Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India
ক্রিশ্চিয়ানো রোনান্ডো

 

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ এর আগের বিশ্বকাপগুলোয় পর্তুগাল চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, এমন কথা কোনও ফুটবল বিশেষজ্ঞর মুখে শোনা যায়নি। এমনকি যে বিশ্বকাপে ফিগোর মতো তারকার পাশে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর অভিষেক, সেই ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপেও না। অথচ এবার আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল,ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, জার্মানি, স্পেনের সঙ্গে পর্তুগালকে কাপ জেতার দাবিদার হিসেবে অনেকে তুলে ধরেছেন। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে অনামী কঙ্গোর বিরুদ্ধে ১-‌১ ড্র করার পর পর্তুগালের গা থেকে ফেবারিট তকমা খসে পড়েছে। তার থেকেও বড় কথা, যে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে নিয়ে পর্তুগালের সমর্থকরা স্বপ্নের জাল বুনছিলেন, তাঁরাও হতাশ হয়েছে সিআই সেভেনের নিষ্প্রভ খেলা দেখে। বিশেষ করে এমবাপে, হালান্ড, মেসির ঝকঝকে গোলের পর রোনাল্ডোকে দেখে মনে হয়েছে পড়ন্ত বেলার নিস্তেজ সূর্য। তবু তাঁর ওপর ভরসা হারাতে নারাজ পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। কঙ্গো ম্যাচে হতশ্রী পারফরমেন্সের পরও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন

ভাবা যায়, পরপর পাঁচ বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনান্ডোর কোনও গোল নেই। আর গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টানা ১০ ম্যাচে গোল পাননি তিনি। যার মধ্যে বিশ্বকাপ ও ইওরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ রয়েছে। ২০২১ সালের ১৯ জুনের পর রোনাল্ডো পেনাল্টির বাইরে কোনও ফিল্ড গোল করেননি ম্যাচের প্রতিটি মিনিট খেললেও। পর্তুগাল গত চার ম্যাচে মাত্র এক গোল করেছে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে। কঙ্গোর বিরুদ্ধে ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন রোনাল্ডো। শট নিয়েছেন মাত্র তিনবার। তাও সেটা গোলের ধারেকাছে ছিল না। এই নিয়ে ষষ্ঠবার বিশ্বকাপের ম্যাচে রোনাল্ডো গোল লক্ষ্য কের কোনও শট নিতে পারেননি।

তারপরেও রোনাল্ডোর ওপর আস্থা হারাচ্ছেন না পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। মনে করেন না কঙ্গো ম্যাচে রোনাল্ডোকে বসালেই সমস্যার সমাধান হত। তাঁর সাফাই, ‘‌ এটা ভাবার কোনও মানেই হয় না, যে ম্যাচ জেতার জন্য গোল পাওয়া দরকার, সেই ম্যাচে রোনাল্ডোর মতো বিশ্বের সেরা গোলদাতাকে তুলে নিলেই সমস্যা মিটে যেত। রোনাল্ডো পর্তুগালের জার্সিতে ১৪৩ গোল করেছে। মেসির মতো রোনান্ডো ষষ্ঠবার বিশ্বকাপ খেলছে নিজের যোগ্যতার জোরে। আসলে সমস্যাটা অন্য জায়গায়। আমরা শুরুটা ভাল করেছিলাম। কঙ্গোর বিরুদ্ধে জোয়াও নাভাসের গোলে এগিয়েও গিয়েছিলাম। খেলার ওপর নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিপক্ষ বক্সে পৌঁছে যাওয়ার ব্যাপারটা ঠিকঠাক হয়েছিল শুরুতে। কিন্তু গোল পাওয়ার পর যে আবেগটা নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার ছিল, সেটার অভাব দেখা গেছে পরবর্তী সময়। দ্বিতীয় গোল করার ক্ষেত্রে যে মনঃসংযোগ থাকা দরকার ছিল, তা দেখা যায়নি দলের খেলায়। তাতেই কঙ্গো রক্ষণ নিজেদের গোছানোর সুযোগ পায়। প্রতিআক্রমণ হানার সুযোগ করে দি। তাতেই গোল হজম করতে হয়েছে।’‌

