অলস্পোর্ট ডেস্ক: মরশুমের শুরুটা দুর্দান্ত হলেও গত পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জিততে পেরেছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। যদিও আইএসএলে তারা এখন পর্যন্ত অপরাজিত। কিন্তু এএফসি কাপে পরপর তিনটি ম্যাচে হেরে যাওয়ায় টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গিয়েছে তারা। এ মরশুমে এই প্রথম দুঃসময়ের মুখোমুখি হয়েছে সবুজ-মেরুন বাহিনী। দলে একঝাঁক নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ের চোট। ফলে দল পূর্ণশক্তি নিয়ে নামতে পারছে না কোনও ম্যাচেই এবং ফলও প্রত্যাশিত হচ্ছে না।
আইএসএলে গত ম্যাচে শেষ মুহূর্তে জোড়া গোল করে দলের মান বাঁচান দুই ডিফেন্ডার ব্রেন্ডান হ্যামিল ও আশিস রাই। দিমিত্রিয়স পেট্রাটসের মতো দায়িত্ব নিয়ে গোল করতে পারছেন না জেসন কামিংস, আরমান্দো সাদিকুরা। লিস্টন কোলাসো ঠিকমতো গোলে লক্ষ্য করে শটই করতে পারছেন না। তিনি বল পায়ে রাখতে গিয়ে বারবার বক্সের মধ্যে আটক হয়ে যান।
চলতি লিগে অপরাজিত তকমা বজায় রাখার জন্য শুক্রবার গুয়াহাটিতে হয় জিততে হবে বা ড্র করতে হবে। কিন্তু কারা চোট সারিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন, কারা মাঠে নামতে পারবেন শুক্রবার, সেই ব্যাপারে এখনও ছবিটা স্পষ্ট হয়নি। দিমিত্রিয়স পেট্রাটের মাঠে ফেরা প্রায় পাকা। কিন্তু সহাল আব্দুল সামাদ ও অনিরুদ্ধ থাপা খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
কোচ হুয়ান ফেরান্দো নিজেই থাকতে পারবেন না সাইডলাইনে। গত ম্যাচে লাল কার্ড দেখে এই ম্যাচে মাঠের বাইরে তিনি। ফলে ডাগ আউট থেকে দলকে পরিচালনা করবেন প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার ও ফেরান্দোর সহকারী কোচ ক্লিফোর্ড মিরান্ডা। তাই ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকে তিনিই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সঙ্গে নিয়ে আসেন অস্ট্রেলীয় ফরোয়ার্ড দিমিত্রিয়স পেট্রাটসকেও।
পেট্রাটসের প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে মিরান্ডা বলেন, “যে কোনও ম্যাচে সব খেলোয়াড়দের পাওয়াটা জরুরি ঠিকই। সেক্ষেত্রে দল বাছাই করার সময় অনেক বিকল্প খোলা থাকে। দলের সেরা স্ট্রাইকারকে পাওয়া গেলেও তা খুবই ইতিবাচক ব্যাপার। সবার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখেই দিমিকে সেরা বললাম ওর সাম্প্রতিক ও গত মরশুমের পারফরম্যান্সের জন্য। জেসন, আরমান্দো ও সুহেলের সঙ্গে দিমিকেও পেলে দলের পক্ষে তা খুবই ভাল খবর”। তবে কারা সুস্থ হয়ে পরের ম্যাচে মাঠে ফিরতে পারেন, তা বলতে পারেননি সহকারী কোচ।
যাঁকে নিয়ে এত আলোচনা, সেই পেট্রাটস বলছেন, “মাঠে ফেরাই এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য। আমরা লিগে সবার চেয়ে কম ম্যাচ খেলেছি। এখনও যথেষ্ট ভাল জায়গায় রয়েছি। এখন আমাদের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে”।
পরবর্তী ম্যাচে প্রতিপক্ষ নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি, যারা গত চারটি ম্যাচে জয়ের মুখ দেখতে পায়নি এবং লিগ টেবলের সাত নম্বরে রয়েছে। কিন্তু এই ম্যাচকে কোনও ভাবেই সহজ বলে ধরে নিতে নারাজ মিরান্ডা। বলেন, “কোনও দলকেই আমরা খাটো করে দেখি না। যে কোনও দলের বিরুদ্ধেই তিন পয়েন্ট পাওয়ার সমান সুযোগ থাকে। এই ম্যাচেও সে রকমই সুযোগ রয়েছে আমাদের সামনে। নর্থইস্টের গত ম্যাচের দিকে তাকালে দেখবেন প্রথমার্ধেই ওরা ৩-৪ গোলে এগিয়ে যেতে পারত। ওরা যথেষ্ট ভাল ও গোছানো দল। আমি তো বলব আইএসএলের অন্যান্য কয়েকটি দলের তুলনায় ওরা বেশি গোছানো”।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দলকে নিয়ে তিনি আরও বলেন, “ওদের একজন ভাল কোচ আছেন, যাঁর খেলার স্টাইল খুব স্পষ্ট। ওরা বেশি ম্যাচ জেতেনি বলে ওদের ভাল দল বলা যাবে না, আমি তা মানতে রাজি নই। হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধের খেলা নিশ্চয়ই দেখেছেন সবাই। ওরা কত ভাল দল, তা জানেন। ২০২৩-এর শেষ চারটি ম্যাচের প্রথমটি ছিল সেটি। ওই ম্যাচটার মতো বাকি সব ম্যাচই এখন কঠিন”।
