অলস্পোর্ট ডেস্ক: ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ৪-২ গোলের জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ইংল্যান্ড। তারা ২ গোলে এগিয়ে গেলেও প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে ক্রোয়েশিয়া গোল করে সমতা ফিরিয়েছিল। কিন্তু বিরতির পর স্বমেজাজে ফেরে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধে ২ গোল করে ম্যাচ জেতে। প্রথমার্ধে ২ গোল করা হ্যারি কেন জানিয়েছেন, বিরতিতে কোচ টমাস টুচেলের উজ্জীবিত বক্তব্য তাঁদের তাতিয়ে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধে তাতেই সেরা খেলাটা বেরিয়ে আসে। জয়ও।
ম্যাচের ১২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে লিড দিয়েছিলেন হ্যারি কেন। ক্রোয়েশিয়া ৩৬ মিনিটে সমতা ফেরায়। হ্যারি কেন ৪২ মিনিটে ডেকান রাইসের ক্রশে হেডে দ্বিতীয় গোল করলে আবার এগোয় ইংল্যান্ড। গ্যারি লিনেকারের দেশের জার্সিতে গোল করার রেকর্ড স্পর্শ করেন। প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময়ের ৫ মিনিটে আবার সমতা ফেরায় ক্রোয়েশিয়া মুসার গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে ছন্দে ফিরে জুড বেলিংহাম ও মার্কাস রাশফোর্ডের গোলে ৪-২ গোলে ম্যাচটা পকেটে পুরে ফেলে ইংল্যান্ড।
ম্যাচ শেষে হ্যারি কেন জানান, ‘ টমাস টুচেল বিরতিতে আমাদের পেপ টক দেন। বলেন, আমরা যেন খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে নিজেদের সেরাটা দি। সাহস দিয়ে বলেন, তাতে আর খারাপটা কী হবে? বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দাও তোমাদের ক্ষমতা কতটা। এটাই আমাদের তাতিয়ে দেয়। পুরো শক্তি নিয়ে ঝাঁপাই ম্যাচে। তাতেই ক্রোয়েশিয়া আমাদের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি। বাকি ম্যাচগুলোতেও এই মনোভাব নিয়ে খেলাটা জরুরি। যেভাবে খেলাটা শুরু করেছিলাম ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে, তাতে মনে হয়নি বিপদ আছে। কিন্তু প্রতিআক্রমণ থেকে ওরা গোল পেতেই ছবিটা বদলে যায়। আমাদের ঘাড়ে চেপে বসার চেষ্টা করে। তবে শেষপর্যন্ত মিলিত লড়াইয়ে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়তে পেরে ভাল লাগছে।’
জুড বেলিংহামের প্রতিক্রিয়া, ‘ ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের ফল নিয়ে বিরাট হৈচৈ করার কিছু নেই। চিন্তারও কারণ নেই। বরং এটা ভাল। ম্যাচের গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী একটা দল হিসেবে নিজেদের প্রকৃত চরিত্রটা আমরা তুলে ধরতে পেরেছি। আমাদের দলটা যথেষ্ট পরিণত। ম্যাচ বের করা জেতানোর পর লিডার আছে দলে। দ্বিতীয়ার্ধের ২ মিনিটের মধ্যে তৃতীয় গোল পাওয়াটা আমাদের জয়ের রাস্তাটা তৈরি করে দেয়।’
দ্বিতীয়ার্ধে রাইসকে তুলে নিয়েছিলেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুচেল। কোমরের ব্যথা ও হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট সমস্যা দেখা দেওয়ায়। টুচেল বলেন, ‘ রাইস অস্বস্তি বোধ করছিল। আমি তাই কোনও ঝুঁকি নিতে চাইনি। তাই ওকে তুলে নি। কারণ ওকে আমার দরকার পরবর্তী ম্যাচগুলোয়। রাইস জানিয়েছে, ওর সমস্যাটা বড়রকম কিছু নয়। এটা ভাল।’
দলের পারফরমেন্স ও জয় নিয়ে টুচেলের প্রতিক্রিয়া, ‘ অনেক সময় তুমি যেমনটা চাও তেমন নাও পেতে পার। এমনটাই হয়েছিল ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে একটা সময়। আমরা অনেক বেশি ব্যাকপাস নির্ভর ম্যাচ খেলছিলাম। গোলকিপারকে বল দেওয়া বেড়ে গিয়েছিল। এতে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা দেয়। তাই বিরতিতে আমি ফুটবলারদের বলি, শান্ত থাকো। আমরা গোল হজম করেছি ঠিকই, কিন্তু নিজের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে মাঠে সেরা দাও বাকি সময়। তাতে যা হওয়ার হবে। ১৭ দিনের প্রস্তুতিতে এটাই বলে এসেছি বারবার। আমি চেয়েছিলাম ওরা সাহসী হয়ে জয়ের জন্য ঝাঁপাক। সেটাই ওরা করেছে।’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