৫২ বছর বাদে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলছে কঙ্গো। এর আগে স্পেনকে গোলশূণ্য ফলে রুখে দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে কেপ ভার্দে। কঙ্গো দ্বিতীয় আফ্রিকান দেশ, যারা পর্তুগালের মতো হেভিওয়েট দলের সঙ্গে ১-‌১ ড্র করে এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে এমন একটা ফলের পরও পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজ উদ্বিগ্ন নন। তাঁর মতে, ‘‌ এটা কোনও অশনি সঙ্কেত নয়। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন ঘটনা হয়েই থাকে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে প্রথম ম্যাচে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। তারাই শেষপর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরেছিল স্পেন। পরে তারাও চ্যাম্পিয়ন হয়। শুরুর ম্যাচের পারফরমেন্স দিয়ে তাই একটা দলের সার্বিক সাফল্য বিচার করা ঠিক নয়। এটা ঠিক আমরা কঙ্গো বিরুদ্ধে প্রথম গোল করার পর নিজেদের আবেদ সংযত রাখতে পারিনি। বরং সেটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আমাদের ফুটবলাররা বাড়তি ঝুঁকি নেওয়া বন্ধ করে ওই গোলের পর। ফাঁকা জায়গা খোঁজার কাজটাও। ফাইনাল থার্ডে গিয়ে বারবার তাতেই আটকেছে আমার ফুটবলাররা। কঙ্গো ম্যাচে ড্র করার শিক্ষাটা ফুটবলারদের কাজে লাগবে। ওরা বুঝছে ঠিক করা উচিত ছিল। আমিও ওদের সঙ্গে বসব পরের ম্যাচগুলোর কৌশল কী হবে ঠিক করতে।’‌

পর্তুগালের সামনে এবার আরও কঠিন লড়াই। হিউস্টনে মঙ্গলবার তাদের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান। যারা কলম্বিয়ার কাছে প্রথম ম্যাচে ০-‌২ গোলে হারায়, আরও মরিয়া হয়ে ঝাঁপাবে পর্তুগালের বিরুদ্ধে। তাই ওই ম্যাচ জিততে হলে রবার্তো মার্টিনেজের দলকে কঙ্গো ম্যাচের হ্যাংওভার কাটিয়ে অনেক উন্নত মানের ফুটবল খেলতে হবে। আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনান্ডোকে প্রমাণ করতে হবে, মেসির সঙ্গে শ্রেষ্ঠত্বের যে তুলনা টানা হয়, সেটা অমূলক নয়। উজবেকিস্তান ম্যাচ না জিতলে পর্তুগালে বিপদ আছে। কারণ গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া। ২৮ জুন ওই ম্যাচে ফল খারাপ হলে গ্রুপ পর্যায়ের বাধা টপকানো কঠিন হয়ে যাবে পর্তুগালের। আর বিশ্ববাসী যে মেসি-‌রোনাল্ডো কোয়ার্টারফাইনাল দ্বৈরথ দেখার অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন, সেটা পূরণ হবে না পর্তুগাল গ্রুপ শীর্ষে না থাকলে। আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল গরুপ শীর্ষে থেকে আর রাউন্ড অফ ৩২ ও ১৬ জিতলে, তবেই এই দু’‌দলের কোয়ার্টারফাইনালে দেখা হবে। মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা গ্রুপ শীর্ষে থেকেই নকআউট পর্বে যাবে। রাউন্ড অফ ৩২ ও ১৬র বাধার টপকে যাবে বলে ধরে নেওয়া যায়। কিন্তু পর্তুগালের কঙ্গো ম্যাচে যে ফর্ম দেখা গেছে, তাতে অতদূর পর্যন্ত এগোবে বলে মনে হয় না। সবচেয়ে বড় কথা, আর্জেন্টিনার মতো নিজেরা গ্রুপ শীর্ষে না থাকলে পর্তুগালের কোয়ার্টারফাইনালে মেসির মুখোমুখি হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *