ছবি— বিসিসিআই এক্স
অলস্পোর্ট ডেস্ক: ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলে কোচিং নিয়ে একটি সংকট দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে; কারণ খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতে দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা ম্যানেজমেন্টকে জানিয়েছেন। যদিও চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই ডাচ কোচকে চলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি; তবে একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, গৌতম গম্ভীরের নেতৃত্বাধীন ম্যানেজমেন্টের একটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়ার কারণেই দুশখাতে এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন।
পিটিআই-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের সহকারী কোচ হিসেবে যোগ দেওয়ার সময় তাঁকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে তাঁকে দলের ফিল্ডিং কোচের দায়িত্বও দেওয়া হবে। কিন্তু প্রাক্তন প্রধান কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের আমলে কোচিং প্যানেলে যুক্ত হওয়া টি দিলীপই গম্ভীরের নিয়োগের পরেও ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব ধরে রাখেন।
দলে যোগ দেওয়ার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের অপেক্ষায় রয়েছেন দুশখাতে। দিলীপকে একসময় বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে তাঁকে পুনরায় ফিল্ডিং কোচ হিসেবে বহাল রাখা হয়—এই বিষয়টি নেদারল্যান্ডসের প্রাক্তন এই ব্যাটারের হতাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিসিআই-এর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পিটিআই-কে বলেন, ‘‘ব্যাটিং কোচ হিসেবে সিতাংশু কোটাক রয়েছেন, আর ব্যাটারদের দেখভালের জন্য স্বয়ং গৌতি (গম্ভীর) তো রয়েছেনই। পেসারদের দায়িত্বে রয়েছেন মর্নি (মরকেল) এবং স্পিনারদের দেখভাল করেন সাইরাজ (বহুতুলে)। যখন টেন্ডোকে (তাঁর ডাকনাম) দলে আনা হয়েছিল, তখন তাঁকে ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।’’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘‘২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর অভিষেক নায়ার (সহকারী কোচ), সোহম দেশাই (স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ) এবং অরুণ কানাদের (ম্যাসিওর) পাশাপাশি দিলীপকেও সরিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দলের একজন সিনিয়র খেলোয়াড়ের সুপারিশের কারণে দিলীপের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়। ফলে টেন্ডোর আসলে সুনির্দিষ্ট কোনও দায়িত্ব বা ক্ষেত্র ছিল না। তিনি একজন চমৎকার কোচ, কিন্তু দিলীপ সেখানে থাকায় তাঁকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়নি।’’
এও জানা গিয়েছে যে, মূলত ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পরেই সাপোর্ট স্টাফদের তালিকা থেকে দিলীপের সরে দাঁড়ানোর কথা ছিল। বোর্ড তাঁর পাশাপাশি সহকারী কোচ অভিষেক নায়ার, স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ সোহম দেশাই এবং ম্যাসিওর অরুণ কানাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে ভারতীয় দলের এক সিনিয়র সদস্য তাঁর পক্ষে সুপারিশ করায় দিলীপ চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর বিষয়ে স্বাক্ষর করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
দুশখাতের বিষয়ে সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ‘‘তিনি একজন অসাধারণ কোচ, কিন্তু ফিল্ডিং কোচের পদটি আগে থেকেই পূর্ণ থাকায় তাঁর দক্ষতার পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।’’
বর্তমানে মনে হচ্ছে, ফিল্ডিং কোচের পদ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে দিলীপ ও দুশখাতের মধ্যে কেবল একজনই গম্ভীরের কোচিং স্টাফের অংশ হিসেবে টিকে থাকতে পারবেন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