তাদের দলের অন্যতম সেরা ভারতীয় ফরোয়ার্ড পার্থিব গগৈয়ের কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেন মিরান্ডা। বলেন, “পার্থিব ভাল খেলোয়াড়। প্রথম চারটি ম্যাচে ও তিনটি গোল করেছে। ওকে ব্যক্তিগত ভাবে আমি পছন্দ করি। ও খুবই গতিশীল, সোজাসাপ্টা ও ফাইনাল থার্ডে খুবই বিপজ্জনক ফুটবলার। তবে শুধু পার্থিব নয়, ওদের দলে ভাল ভাল খেলোয়াড় রয়েছে। দল হিসেবে ওরা খুবই ভাল”।
নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে নিয়ে পেট্রাটসের বক্তব্য, “প্রত্যেক দল ও প্রতি ম্যাচই কঠিন। প্রতিপক্ষ লিগ টেবলের কোথায় আছে, সেটা বড় কথা নয়। আমাদের বিরুদ্ধে যারা খেলতে নামে, তারা তাদের পারফরম্যান্সে বাড়তি কিছু দিতে চায়। এটা আমাদের পক্ষে একটা ইতিবাচক ব্যাপার। তাই আমাদেরও সেরাটা দিতে হয়। প্রতি দলেই ভাল খেলোয়াড়রা রয়েছে যারা যে কোনও ম্যাচের ফারাক গড়ে দিতে পারে। তাদের আটকাতে হবে। আমাদের নিজেদের খেলা ধরে রাখতে হবে এবং আরও গোল করতে হবে”।
শুক্রবারের ম্যাচে সম্ভবত সাইডলাইনে থাকতে পারবেন না দলের হেড কোচ ফেরান্দো। তবে তার প্রভাব সে ভাবে পড়বে বলে মনে করেন না তাঁর সহকারী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখনও জানি না, কাল আমাদের কোচ ফেরান্দো সাইডলাইনে থাকতে পারবে কি না। আশা করি থাকবে। দলকে ও সব রকম ভাবে তৈরি করছে। শুধুই হয়তো বেঞ্চে নাও থাকতে পারে। বাকি দল বাছাই থেকে শুরু করে সব কাজই ও করছে। হেড কোচের বেঞ্চে না থাকাটা যদিও কাম্য নয়, তবে ওর যা কাজ, সবই ও করে দিচ্ছে। ফলে সমস্যা হবে না বোধহয়”।
দলের পারফরম্যান্সের গ্রাফে সাম্প্রতিক অধঃপতন প্রসঙ্গ তুললে মিরান্ডা বলেন, “আমরা গত পাঁচটার মধ্যে মাত্র একটা ম্যাচ জিতেছি ঠিকই। কিন্তু ডুরান্ড কাপে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হারার পরে যে আমরা টানা ১২টা ম্যাচ জিতেছিলাম, সেটাও দয়া করে মনে রাখবেন। বসুন্ধরা ও ওডিশার কাছে হেরেছি যেমন, মাঝখানে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে জিতেছিও। টানা পাঁচটা ম্যাচ হেরেছি, তা তো নয়। লম্বা মরশুমে এমন হয়েই থাকে। কখনও সখনও যে কোনও দলই নীচের দিকে যায়। সারা দুনিয়ার যে কোনও লিগে, যে কোনও দলের ক্ষেত্রেই এটা হয়। এ তো আর কম্পিউটর বা যন্ত্র নয়। এখানে খেলোয়াড়রা সবাই মানুষ। তাদের ভুলভ্রান্তি হতেই পারে”।
গত বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলা জেসন কামিংসকে এই মরশুমের আগে সই করিয়ে চমকে দিয়েছিল মোহনবাগান এসজি। উদ্দেশ্য ছিল পেট্রাটসকে একজন যোগ্য সঙ্গী দিয়ে তাঁর ওপর থেকে চাপ কমানো। কিন্তু চলতি আইএসএলে এখন পর্যন্ত কামিংস নিজেকে সেই জায়গায় নিয়ে যেতে পেরেছেন বলে অনেকেরই মনে হচ্ছে না।
সমর্থকেরা কামিংসের কাছ থেকে আরও বেশি তৎপরতা আশা করলেও, স্প্যানিশ কোচের ভারতীয় সহকারী বলছেন, কামিংসকে নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। বলেন, “কামিংস মোটেই খারাপ খেলছে না। অনুশীলনেও খুবই ভাল করছে। মাঝে মাঝে কোনও শট গোলে যায়, আবার কখনও যায় না। মরশুমের শুরুতে কিন্তু ও প্রায় প্রতি ম্যাচেই গোল পাচ্ছিল। এখন সাময়িক ভাবে হয়তো ধারাবাহিকতায় কিছুটা ব্যাঘ্যাত ঘটেছে। তবে জেসন খুবই পরিশ্রম করছে এবং আমরা ওকে নিয়ে খুশি। দলের প্রত্যেকের কাছ থেকে আমরা বেশি কিছু আশা করি। আমাদের কাছ থেকেও রোজই উন্নতি আশা করে সবাই। এর নামই তো ফুটবল”।
(লেখা আইএসএল ওয়েব সাইট থেকে)
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
