ছবি— মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট এক্স থেকে
অলস্পোর্ট ডেস্ক: লিগ শীর্ষে পৌঁছতে হলে মোহনবাগানের জন্য এই ম্যাচ ছিল মাস্ট উইন। যদিও গোয়ার মাঠে গোয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ যে সহজ হবে না তা জেনেই মাঠে নেমেছিল সার্জিও লোবেরার ছেলেরা। সমুদ্রের তেতে ওঠা বালির গরমে বিকেল ৫টায় যখন খা খা করছে গ্যালারিও, তখন সেখানে খেলতে নামতে হয়েছিল মোহনবাগান। যখন কলকাতার আবহাওয়া বেশ মনোরম। যদিও কলকাতা ছেড়ে গোয়া পাড়ি দেওয়ার আগে লোবেরা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে কোনও কিছু কেউ অজুহাত করা যাবে না। লক্ষ্য একটাই টেবল টপে পৌঁছানো। সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে ডার্বি নিয়েও ভাবতে চান না তিনি। এফসি গোয়া ম্যাচকে পাখির চোখ করেই শহর ছেড়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। তবে তিন পয়েন্ট না পেলেও, এক পয়েন্ট নিয়ে গোয়া থেকে ফিরছে গঙ্গাপাড়ের ক্লাব। দুটো গোলই হল দ্বিতীয়ার্ধে।
শনিবার গোয়ার তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রির আশপাশে থাকলেও আকাশ ছিল মেঘলা। যা কিছুটা হলেও গরমের হাত থেকে বাঁচিয়েছিল। তার মধ্যেই যেন প্রথমার্ধ ছিল একে অপরকে মেপে নেওয়ার। কারও তরফেই তেমন কোনও পজিটিভ আক্রমণ দেখা গেল না প্রথম ৪৫ মিনিটে। তার মধ্যে মোহনবাগানের লিস্টন কোলাসোর একটা শট গোলের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। আর এফসি গোয়ার গোলমুখি শট একবার বাঁচিয়ে দেন রডরিগেজ। এছাড়া বলার মতো তেমন কিছু নেই। যা হয়েছে তা কিছুটা পরিকল্পনাহীন আক্রমণ, আর সে কারণেই হয়তো প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্যভাবেই।
১৯ এপ্রিল নর্থইস্টের বিরুদ্ধে তাদের ঘরের মাঠে খেলার পর আর খেলেনি মোহনবাগান। কারণ নির্বাচনের জন্য ২৬ এপ্রিলের ম্যাচটি সরিয়ে ১২ মে দেওয়া হয়। যে কারণে ১৯ এপ্রিলের পর আবার ৯ মে খেলতে নামল মোহনবাগান। তা যেমন দলের জন্য নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকছে, তেমনই দীর্ঘ বিরতি হলে ছন্দ হারিয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনাও থাকে দলগুলোর। যদিও মোহনবাগান ফরোয়ার্ড জেসন কামিন্স এই বিরতিকে নিয়ে ভাবতে রাজি ছিলেন না এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে। তিনি জানিয়েছিলেন, ম্যাচ না খেললেও তাঁরা নিয়মিত অনুশীলনের মধ্যে থাকায় এর জন্য বিশেষ কোনও পার্থক্য তৈরি হবে না।
দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া পরিবর্তন করলেন লোবেরা। প্রথমার্ধে চূড়ান্ত সাদামাটা রবসনকে তুলে কামিন্স ও আপুইয়াকে তুলে মনবীরকে নামিয়ে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করলেন তিনি। তাতে কিছুটা আক্রমণে ঝাঁঝ বাড়ল সবুজ-মেরুনের। ৫২ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে তৈরি হওয়া গোয়ার আক্রমণ প্রায় গোল লাইন সেভ করলেন টম আলড্রেড। না হলে বিপদ হতেই পারত। আর ৫৫ মিনিটেই গোলের মুখ খুলে ফেলল মোহনবাগান জেমি ম্যাকলারেনের গোলে। শুভাশিসের পাস থেকে বল ধরে বক্সে পৌঁছে গিয়েছিলেন জেমি। পাশেই ছিলেন সন্দেশ ঝিঙ্গন। কিন্তু তাঁকে কাঁধে নিয়েই গোলে শট নেন জেমি। জায়গা ছেড়ে এগিয়ে এসেছিলেন গোয়া গোলকিপার। জেমির শট ফাঁকা গোলে সহজেই পৌঁছে যায়। এগিয়ে যায় মোহনবাগান।
এর পর সুযোগ চলে এসেছিল গোয়ার সামনেও। গোলের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন উদান্তা সিং। কোনও রকমে তা ক্লিয়ার করেন টম আলড্রেড। কিন্তু ৬৭ মিনিটে রনি উইলসনের যে গোল সমতায় ফিরল এফসি গোয়া তা লেখা থাকবে আইএসএল-এর ইতিহাসে। তার কয়েক মিনিট আগেই পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। মোহনবাগান বক্সের বাঁদিক থেকে শট নিয়েছিলেন রনি। সেই বল বিশাল কেইথের মাথার উপর দিয়ে ক্রসবারের গা ঘেঁষে দ্বিতীয় পোস্টের উপরের কোণা দিয়ে চলে যায় গোলে। এক কথায় দৃষ্টি নন্দন গোল। আর সেই গোলের সঙ্গেই রনির গোলের খাতা খুলে গেল আইএসএল-এ। এর পরও সুযোগ এসেছিল গোয়ার সামনে, তবে মোহনবাগানের ভাগ্য ভালো। অতিরিক্ত সময়েও প্রায় গোল করেই ফেলেছিল গোয়া। কিন্তু ওই যে বললাম ভাগ্য ভালো মোহনবাগানের।
শেষ বেলায় আরও দুটো পরিবর্তন করলেন লোবেরা। ম্যাকলারেনকে তুলে দিমিত্রি ও সাহালকে তুলে অভিষেক সূর্যবংশীকে নামিয়ে দিয়ে খেলার শেষবেলায় গতি আনতে চাইলেন। কিন্তু তেমন কিছু হল না। এক পয়েন্টেই সন্তুষ্ট থাকতে হল দুই দলকে। ম্যাচ শেষে ২১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল মোহনবাগান। এই মুহূর্তে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান ও জামশেদপুর রয়েছে ২১ পয়েন্টে। কলকাতার দুই দল ১০ ম্যাচ খেলে এই পয়েন্টে থাকলেও জামশেদপুর এক ম্যাচ বেশি খেলেছে। ১২ ম্যাচ খেলে ২০ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এখন চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই প্রথম তিন দলই।
মোহনবাগান: বিশাল কেইথ, অভিষেক সিং, আলবার্তো রদ্রিগেস, মেহতাব সিং, শুভাশিস বসু, অনিরুদ্ধ থাপা, আপুইয়া (মনবীর সিং), লিস্টন কোলাসো, রবসন রবিনহো (জেসন কামিন্স), সাহাল আব্দুল সামাদ (অভিষেক সূর্যবংশী), জেমি ম্যাকলারেন (দিমিত্রি পেত্রাতস)।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
