Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

 

স্পেন ২(‌ওয়ারজাবাল-‌পেনাল্টি, পেড্রো)‌            ফ্রান্স ০

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ বিশ্বের ফুটবল বিশেষজ্ঞদের ভুল প্রমাণ করে টেক্সাসের ডালাস আর্লিংটন স্টেডিয়ামে ফেবারিট ফ্রান্সকে ২-‌০ গোলে হারিয়ে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে গেছে স্পেন। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের পর এটা তাদের দ্বিতীয়বার ফাইনালে ওঠে। সেবার
জোহানেসবার্গের স্টেডিয়ামে হল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ প্রথমবার ঘরে তুলেছিল দেল বস্কের স্পেন। ১৬ বছর বাদে দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ স্পেনের সামনে। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বিজয়ী দল। প্রতিপক্ষ কে হবে, তা নিয়ে মাথা ব্যথা নেই স্পেনের বর্তমান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের। বরং ফাইনালে পৌঁছে আত্মবিশ্বাসী ফুয়েন্তে মনে করেন, তাঁরা অপরাজেয়।

স্পেনের মতো ফ্রান্সের ওপর এতটা আধিপত্য নিয়ে এবার কোনও দল এর আগে খেলতে পারেনি। খেলার শুরু থেকে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত ফ্রান্সের খেলা দেখে কখনও মনে হয়নি তারা সেমিফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে জিততে পারে। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন ও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে রানার্স দিদিয়ের দেঁশর ফ্রান্সের খেলার ওপর দখল ছিল না। এমনকি কোনও বৈচিত্র বা বাড়তি তাগিদ নজরে আসেনি প্রথমার্ধে স্পেনের মিকেল ওয়ারজাবেলের দেওয়া পেনাল্টি গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও। ফ্রান্সের সেরা অস্ত্র কিলিয়ান এমবাপে ছিলেন সারাম্যাচে নিষ্প্রভ। শুধু তাঁকে নয়, ডেম্বেলে সহ ফ্রান্সের বাকি ফুটবলারদের আক্রমণে আঘাত হানার জন্য এতটুকু ফাঁকা জায়গা দেননি স্পেনের রক্ষণের ফুটবলাররা। বরং নিজেদের মধ্যে অনেক বেশি নিখুঁত পাস খেলে ম্যাচের রাশ ধরে রেখে ফ্রান্সকে চাপে রেখে দেন ফুয়েন্তের ফুটবলাররা। এর ফলে দ্বিতীয়ার্ধে দ্বিতীয় গোল করে নিজেদের জয় সুনিশ্চিত করে ফেলেন স্পেনের পেড্রো পোরো।

স্বাভাবিকভাবেই এমন একটা পারফরমেন্সের পর স্পেন কোচ ফুয়েন্তের প্রতিক্রিয়া, ‘‌ ফাইনালে ওঠার পর নিজেদের অপরাজেয় মনে হচ্ছে। নিউ জার্সির ফাইনালের প্রতিপক্ষকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিততে তৈরি। সেমিফাইনালে বিশ্বের সেরা দলকে হারিয়েছে আমার ফুটবলাররা। এই জয়টা ওদের প্রাপ্য ছিল। কারণ দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করেছে। নিষ্ঠা, সংহতি ও প্রতিভা তুলে ধরেছে খেলায়। তারই ফসল এটা। আর একারণেই যেটা কঠিন মনে হয়েছিল ফ্রান্সের বিরুদ্ধে খেলা, সেটা অনায়াসে জিতেছে। একটা উপভোগ্য ফুটবল উপহার দিয়ে।’‌

ফ্রান্সের বিরুদ্ধে একটা অনন্য নজির গড়েছে স্পেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টানা ৩৭ ম্যাচ অপারজিত থাকার রেকর্ড এতদিন শুধু ছিল ইতালির দখলে। তারা ২০১৮ থেকে ২০২১ পর্যন্ত এই রেকর্ডের অধিকারী ছিল। ফ্রান্সকে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হারিয়ে ইতালির টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলল স্পেন। নিউ জার্সির ফাইনাল জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলে স্পেন টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার অনন্য নজির গড়বে এককভাবে। চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূণ্য ড্র করার পর স্পেন কোচ ও ফুটবলারদের কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। তবে তাতে বিচলিত হননি স্পেন কোচ ফুয়েন্তে। তিনি মনে করিয়েছিলেন সমালোচকদের, ২০১০ বিশ্বকাপে স্পেন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল প্রথম ম্যাচ হেরেও। ফুটবলারদের ওপর তাঁর সেই আস্থা রাখাটা কাজে দিয়েছে। নকআউটে পর্যায়ে পর্তুগাল, বেলজিয়াম ও ফ্রান্সের মতো হেভিওয়েট দলকে হারিয়ে স্পেন ফাইনালে গেছে গোটা টুর্নামেন্টে মাত্র এক গোল হজম করে। তাই এটা বলার অপেক্ষা রাখে না স্পেন ডিফেন্স কতটা জমাট, আর সেটা ভাঙাটা কতটা কঠিন।

স্পেন কোচ ফুয়েন্তে বলেন, ‘‌ আগেই বলেছিলাম ধীরে ধীরে আমাদের খেলায় উন্নতি ঘটাতে হবে। কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ জিততে পারলে ভাল লাগত। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ছিল সঠিক সময়ে পিক ফর্মে পৌঁছানো। সেটা সম্ভব হয়েছে। দল দারুন শেপে রয়েছে। ছন্দে খেলছে। পিক ফর্মে উঠেছে। ফাইনালে পছন্দের প্রতিপক্ষ বলে কিছু ভাবছি না। আর্জেন্টিনা বা ইংল্যন্ডের মধ্যে। দু’‌টো দলের খেলার বৈশিষ্ঠ ভিন্ন। হ্যাঁ, ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে আর্জেন্টিনাকে পেলে বেশি ভাল লাগবে। কারণ আমি ওদের কোচ লিওনেল স্কালোনির বন্ধু। তবে ইংল্যান্ড পেলেও খারাপ লাগবে না। যেই সামনে পড়ুক, লক্ষ্য একটাই নিজেদের ভাল খেলার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ট্রফি জিতে ঘরে ফেরা।’‌

পরপর ৩টি বড় মাপের টুর্নামেন্টে ফ্রান্সকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা স্পেনকে থামাতে পারে কিন আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড ম্যাচের বিজয়ী দল, জন্য নিউ জার্সির ফাইনালের রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *