অলস্পোর্ট ডেস্ক: ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি ইংল্যান্ড, স্পেনের সামনে ২০১৮ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ও ২০২২য়ের রানার্স ফ্রান্স। এই চার হেভিওয়েট দলের লড়াইয়ে ফ্রান্সকেই সবচেয়ে ফেবারিট বাছলেন জার্মানির বিশ্বকাপার কিংবদন্তী গোলকিপার অলিভার কান। লিওনেল মেসির মতো লিডার আর্জেন্টিনা দলে থাকা সত্ত্বেও। ১৬ জুলাই আটলান্টা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মোকাবিলা করবে আর্জেন্টিনা। ২০০২ বিশ্বকাপে শেষ সাক্ষাতে ডেভিড বেকহ্যামের গোলে জিতেছিল ইংল্যান্ড। অলিভার কানের মতে, ১৫ জুলাই ডালাস স্টেডিয়ামের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্স ও স্পেন ম্যাচে চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে উত্তেজক ও উপভোগ্য লড়াই হতে চলেছে। শুধু তাই নয়, ওই ম্যাচে ফ্রান্সকে এগিয়ে রাখার পাশাপাশি চলতি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখছেন তিনি।
বিশ্বকাপে শেষবার স্পেনের মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স ২০০৬ সালে। শেষ ১৬র সেই লড়াইয়ে ফ্রান্স ৩-১ গোলে হারিয়েছিল স্পেনকে। সেটা মাথায় রাখার পাশাপাশি চলতি বিশ্বকাপে ফ্রান্সের ছন্দে থাকাকে সামনে রেখে অলিভার কানের যুক্তি, ‘ এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপে দলগুলোর ফর্ম দেখে যদি কোনও একটা দলকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মূল দাবিদার হিসেবে বাছতে হয়, তাহলে আমি ফ্রান্সকেই বাছব। কারণ ওদের দলের গভীরতা, ভারসাম্য, ও ম্যাচ জেতার ক্ষমতা আমার মন ছুঁয়েছে। এই কারণে সেমিফাইনালিস্ট চার দলের মাঝে পার্থক্য সামান্য হলেও, ফ্রান্সকে কিছুটা হলেও এগিয়ে রাখব।’
কান মনে করেন, ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যে ট্যাক্টিকাল লড়াইটা আকর্ষণীয় হবে। স্পেনের পজেশনাল ফুটবলের সঙ্গে ফ্রান্সের বিধ্বংসী আক্রমণাত্মক ফুটবলের কারণে। যে দল নিজেদের রক্ষণ সংগঠন ঠিক রেখে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে নিজেদের দখলে , তারাই ম্যাচে সাফল্য পাবে। সেমিফাইনাল ম্যাচের ফল নির্ভর করে বিশেষ কিছু মুহূর্তের ওপর, শুধুমাত্র আধিপত্য বিস্তার করে নয়। সেই দলই শেষপর্যন্ত বাজিমাত করবে, যারা নিজেদের শেপ ও শৃঙ্খলা ঠিক রাখার পাশাপাশি নিজেদের কৌশল ও পরিকল্পনার সঠিক রূপায়ণ ঘটাবে।’
স্পেন কী উপায়ে ফ্রান্সের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারে, এই প্রশ্নে কানের উত্তর, ‘ স্পেনকে ধৈর্য রাখতে হবে ঝোপ বুঝে কোপ মারার জন্য। উদ্দেশ্যহীন ফুটবল খেলবে চলবে না। স্পেনকে দ্রুত বল মুভ করতে হবে ফ্রান্সের অর্ধে আক্রমণ তুলে আনতে। একইসঙ্গে নিজেদের রক্ষণ জমাট রাখতে হবে ফ্রান্সের আক্রমণ ঠেকাতে। কারণ এই বিশ্বকাপে ফ্রান্স হল এমন একটা দল যারা দ্রুত প্রতিআক্রমণ তুলে এনে প্রতিপক্ষকে আঘাত হানতে পারে। শুধু প্রেসিং ফুটবল খেলেই সাফল্য আসবে না, বরং ভারসাম্যমূলক ফুটবল খেলতে হবে বুদ্ধি করে, যাতে প্রতিপক্ষ ঘাড়ে চেপে বসতে না পারে।’
কান জানিয়েছেন, বর্তমান ফুটবলে দলের সাফল্যের পিছনে গোলকিপারের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। গোলকিপাররাই দলের লাস্ট ডিফেন্ডার ও ফার্স্ট অ্যাটাকার। গোলকিপারের একটা দারুন সেভ, কিংবা একটা ছোট ভুল ম্যাচের রং ও ফল বদলে দিতে পারে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
