয়ে সন্তোষ ট্রফিতেও খেলেছিলেন মোহন সিং। বাংলার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পিছনে তাঁর অবদান ছিল। বাংলার জার্সিতে করেছিলেন ২ গোল।
তাঁর মৃত্যুতে কলকাতা ময়দান জুড়ে ছিল শোকের ছায়া। তিন প্রধান সহ অন্যান্য ক্লাবের তরফে মোহন সিংকে শেষ শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ করা হয়। মোহন সিংয়ের প্রয়াণে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যান চৌবে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন, একইসঙ্গে সমবেদনা জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যদের।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
