মুনাল চট্টোপাধ্যায়: চার বছরের ক্লাব ডায়মন্ড হারবার। এই অল্পসময়ে চমকপ্রদ উত্থান। কলকাতা লিগ, আইলিগের আঙিনা পেরিয়ে ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে। বুধবার ফাইনালে ওঠার পথে সবচেয়ে বড় হার্ডল ইস্টবেঙ্গল। যারা দু’দিন আগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে কোয়ার্টারফাইনালে ডার্বিতে আধিপত্য নিয়ে হারিয়ে বাড়তি চাঙ্গা। তাই বলে ইস্টবেঙ্গলের মুখোমুখি হওয়ার আগে কুঁকড়ে থাকছে না কিবু ভিকুনার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডায়মন্ডহারবার। বরং শক্তি ও ক্লাবের ইতিহাসে পিছিয়ে থাকলেও ইস্টবেঙ্গলকে কড়া চ্যালেঞ্জ জানাতে তৈরি জবি জাস্টিন সহ কিবুর দলের বাকি ফুটবলাররা।
মোহনবাগানের কাছে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে হারের পর সেমিফাইনালে কলকাতার আর এক হেভিওয়েট দল ইস্টবেঙ্গলের মোকাবিলা করা কতটা কঠিন? যাদের যুবভারতীতে মাঠ ভরতি সমর্থক থাকবে। কিবুর কাছে প্রশ্ন ছিল, মোহনবাগান ম্যাচ হারার পর কী এমন পরিবর্তন আনেন দলে ও খেলায়, যাতে জামশেদপুরকে কোয়ার্টারফাইনালে তাদের মাঠে সাইরুতকিমার করা জোড়া গোলে হারানো সম্ভব হয়েছে? ইস্টবেঙ্গলকে রুখতে কী কৌশল নেবেন?
কিবুর উত্তর,‘ মানতে দ্বিধা নেই, কলকাতার মাঠে মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে খেলা সবচেয়ে কঠিন। সেই চ্যালেঞ্জটা মাথায় নিয়েই বুধবার সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলে হারানোর লক্ষ্য নিয়ে আমার ফুটবলারদের মাঠে নামতে হবে। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচে আমাদের খেলায় কিছু ভুল হয়েছিল। বিশেষ করে দুটো গোল হজমের ক্ষেত্রে ডিফেন্সের। তারপরও আমরা লড়াইয়ে ছিলাম। কিন্তু রেফারির দেওয়া পেনাল্টি আর লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত আমাদের লড়াই থেকে ছিটকে দেয়। জামশেদপুর ম্যাচ খেলার আগে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে হওয়া ভুল ত্রুটি শোধরানোয় জোর দি। পাশাপাশি আরও কিছু অ্যাডজাস্টমেন্ট আনি দল গঠনে ও খেলার ধরনে। জামশেদপুরেও প্রতিপক্ষ দর্শকদের সামনে খেলে জিতেছি। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে সেই মানসিকতা ধরে রেখেই খেলবে আমার ফুটবলাররা। ভুললে চলবে না, আমরাই একমাত্র দল যারা সবচেয়ে বেশি আইএসএলের দলের বিরুদ্ধে খেলে সেমিফাইনালে উঠেছি। ফুটবলারদের জামশেদপুর ম্যাচ শেষে বলি, যেটা তোমরা মাঠে দিয়েছ, এর থেকে বেশি কিছু তোমাদের আর দেওয়ার ছিল না। এখান থেকে খালি উন্নতি করা যায়, কিন্তু বাড়তি এমন কিছু করতে যেও না, যাতে সেটা খারাপ হয়।’
