Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

 

মুনাল চট্টোপাধ্যায় : ঘরের মাঠে‌ ২০১৭য় অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে খেলেছিল ভারতীয় ফুটবল (‌বালক)‌ দল। অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে ভারতীয় বালিকা দল ২০২২ সালে। সেই প্রথম আর সেই শেষ। তারপর এখনও পর্যন্ত এশিয়ান কাপ আর এশিয়ান গেমসের ওপরে আর এগোতে পারেনি ভারতীয় সিনিয়র ফুটবলাররা। বিশ্বকাপ চলাকালীন ম্যাচের বিশেষজ্ঞর ভূমিকায় থাকা ভারতীয় ফুটবল আইকন বাইচুং পাশে বসা ভারতীয় দলের প্রাক্তন কোচ ইগর স্টিমাচের সঙ্গে আলোচনায় আপসোসের সঙ্গে বলেন, ‌‘‌ আমি যখন খেলতাম, তখন এশিয়া থেকে বিশ্বকাপে খেলার কোটা ছিল ৪। আর এবার ফিফা ৪৮ দলের বিশ্বকাপের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এশিয়ার কোটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮। এশিয়ার মধ্যে ৪য়ে থাকার থেকে ৮য়ে থাকাটা অপেক্ষাকৃত সহজ। এটা আগে হলে হয়ত আমার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ এসে যেতে পারত।’‌

বাইচুংয়ের বিশ্বকাপের খেলার আক্ষেপ এজীবনে মিটবে না। তবে ভারতের বর্তমান সিনিয়র ফুটবলারদের সামনে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন সফল হতে পারে। ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন উঠতেই পারে, সেটা কীভাবে?‌ সেই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে চলতি বিশ্বকাপে ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বক্তব্যে। তিনি সুইস নিউজ সাইট ব্লুউইনকে দেওয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, ২০৩০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহনকারী দেশের সংখ্যা ৪৮ থেকে ৬৪ করা যায় কিনা, সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে এনিয়ে আলোচনায় বসবে ফিফার সংশ্লিষ্ট কমিটি।

আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডায় সম্মিলিতভাবে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে ৪৮ দল অংশ নিয়েছে প্রথমবার। এর আগে সেই সংখ্যাটা ছিল ৩২। ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের সাফল্যে খুশি ইনফান্তিনো। আর তার ভিত্তিতেই ২০৩০য়ে দলের সংখ্যা আরও বাড়ানোর কথা ভাবছেন তিনি। ইনফান্তিনো বলেন, ‘‌ দলের সংখ্যা ৪৮ করাটা ১০০ শতাংশ ঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। একসঙ্গে এতগুলো দল নিয়ে নতুন ফরম্যাটে বিশ্বকাপ আয়োজন দারুনভাবে সফল হয়েছে। এতে যেমন বেশি সংখ্যায় দল বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়েছে, তেমন বিশ্বের অধিক সংখ্যক ফুটবলার নিজেদের দক্ষতা আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে পেরেছে।’‌

ইনফান্তিনোর মতে,‘‌ সব মহাদেশের দল হয় চলতি বিশ্বকাপে গোল করেছে, নাহয় এক পয়েন্ট অর্জন করেছে। ১০টি আফ্রিকান দলের ৯টি দল নকআউট পর্বে পৌঁছেছিল। গত বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে ৫টি দল অংশ নিয়েছিল। এতেই বোঝা যাচ্ছে, বেশি সংখ্যক দলের ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণে লাভ হয়েছে।’‌ তার ভিত্তিতেই কি ২০৩০ বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৪ করার কথা ভাববেছন?‌ ইনফান্তিনোর জবাব,‘‌ দলের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব ভেবে দেখছি। এনিয়ে আলোচনাও হবে। বিশ্বকাপ আয়োজন করার পেছনে মূল উদ্দেশ্য সারা বিশ্বে ফুটবলের প্রসার ঘটানো। শুধুমাত্র নামী দলগুলোর মধ্যে এই টুর্নামেন্ট আটকে থাকা ঠিক নয়। যদি না অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী ও অনামী দলগুলোকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে তারা নিজেদের দক্ষতা যেমন তুলে ধরতে পারবে না, তেমন খেলার আগ্রহও হারাবে। সঙ্গে নিজেদের উন্নতির ব্যাপারটাও।’‌

