অলস্পোর্ট ডেস্ক: কেপ ভার্দের স্বপ্নের দৌড় অব্যাহত ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা স্পেনের সঙ্গে গোলশূণ্য ড্র করার পর শক্তিশালী উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ম্যাচ শেষ করে ৫লাখ ২৫ হাজার মানুষের বাস কেপ ভার্দের ফুটবলররা প্রমাণ করলেন, তাঁরা নিছক বিশ্বকাপে অংশগ্রহম করতে আসেননি, নিজেদের দক্ষতা ছাপ রাখতে বদ্ধপরিকর। পরপর ২ ম্যাচে ড্র করার ফলে কেপ ভার্দের সামনে এখন নকআউটে যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা। গ্রুপের শেষ ম্যাচে সৌদি আরবকে হারালে রাউন্ড অফ ৩২য়ে তো যাবেই কেপ ভার্দে, এমনকি ড্র করলেও, সেরা তৃতীয় দলের মধ্যে থেকে তাদের নকআউটে যাওয়ার সুযোগ থাকবে ৩ পয়েন্ট প্রাপ্তির সুবাদে।
স্পেনের বিরুদ্ধে ম্যাচ ড্র রাখার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলকিপার ভোজিনহা। সেদিন একাধিকবার অসাধারন সেভ করে স্পেনকে গোল পেতে দেননি। ম্যাচের সেরা ভোজিনহার চোখে ছিল জল খেলা শেষে। তাঁর মায়ের কথা মনে করে। ভোজিনহা জানিয়েছিলেন, আমেরিকায় আসার ভিসার বিশাল পরিমান অর্থ জোগান করতে না পারায় তাঁর মা মাঠে এসে খেলা দেখার সুযোগ পাননি। স্পেনের বিরুদ্ধে ছেলের খেলা টিভিতে দেখেই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে হয়েছিল তাঁকে। এটা শোনার পরই ভোজিনহার মা ইভোরাকে তড়িঘড়ি ভিসার ব্যবস্থা করে আমেরিকায় আনা হয়। ইভোরার মাঠে বসে উরুগুয়ে ম্যাচ দেখা স্বার্থক। মিয়ামির মাঠে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ভোজিনহা সহ গোটা দলের লড়াই দেখে মন ভরে গেছে ইভোরার। ম্যাচের পর ছেলে ভোজিনহা গ্যালারির সামনে এসে মাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন।
মার্কো বিয়েলসার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উরুগুয়ে বিরুদ্ধে ২১ মিনিটে গোল করে কেপ ভার্দেকে এগিয়ে দিয়েছিলেন কেভিন পিনা। কেপ ভার্দের বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম গোল। তবে প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিটে আরুজো ও প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে কানেবিও গোল করে উরুগুয়ের পক্ষে ২-১ করেন। তাতেও অবশ্য লড়াই ছাড়েনি কেপ ভার্দে। ৬১ মিনিটে হেলিও ভারেলা গোল করে সমতা ফিরিয়ে কেপ ভার্দের বিশ্বকাপে গ্রপ পর্বে বাধা টপকে নকআউটে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে দেন।
ম্যাচ শেষে কেপ ভার্দে কোচ বুবিসতা বলেন, ‘ আমরা বিশ্বকাপে শুধু অংশ নিতেই আসিনি, বড়রকম স্বপ্নপূরণের লক্ষ্য নিয়েই এসেছিল। নকআউটে যাওয়াই আমাদের প্রথম লক্ষ। তারপর দেখা যাক কতদূর যাওয়া সম্ভব। আমরা এখন যে জায়গায় রয়েছি, তাতে শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে ভাল খেলে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়।’
অন্যদিকে, দলের ২-২ ড্রয়ে হতাশ উরুগুয়ে কোচ বিয়েলসার প্রতিক্রিয়া, ‘ দলটা দেখে মনে হয়েছে ছন্নছাড়া। আমাদের যে আক্রমণ হানা দরকার ছিল ২-১ গোলে এগিয়ে থাকার সময়, সেটা দেখা যায়নি খেলায়। উল্টে প্রতিপক্ষকে আঘাত করার ও গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরানোর সুযোগ করে দিয়েছি। ম্যাচটা আমাদের জেতা উচিত ছিল। আমরা মাঠে দল নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে ব্যর্থ।’
উরুগুয়ে কোচ বিয়েলসার উদ্বেগের কারণ স্পষ্ট। কারণ উরুগুয়েকে শেষ ম্যাচ খেলতে হবে স্পেনের বিরুদ্ধে। ওই ম্যাচে ফল খারাপ হলে উরুগুয়ের নকআউটে যাওয়া আটকে যেতে পারে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
