অলস্পোর্ট ডেস্ক: ফ্রান্সের জার্সিতে এমবাপে, নরওয়ের হয়ে হালান্ড ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে গোল করে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছেন। আর মেসি তো লা জবাব। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়ক মেসি ২০২৬ বিশ্বকপেও একইরকম অপ্রতিরোধ্য। বরং আরও ধারালো বললে ভুল হবে না। আলজিরিয়ার বিরুদ্ধে অনায়াসে হ্যাটট্রিক করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাবটা ধরে রাখার লক্ষ্যেই তিনি মাঠে নেমেছেন আবার। একমাত্র ব্রাজিলের নেইমার এখনও ফিট হতে পারেননি দেশের জার্সি গায়ে চলতি বিশ্বকাপে খেলতে। কবে পারবেন, তা নিয়েও ঘোর অনিশ্চয়তা। তবে মেসির সঙ্গে যাঁর সবচেয়ে বেশি তুলনা টানা বা চর্চা হয়, সেই পর্তুগালের তারকা ফুটবলার অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ৪১ বছর বয়সে তাঁর ষষ্ঠ বিশ্বকাপে কঙ্গো বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে মাটিতে তাল ঠুকছেন কঙ্গো নিজের দক্ষতা তুলে ধরতে।
এতদিন ধরে খেললেও রোনাল্ডো ও তাঁর সঙ্গে দলে থাকা অন্যান্য ফুটবলারদের উপস্থিতিতে এই প্রথমবার পর্তুগাল বিশ্বকাপ জয়ের ফেবারিট হিসেবে ধরছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা। তাও তাঁদের একদলের আশঙ্কা রোনাল্ডো আগের মতো প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবেন না। দেশের জার্সিতে ২২৭ ম্যাচে ১৪৩ গোল করলেও, তাঁর ওপর পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজ বেশি ভরসা করে ফেলছেন। সেটা অবশ্য মানতে নারাজ পর্তুগাল কোচ। কেমন মেজাজে আছেন রোনাল্ডো কঙ্গো ম্যাচ খেলার আগে? পর্তুগাল চিফ কোচ রবার্তো মার্টিনেজের জবাব, ‘ দলে রোনাল্ডোর কোনও বিকল্প নেই। এটা ওর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। কিন্তু মাঠে নামার আগ্রহ ও ছটফটানি দেখে বলছি, প্রথম বিশ্বকাপ খেলার সময় ওর মধ্যে যে জোসটা ছিল, সেটা এখনও আছে। আবেগ ও নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার ইচ্ছার কারণে রোনাল্ডো দলের পক্ষে অপরিহার্য। সতীর্থদের সাহায্য করতে মুখিয়ে আছে। কঙ্গো ম্যাচে তার প্রমাণ মিলবে।’
রবার্তো মার্টিনেজের মতে, ‘ জাতীয় দলের জন্য রোনাল্ডোর উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ও একজন ফিনিশার। এমন একজন ফুটবলার যে দলের অন্য ফুটবলারদের জন্য ফাঁকা জায়গা তৈরি করতে পারে। দলের আক্রমণাত্মক ফুটবলে রোনাল্ডোর থাকাটা খুব জরুরি।’ কঙ্গো ম্যাচের আগে রোনাল্ডো সম্পর্কে পর্তুগাল মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্ডেজের গলায় এক সুর। বলেন, ‘ আমাদের দলের অনেকেই ক্রিশ্চিয়ানোকে খেলতে দেখে বড় হয়েছি। মাত্র ১৯ বয়সে ২০০৪ সালে ঘরের মাঠে ইওরো কাপে ক্রিশ্চিয়ানোর লড়াই আমাদের আজও উজ্জীবিত করে। এমন একজন ফুটবলারের পাশে খেলাটা গর্বের। মনে হয় ক্রিশ্চিয়ানো নিজেও একটু স্নায়ুচাপ অনুভব করছে। কারণ জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপের মতো আসরে অংশ নেবে। পর্তুগালের প্রতি ওর ভালবাসা অপরীসিম। সবচেয়ে বড় কথা, বিশ্বকাপ খেতাবটা ওর এখনও অধরা। ও প্রচন্ড উত্তেজিত মাঠে নামার জন্য। ও পাশে খেলা আমরাও।’
১৯৬৬তে বিশ্বকাপ জেতার খুব কাছাকাছি এসেছিল পর্তুগাল। সেবার তৃতীয় স্থানে শেষ করেছিল দল। মাঝে ইওরো কাপ জেতা ছাড়া সাম্প্রতিককালে ২০২৫য়ে উয়েফা নেশনস লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পর্তুগাল। ব্রুনোর বক্তব্য, ‘ এই সাফল্যটা বাড়তি মোটিভেশন জোগাচ্ছে আমাদের। সেমিফাইনাল ম্যাচটা জিতেছিলাম জার্মানিকে ওদের মাঠে হারিয়ে। আর ফাইনালে স্পেনকে হারানোটাও ছিল বেশ কৃতিত্বের। তাই কঙ্গো বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে দলের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে রয়েছে। একইসঙ্গে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের, সেরা দেওয়ার কথাটাও মাথায় রাখতে হচ্ছে।’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