ফিফা এখনও খোলসা করে বলেনি, ৬৪ দল খেললে তার ফরম্যাট কী হবে?‌ তবে একটা খসড়া ফরম্যাটের আন্দাজ মিলেছে। ৬৪ দলকে ১৬ গ্রুপে ভাগ করে খেলানো হতে পারে। প্রতি গ্রুপে ৪টি করে দলকে রেখে। গ্রুপের প্রথম দু’‌য়ে থাকা দল রাউন্ড অফ ৩২য়ের নকআউটে খেলবে। চলতি বিশ্বকাপে ৪৮ দলের ক্ষেত্রে ১২ টি গ্রুপের প্রথম ২টি দলের পাশাপাশি সব গ্রুপ মিলিয়ে ৮টি তৃতীয় সেরা দল রাউন্ড অফ ৩২য়ে খেলার সুযোগ পেয়েছিল। ৬৪ দলের টুর্নামেন্টে তৃতীয় সেরা দলের নকআউটে এগোনোর সুযোগ থাকবে না, সেভাবে ফরম্যাট তৈরি হলে। ৩২ দলের বিশ্বকাপের ম্যাচ সংখ্যা ছিল ৬৪। ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে ৪৮ দলের বিশ্বকাপে ম্যাচের সংখ্যা ১০৪। দলের সংখ্যা বেড়ে ৬৪ হলে ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়াবে ১২৮।

দলের সংখ্যা বাড়ানোর প্রথম প্রস্তাব এসেছিল ২০২৫ সালের মার্চে ফিফা কাউন্সিল মিটিংয়ে উরুগুয়ের ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ইগনাসিও আলোনসোর তরফে। পরে সেটা লিখিতভাবে ফিফার কাছে জমা করেন কনমেবলের প্রেসিডেন্ট আলেসান্দ্রো ডমিঙ্গগেজ। তাঁর বক্তব্য,‘‌ ২০৩০ বিশ্বকাপটা একটা স্মরণীয় টুর্নামেন্ট হতে চলেছে। কারণ ওটা ফিফা শতবার্যিকী টুর্নামেন্ট। ১৯৩০ সালে উরুগুয়ের মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপ হয়েছিল। ইতিমধ্যেই ফিফা সেই উপলক্ষ্যে উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে ও আর্জেন্টিনায় শতবার্ষিকী বিশ্বকাপে উদ্বোধনী ম্যাচ রেখেছে, ২০৩০ বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলি মিলিতভাবে স্পেন, মরক্কো, পর্তুগালে হলেও।’‌

তবে এই প্রস্তাবের আবার বেশ কিছু দেশ ও ফুটবল সংস্থা বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, দল বাড়ানোর ভাবনাটা কোথাও একটা থামা দরকার। নইলে সেটা সামলানো কঠিন হবে। শেষপর্যন্ত দলের সংখ্যা আর বাড়বে কিনা, আর বাড়লেই যে ভারতীয় ফুটবল দল সেই ৬৪ দলের মধ্যে আসবেই , এমন বলা যায় না। কারণ এশিয়ার কোটা কত বাড়বে, আর সেইমতো নিজেদের যোগ্য করে তুলতে পারবে কিনা ভারতীয় সিনিয়র ফুটবল দল, সেটাও বলা কঠিন। তবে সম্ভাবনা একটা জাগতে পারে। এবার তো এশিয়ান গেমসেই ভারতীয় ফুটবল দল পাঠায়নি ফেডারেশন। সেখানে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নপূরণের সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। তবে এখানে আর একটা সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সেটা হল দলের সংখ্যা যদি সত্যি সত্যি ৬৪ হয়, তাহলে ২০৩৪ বিশ্বকাপ সৌদি আরবে হলে, ফিফা ও সৌদির দাক্ষিণ্যে ভারত সহআয়োজক হিসেবে জুড়ে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নপূরণ করতে পারে। সময়ই বলবে সেকথা।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *