অলস্পোর্ট ডেস্ক: ডার্বির হার এখন অতীত। সামনে এএফসি কাপ । বুধবারই এএফসি কাপের প্রিলিমিনারি পর্যায়ের ম্যাচ খেলতে নামতে হচ্ছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে। প্রতিপ* নেপালের মাচিন্দ্রা এফসি। ডার্বির পরই বাগান কোচ হুয়ান ফেরান্দো জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই হারের প্রভাব যদি পরের ম্যাচের উপর পড়ে তাহলে সেটা ভুল হবে। তিনি পর দিন থেকেই এএফসি কাপের প্রস্তুতিতে নামার কথা জানিয়েছিলেন। সেই একই কথার রেশ শোনা গেল এদিনও। সোমবার প্রি-ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে হুয়ান ফেরান্দোর সঙ্গে এসেছিলেন আনোয়ার আলি। তাঁর জীবনের প্রথম ডার্বি হেরে যাওয়ার রেশ কিন্তু এখনও রয়েছে তাঁর গলায়। বলছিলেন, ‘‘প্রথম ডার্বি ছিল আমার। সেটা হেরে যাওয়াটা দুঃখের কিন্তু আমি খেলাটা উপভোগ করেছিল। আমরা এএফসি কাপের জন্য প্রস্তুত। সমর্থকদের বলব আমাদের পাশে থাকতে।’’
হুয়ানের কথায় প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন আন্তর্জাতিক ম্যাচ কখনওই সহজ হয় না। তবে দল সব সময়ই সব ম্যাচ জিততে চায়। যদিও তিনি নিজেই প্রথম থেকে বলে এসেছেন, তাঁর কাছে মুখ্য এএফসি কাপ। তাঁর কথার রেশ ধরে ক্লাব মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কাও সেই কথাই বলে দিয়েছেন শুনে কোচ যেন কিছুটা স্বস্তি পেলেন। তবে ডার্বি যে তাঁকে অনেক কিছুই শিখিয়েছে সেটা মেনে নিলেন। আর সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েই এএফসি কাপের এই ম্যাচ জিতে পরের রাউন্ডে যেতে চান তিনি। পরের রাউন্ডে যাওয়াটাই এই মুহূর্তের প্রাথমিক লক্ষ্য মোহনবাগান ব্রিগেডের।
তিনি জানেন দলের মধ্যে উন্নতি করতে হবে। হাবাসের সঙ্গে বিশেষ করে এই ম্যাচ নিয়ে আলাদা করে কোনও কথা হয়নি তবে সবসময়ই কথা হয় আর অবশ্যই ফুটবল নিয়ে কথা হয়, দলের উন্নতি নিয়ে কথা হয়। তবে এই দলকে তাঁর থেকে ভাল কেউ চেনে না। তাই এএফসি কাপের জন্য সেরা দলই নামাতে চান তিনি। তাতে তিনি দেশি না বিদেশি তা নিয়ে ভাবতে চান না। হুয়ান ফেরান্দো বলছেন, ‘‘সব বিদেশিদের খেলানোর সুযোগ থাকলেও আমার লক্ষ্য সেরা দল নামানো। সেই দলে সেই জায়গা পাবে যে যোগ্য। তাঁর অভিজ্ঞতা, তাঁর কোয়ালিটি দেখেই দল তৈরি হবে। আমি প্লেয়ারদের জাতীয়তা নিয়ে ভাবি না।’’
এর সঙ্গে তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘‘কিয়ান যদি দিমিত্রির থেকে ভাল খেলে তাহলে কিয়ান খেলবে। ব্রেন্ডন যদি ভাল হয় তাহলে ও খেলবে। ক্লাবের জন্য, দলের জন্য যেটা সেরা হবে আমি সেই দলই নামাবো। জেসন কামিংস, আর্মান্দোরা গত সপ্তাহেই যোগ দিয়েছেন। ওদের দলের সঙ্গে তাল মেলাতে হবে। আমি জানি ওদের দেখার জন্য সবাই মুখিয়ে রয়েছে। তবে প্লেয়ারদের সময় লাগে মানিয়ে নিতে। আগের দিন ২০ মিনিট খেলেছে। আশা করছি পরের ম্যাচে ওর আরও উন্নতি করবে। অনুশীলনের পর সিদ্ধান্ত নেব।’’
মাচিন্দ্রা এফসির ফুটবলার বিশাল শ্রেষ্ঠা জানেন মোহনবাগান বড় ক্লাব। তাঁদের তারকাখচিত দল। তবে নাম মনে করতে না পারলেও বললেন, অস্ট্রেলিয়া থেকে সদ্য যে প্লেয়ার এসেছেন তিনি কিন্তু খুব বড় নাম। মনে করিয়ে দেওয়ায় বললেন জেসন কামিন্স। সঙ্গে মোহনবাগান খেলবে ঘরের মাঠে। সেটাই ভাবাচ্ছে তাঁকে। তিনি বলেন, ‘‘অ্যাওয়ে ম্যাচ সব সময়ই কঠিন। সেটা যে কোনও দলের ক্ষেত্রেই। তবে আমরা অনেক খেটেছি এবং আমরা ভাল খেলব।’’
বিশাল বলছেন, মোহনবাগানের খেলা তিনি দেখেছেন। মোহনবাগানের খবরও রাখেন। সেই মতই নিজেদের প্রস্তুত করেছে দল। গোটা দল মিলে নিজেদের সেরাটাই দিতে চান তাঁরা। দলে চারজন বিদেশি ও ১০ জন দেশের প্লেয়ার রয়েছেন। কলকাতা খেলতে এসে এখানকার পরিবেশ দেখে খুশি মাচিন্দা কোচ কিশোর কুমার। তাঁরা প্রস্তুত মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
