ত্রাভিস হেড
অলস্পোর্ট ডেস্ক: যে দাপটের সঙ্গে পুরো ওডিআই বিশ্বকাপ ২০২৩-এ ভারতের ব্যাটিং জ্বলে উঠেছে তা ফাইনালে দেখা গেল না। অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আর ফিল্ডিংয়ের সামনে থমকে গেল ভারতীয় ব্যাটারদের দৌঁড়। ২৫০ রানের গণ্ডিও পার করতে পারলেন না কোহলিরা। রবিবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। প্রথমে ব্যাট করে ভারত থামে ৫০ ওভারে ২৪০ রানে। মনে করা হয়েছিল বোলাররা বাকি কাজটা করে দেবেন। কিন্তু শেষবেলায় এসে হাল ছেড়ে দিল পুরো ভারতীয় দল। দুরন্ত ছন্দে থাকা ভারতীয় ক্রিকেট দলকে কোনঠাসা করেই জয় তুলে নিল অস্ট্রেলিয়া। পার্থক্য গড়ে দিল অস্ট্রেলিয়ার অসাধারণ ফিল্ডিং এবং টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত। ২০০৩-এর বদলা আর হল না। ঘরে ফিরল না বিশ্বকাপও। ৪৩ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ছয় উইকেটে ম্যাচ জিতে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া।
ব্যাট করতে নেমে ওপেনিংয়েই ধাক্কা খেল ভারতের ব্যাটিং। শুভমান গিল ফিরে গেলেন মাত্র চার রানে। রোহিত শর্মা ভালই শুরু করেছিলেন কিন্তু বড় রানে নিয়ে যেতে পারলেন না। সেমিফাইনালের মতো ৪৭ রানে ফিরতে হল তাঁকে। সেমিফাইনালে জ্বলে উঠেছিল বিরাট কোহলি ও শ্রেয়াস আইয়ারের ব্যাট কিন্তু এদিন সেটাও হল না। শ্রেয়াস ফিরে গেলেন মাত্র চার রানে। বিরাটের ব্যাট থেকে হাফ সেঞ্চুরি এল ঠিকই কিন্তু ফাইনালের মতো মঞ্চের জন্য সেটা যথেষ্ট ছিল না। ৫৪ রান করে আউট হলেন বিরাট কোহলি। আউট হয়ে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়েছিলেন ক্রিজে যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না।
বিরাটকে যোগ্য সঙ্গত দিয়ে গেলেন লোকেশ রাহুল। ৬৬ রান এল তাঁর ব্যাট থেকে। বড় রান বলতে এটাই। এর পর আর কেউই ক্রিজে নিজেদের জমাতে পারলেন না। রবীন্দ্র জাডেজা ৯, সূর্যকুমার যাদব ১৮, মহম্মদ শামি ৬, যশপ্রীত বুমরাহ ১ রান করে আউট হয়ে গেলেন। শেষ বলে ১০ রান করে রান আউট হলেন কুলদীপ যাদব। ৯ রানে অপরাজিত থাকলেন মহম্মদ সিরাজ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন উইকেট তুলে নিলেন মিচেল স্টার্ক। দুটো করে উইকেট নিলেন জোশ হেজেলউড ও প্যাট কামিন্স। একটি করে উইকেট গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও অ্যাডাম জাম্পার।
ব্যাটের পর বল হাতেও ভারতকে সেভাবে জ্বলে উঠতে দেখা গেল না। শুরুতেই মহম্মদ শামিকে এনে একটা ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন রোহিত শর্মা। তাতে কাজও হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিংয়ের প্রথম উইকেট তুলে নিয়েছিলেন শামিই। কিন্তু তার পর কোথাও আটকে গেলেন ভারতীয় বোলাররা। ডেভিড ওয়ার্নারকে সাত রানে ফেরেন শামির বলে বিরাট কোহলিকে ক্যাচ দিয়ে। এর পর পর উইকেট নিয়ে যশপ্রীত বুমরা সাময়িক একটা চাপ সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষের উপর। ১৫ রানে মিচেল মার্শ ও চার রানে স্টিভ স্মিথকে ফেরান তিনি। ৪৭ রানে অস্ট্রেলিয়ার তিন উইকেট চলে যায়। সপ্তম ওভারের শেষ বলে শেষ উইকেট পেয়েছিল ভারত। কিন্তু তার পর খেলা ধরে নেন ওপেনার ত্রাভিস হেড ও মারনাস লাবুশাগনে।
৯৫ বলে সেঞ্চুরি হাঁকালেন ত্রাভিস হেড। তাঁর সঙ্গে সমানে সমানে লড়লেন মারনাস লাবুশাগনে। হাফ সেঞ্চুরি করলেন তিনি। এই জুটি আর ভাঙতে পারলেন না ভারতের বোলাররা। ১২০ বলে ১৩৭ রান করে মহম্মদ সিরাজের বলে শুভমন গিলকে ক্যাচ দিয়ে আউট হলেন ত্রাভিস হেড। ৫৮ রানে অপরাজিত থাকলেন লাবুশাগনে। তবে ততক্ষণেওঔ অনেক দেড়ি হয়ে গিয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট দলকে রীতিমতো নাস্তানাবুদ করেই হারিয়ে দিল অস্ট্রেলিয়া। গত ১০ ম্যাচের ভারত কোথায় গেল সেটা একটা বড় প্রশ্ন থেকেই গেল। ১৫ রান বাকি থাকতেই গোটা অস্ট্রেলিয়া দল চলে এসেছিল ডাগআউটে। তার অনেক আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে অজিদের জয়। জয়ের রান নিতেই সবাই ছুটে ঢুকে পড়ল মাঠে। হতাশায় ডুবে গেল পুরো গ্যালারি থেকে ভারতীয় দল। মুখ ঢেকে মাঠেই বসে পড়লেন কেএল রাহুল। কেঁদে ফেললেন সিরাজ। একরাতেই তিল তিল করে গড়া সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। অপেক্ষা আরও চার বছরের।
ভারত: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), শুভমান গিল, বিরাট কোহলি, শ্রেয়াস আইয়ার, কেএল রাহুল (উইকেটরক্ষক), সূর্যকুমার যাদব, রবীন্দ্র জাদেজা, মহম্মদ শামি, কুলদীপ যাদব, যশপ্রীত বুমরাহ, মহম্মদ সিরাজ
অস্ট্রেলিয়া: ট্র্যাভিস হেড, ডেভিড ওয়ার্নার, মিচ মার্শ, স্টিভেন স্মিথ, মারনাস লাবুশেন, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, জোশ ইঙ্গলিস (উইকেটরক্ষক), মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), অ্যাডাম জাম্পা, জোশ হ্যাজেলউড
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