চোট সমস্যায় ক্লেইটন সিলভেরা নেই। তাই ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে বিদেশি ফুটবলার বলতে কোচ কিবুর হাতে ডিফেন্ডার মিখেল কোরটাজার ও স্ট্রাইকার লুকা মাজশেন। মাত্র দু’জন বিদেশি নিয়ে ইস্টবেঙ্গলের মতো দলের দলকে হারানো কি সম্ভব? কিবুর উত্তর, ‘ফুটবলে নাথিং ইজ ইমপসিবল। এটা ঠিক, ইস্টবেঙ্গল ধারে ভারে এগিয়ে। ওদের হাতে পুরো কোটার বিদেশি। একইসঙ্গে একঝাঁক নামী ভারতীয় ফুটবলার। তাই ওদের সমীহ না করাটা বোকামি। শুধু মিগুয়েল, সল নয় বা অন্য বিদেশি ফুটবলাররা, মহেশ ও বিপিন সহ দলের বাকি ভারতীয় ফুটবলারদের কথাও বলতে হবে মোহনবাগান ম্যাচ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে। তার মানে এই নয়, মাঠে নামার আগেই আমরা হেরে বসে আছি। আগেই বললাম, ফুটবলে এমন অনেক দৃষ্টান্ত আছে, যেখানে কাগজে কলমে পিছিয়ে থাকা দল শক্তিতে এগিয়ে থাকা দলের বিরুদ্ধে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে লড়াইয়ের জোস ও বুদ্ধিদীপ্ত খেলার জোরে। পোলিশ লিগে কোচিং করার সময় আমার জীবনে এমন ঘটনা ঘটেছিল। সুতরাং এক্ষেত্রেও একইরকম মানসিকতা নিয়েই ফুটবলাররা ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে ডুরান্ড ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়তে।’
লাল হলুদ জার্সিতে খেলেই কলকাতা ময়দানে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলেন জবি জাস্টিন। পরবর্তী সময়ে চোট সমস্যা তাঁকে ভারতীয় ফুটবলের মূল স্রোত থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে গিয়েছিল। ডায়মন্ড হারবারের খেলে তিনি আবার প্রচারের আলোয়। সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে হারানোর ব্যাপারে কতটা আশাবাদী? ডায়মন্ড হারবারের হয়ে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে গোল করলে কি সেলিব্রেশন করবেন? জবির জবাব,‘ ইস্টবেঙ্গলে খেলার সুবাদে কলকাতায় আমি যাবতীয় সুনাম ও সম্মান অর্জন করেছিলাম। লাল হলুদের শক্তি আমি জানি। ওরা আইএসএলের অন্যতম সেরা দল। মোহনবাগানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠায় ওদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। কিন্তু তার মানে আমরা পিছিয়ে থেকে নামব না মাঠে। কোচের নির্দেশ মেনে খেলে ওদের হারিয়ে ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে লড়াইয়ের জমি এতটুকু ছাড়ব না। একটা সময় ছিলাম ইস্টবেঙ্গলে। কিন্তু এখন আমি ডায়মন্ড হারবারের ফুটবলার। সেই পেশাদারি মানসকিতা থেকে যদি একটা দর্শনীয় গোল করি, তাহলে সেইমুহূর্তে আবেগের বশে কী করব, কতটা সেমিব্রেশনে মাতব, সেটা এখন থেকে বলা সম্ভব নয়।’
প্রচারমাধ্যমের খোঁচা মারা প্রশ্ন ছিল,একসময় আপনি মোহনবাগান কোচ ছিলেন। এবার ডায়মন্ড হারবারের কোচ। মোহনবাগান সদস্য-সমর্থকদের ডুরান্ড ডার্বি হারের ক্ষত মিটতে পারে, আপনি সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে হারালে। তাই আপনি কি মোহনবাগান সমর্থকদের সেমিফাইনালে আপনার দলের হয়ে গলা ফাটানোর জন্য আবেদন করবেন? কিবুর সাফ জবাব, তিনি শুধু নিজের সমর্থকদেরই বেশি করে মাঠে আসতে অনুরোধ জানাতে পারেন, অন্য কোনও দলের সমর্থকদের নয়। ম্যাচ জিততে চান নিজেদের ক্ষমতা জোরে, অন্যের ওপর ভরসা করে নয়।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
