সহাল আব্দুল সামাদ
অলস্পোর্ট ডেস্ক: অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবেই তাঁকে খেলাবে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, এই পরিকল্পনার কথা জেনেই সবুজ-মেরুন শিবিরে সই করেছেন সহাল আব্দুল সামাদ এবং এই সিদ্ধান্ত তাঁর ফুটবলে আরও উন্নতি আনবে বলে বিশ্বাস করেন।
দিন দশেক আগে ভারতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেলা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার কেরালা ব্লাস্টার্সের সহাল আব্দুল সামাদকে মোটা অঙ্কের ট্রান্সফার ফি ও এক ফুটবলারের পরিবর্তে সই করায় সবুজ-মেরুন বাহিনী। গত মরশুমে হিরো আইএসএলে তিনি কুড়িটি ম্যাচ খেলে তিনটি গোল করেন ও দু’টি গোলে সহায়তা দেন। এছাড়াও হিরো সুপার কাপে তিনটি ম্যাচে একটি অ্যাসিস্ট ছিল তাঁর। সম্প্রতি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে মঙ্গোলিয়ার বিরুদ্ধে একটি গোল করেন তিনি। তবে গোল করার চেয়ে গোলের সুযোগ তৈরিতে তিনি বেশি পারদর্শী।
আসন্ন মরশুমে যে দল গড়েছে মোহনবাগান এসজি, তাতে একাধিক বিশেষজ্ঞ স্ট্রাইকার রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কাতারে গত বিশ্বকাপের আসরে মাঠে নামা সেন্টার ফরোয়ার্ড জেসন কামিংস ও আলবানিয়ার জাতীয় দলের হয়ে ইউরো ২০১৬-য় খেলা সেন্টার ফরোয়ার্ড আরমান্দো সাদিকু রয়েছেন হুয়ান ফেরান্দোর দলে। তাঁদের গোলের বল সাপ্লাই করার জন্য হুগো বুমৌস, দিমিত্রিয়স পেট্রাটসের মতো দুর্দান্ত অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারও রয়েছেন সবুজ-মেরুন বাহিনীতে। তাঁদের সঙ্গে সহাল যোগ দিলে দলের আক্রমণ বিভাগ বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠবে, এমনই ধারণা থেকে তাঁকে নেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে কেরালার কান্নুড় থেকে উঠে আসা এই তারকা মিডফিল্ডার বলেন, “অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলতেই আমি সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দবোধ করি। কারণ, এই পজিশনেই আমি নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারি”। সম্প্রতি সর্বভারতীয় ইংরাজি দৈনিক ‘দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই কথাগুলি বলেন সহাল।
তিনি এই প্রসঙ্গে আরও বলেন, “বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে কথা বলার সময় আমি প্রথমেই জেনে নিই, আমাকে তারা কোন জায়গায় খেলাতে চায়। মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট আমাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবেই তারা আমাকে চায়। ওদের এই পরিকল্পনাই আমাকে এই ক্লাবে সই করতে উদ্বুদ্ধ করে। তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও আমার খুবই ভাল লেগেছে। সবচেয়ে বড় কথা হিরো আইএসএলে ওদের ট্র্যাক রেকর্ডও বেশ ভাল”।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ক্লাব আল এতিহাদ অ্যাকাডেমিতে চার বছর প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরে ২০১৭-র সেপ্টেম্বরে কেরালা ব্লাস্টার্সে যোগ দেন তিনি। ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে ৩০টি ম্যাচ খেলে তিনটি গোল করেছেন তিনি। হিরো আইএসএলে এ পর্যন্ত ৯২টি ম্যাচে ১০টি গোল করেছেন সহাল। তিনি যোগ দেওয়ায় সবুজ-মেরুন বাহিনীর মাঝমাঠের শক্তি যে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে, এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু সত্যিই তাঁকে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবেই খেলাবেন কি না, তা নিয়ে কিছুটা হলেও ধন্দ ছিল। সহালের এই কথায় সেই ধন্দ নিশ্চয়ই কেটে যাবে সমর্থকদের।
মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ তো বটেই, উইং দিয়ে আক্রমণে ওঠার ব্যাপারে সহালকে বিশেষজ্ঞ বলা চলে। এর আগে ভারতীয় দলের আর এক অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার অনিরুদ্ধ থাপাকেও দলে নিয়েছে মোহনবাগান এসজি। তাঁর সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি করে কলকাতার ক্লাব। আসন্ন হিরো আইএসএলে মোহনবাগান এসজি-কে নিয়ে যে চিন্তায় থাকবে তাদের প্রতিপক্ষরা, এই নিয়ে কোনও সন্দেহই নেই।
এ রকম একটা শক্তিশালী দলের অংশ হতে পেরে খুবই খুশি সহাল এই সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমার কাছে এর চেয়ে খুশির খবর আর কীই বা হতে পারে? মোহনবাগানের সঙ্গে থাকতে পেরে আমি গর্বিত এবং আমার ভবিষ্যৎ এখানে কেমন হতে পারে, তা ভেবে আমি রোমাঞ্চিত। আমার মনে হয় আমি একেবারে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি”। এই প্রথম ভিনরাজ্যের এক ক্লাবে গিয়ে নিজেকে একই রকম ভাবে উজাড় করে দিতে পারবেন কি না সহাল, এটা একটা বড় প্রশ্ন।
তবে পেশাদার ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার এর চেয়ে বড় সুযোগ বোধহয় সহাল আর পাবেন না। কারণ, তাঁকে শুধু যে অন্য দলের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে লড়তে হবে, তা নয়, তাঁকে লড়াই করতে হবে নিজের দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে, যেটা অবশ্যই সুস্থ প্রতিযোগিতা। তবে এই মরশুমে এই দলের প্রথম একাদশে জায়গা পাকা করা সব সদস্যের কাছেই কঠিন হতে চলেছে।
(লেখা আইএসএল ওয়েবসাইট থেকে)
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
