ফ্রান্স ১( এমবাপে, একিতিকে) ব্রাজিল ১(বার্মের)
অলস্পোর্ট ডেস্ক: বিশ্বকাপ শুরু হতে বেশি দেরি নেই। অথচ ব্রাজিল ফুটবল দল এখনও নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায়নি। বোস্টনের নিকটবর্তী জিলেট স্টেডিয়ামের মাঠে আন্তজার্তিক প্রীতি ম্যাচে ১০ জনে খেলে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফ্রান্স বোঝালো, তারা তৈরি বিশ্বকাপের জন্য।
রাশিয়া বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে রানার্স তারা। ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপটা ফ্রান্স কোচ হিসেবে দিদিয়ের দেঁশর কাছে শেষ দায়িত্ব পালন। দেশঁ যে তাঁর শেষ বিশ্বকাপে একটা বিশেষ ছাপ রেখে যাবেন, সেটা বোঝা গেছে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে আগাগোড়া আধিপত্য বিস্তারের খেলায়। সেখানে কার্লেস আনসোত্তির কোচিংয়ে থাকা ব্রাজিল ম্যাচে দাগ কাটতে ব্যর্থ। ফরোয়ার্ড লাইনে ভিনিসিয়াস জুনিয়ার ও রাপিনহার মতো ফুটবলার থাকা স্বত্বেও।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে কিলিয়ান এমবাপের গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। ৩২ মিনিটে ওসুমানের একটি থ্রু ধরে গোলকিপার এডারসনের পাশ দিয়ে ব্রাজিলের গোলে বল পাঠান এমবাপে। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের খেলার ছন্নছাড়া ভাবটা কিছু কেটেছিল। মনে হচ্ছিল, খেলাটা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে। ম্যাচের ফেরার বড় সুযোগ এসে গিয়েছিল ফ্রান্সের দায়োত উপামেসানো লাল কার্ড দেখায়।
কিন্তু ঘটল উল্টোটা। ১০ জন হয়ে যাওয়ার পরও ফ্রান্সের দাপট কমেনি। ৬৫ মিনিটে ফ্রান্স দ্বিতীয় গোল পায়। মাইকেল ওলিসের বাড়ানো বল ব্রাজিল গোলকিপার এডারসনের মাথার ওপর দিয়ে জালের ভেতর পাঠান ফ্রান্সের হুগো একিতিকে। তারপর অবশ্য ব্রাজিল গোল করে ব্যবধান কমায়। ৭৮ মিনিটে ফ্রিকিকের পর জটলা থেকে গোল করেন ব্রাজিলের বার্মের। তারপর সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল ব্রাজিলের কাছে। ভিনিসিয়াস জুনিয়ারের প্রচেষ্টা নজরে এসেছিল। জোয়াও পেড্রো আর ৯৭ মিনিটে খুব কাছ থেকে ভিনিসিয়াস গোলের সুযোগ নষ্ট করার পর এটা পরিষ্কার হয়ে যায়, দিনটা ব্রাজিলের ছিল না।
ম্যাচ শেষে এমবাপের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া, ‘ এটা আমাদের কাছে শুধু একটা মামুলি ফ্রেন্ডলি ম্যাচ ছিল না। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পেয়ে জানতে পারলাম বিশ্বকাপের আগে আমরা ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। ট্যাক্টিকালি ও টেকনিকালি। এই ধরনের ম্যাচ খেলা একটা দারুন অনুভূতি। আমি ম্যাচের আগেই বলেছিলাম, এই ম্যাচের ফল দেখে কোনও সিদ্ধান্ত আসা উচিত হবে না। ম্যাচ জেতার পরও তাই বলছি। এটা বিশ্বকাপ ফাইনাল হিসেবে ভাবতে নারাজ। আমরা ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নিজেদের খেলাটা তুলে ধরতে পেরেছি। সংগঠিত ফুটবল খেলায় জয় এসেছে। এটা আমাদের ধরে রাখতে হবে বিশ্বকাপে ভাল ফল করতে হলে। আমার একটাই লক্ষ্য ছিল মাঠে নেমে সেরা দেওয়া। সব ফুটবলারের শৈশবের স্বপ্ন থাকে ফ্রান্স-ব্রাজিল ম্যাচে খেলা। আমারও ছিল। যতদিন খেলব, সেই স্বপ্ন থাকবে। এটা জীবনের একটা মূল্যবান প্রাপ্তি।’
কোচ দিদিয়ের দেশঁর জাতীয় দলের কোচ থেকে বিদায়কে স্মরণীয় করতে রাখতে এমবাপে আরও একবার বিশ্বকাপ জিততে ঝাঁপাবেন, এটা বলাই বাহুল্য।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
