Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
আইএসএল ২০২৩-২৪

অলস্পোর্ট ডেস্ক: চোট-আঘাত, কার্ড সমস্যা নিয়ে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কোচ হুয়ান ফেরান্দো। শনিবার ঘরের মাঠে এফসি গোয়ার কাছে ১-৪-এ হারার পরও এই কারণগুলিই দেখালেন তিনি।

আইএসএলে ঘরের মাঠে এটিই তাদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার। তবে লিগের ইতিহাসে এর চেয়েও বড় ব্যবধানে হেরেছে তারা। ২০২১-এ মুম্বই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধে। গত ম্যাচে তিনজন নির্ভরযোগ্য ফুটবলার লাল কার্ড দেখায় এই ম্যাচে তাঁরা মাঠে নামতে পারেননি। তার ওপর রক্ষণের দুই খেলোয়াড় গ্ল্যান মার্টিন্স ও ব্রেন্ডান হ্যামিলের চোট লাগে।

অর্ধেক ফিট গ্ল্যান ও দীপক টাঙরিকে মাঠে নামাতে বাধ্য হন মোহনবাগান কোচ। সিনিয়র ডিফেন্ডার শুভাশিস বোসকে এ দিন চেনা ছন্দে পাওয়া যায়নি। ম্যাচের শেষ দিকে হ্যামিল চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে গেলেও তাঁর পরিবর্ত খেলোয়াড় নামাতে পারেননি ফেরান্দো। এই সময় প্রায় মিনিট কুড়ি দশজনে খেলতে হয় তাদের।

এই হতাশাজনক হার নিয়ে ফেরান্দো সাংবাদিকদের বলেন, “মুম্বইয়ের ম্যাচে কী হয়েছে আপনারা দেখেছেন। একাধিক লাল কার্ড। তার ওপর আমাদের একাধিক খেলোয়াড়ের চোট। আজ যারা প্রথম এগারোয় ছিল, তারাও সবাই পুরো ফিট ছিল না। তা সত্ত্বেও তারা সর্বশক্তি দিয়ে খেলার চেষ্টা করেছে। শেষে ২৫ মিনিট আমাদের দশ জনে খেলতে হয়েছে। এই ম্যাচের প্রস্তুতির জন্য আমাদের হাতে সময়ও ছিল না। এরকমই পরিস্থিতি আমাদের। এগুলো সবই আমাদের এই পারফরম্যান্সের কারণ, এগুলো অজুহাত নয়। বাস্তবটা মেনে নিতেই হবে এবং সামনের দিকে তাকাতেও হবে। আজ আমরা যাদের হাতে পেয়েছি, তাদের খেলাতে বাধ্য হয়েছি। এর চেয়ে ভাল কিছু করা বোধহয় সম্ভব ছিল না”।

ম্যাচের শুরুর দিকেই পেনাল্টি পেয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন নোয়া সাদাউই। এই গোলের পরেই তাঁর দলের কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে বলে মনে করেন ফেরান্দো। বলেন, “এত তাড়াতাড়ি ওরা পেনাল্টি থেকে গোল করার সুযোগ পেয়ে গেল! ওই সময় গোল খেয়ে গেলে, তাও আবার পেনাল্টি থেকে, পরিস্থিতি খুবই কঠিন হয়ে যায়। দলের অনেকেই আজ যে ভূমিকা পালন করেছে, তা প্রথমবারের জন্যই করেছে। তার ওপর যথেষ্ট চাপ সামলাতে হয়েছে। এই অবস্থায় খেলোয়াড়দের পাশে থাকাটা বেশি জরুরি। কৌশল, পরিকল্পনা এ সব নিয়ে কথা বলে লাভ নেই। এখন খেলোয়াড়দের কঠিন মানসিক শক্তিই বেশি প্রয়োজন”।

দলের দুই বিদেশি ফরোয়ার্ড আরমান্দো সাদিকু ও জেসন কামিংসের মধ্যে এ দিন বোঝাপড়ার অভাব নিয়ে তাঁদের কোচ বলেন, “অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের অনেক ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। তার ওপর চোট-আঘাত লেগেই রয়েছে। তাই সবাইকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলাতে হচ্ছে। দিমিকে গত ম্যাচে শুরু করাইনি। আজ হুগোকে পরে নামালাম। জেসন আর আরমান্দো পরিশ্রমী। আক্রমণের জন্য এই ধরনের খেলোয়াড়দের খুবই প্রয়োজন। কিন্তু আজ আমাদের আক্রমণ তৈরি করা বা পজিশনাল অ্যাটাকে খুব সমস্যা হয়েছে। দুই বিদেশিই লড়াই করেছে। কিন্তু ওদের সমস্যাও হয়েছে অনেক”।

চোট-আঘাতের প্রসঙ্গ এ দিন বারবার উঠে আসে কোচের কথায়। কিন্তু তিনি এ সব সত্ত্বেও সামনের দিকে তাকিয়ে পরিশ্রম করে যেতে চান। বলেন, “আমরা পরপর কতজন খেলোয়াড়কে চোটের জন্য হারিয়েছি মনে করে দেখুন, আশিক, আনোয়ার, সহাল, গ্ল্যান, যদিও ও আজ অনেক চেষ্টা করেছে ভাল খেলার, তবে ওর হাঁটুর সমস্যা এখনও পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। এ ছাড়াও ব্রেন্ডানের চোট হল আজ। লাল কার্ডের জন্য হেক্টরকে খুইয়েছি। তবে এ সব অজুহাত দিয়ে লাভ নেই। নিজেদের কাজটা ঠিকমতো করে যেতে হবে সামনের দিকে তাকিয়ে। এখন মানসিকতা বদলে পরের ম্যাচের প্রস্তুতিতে মন দেওয়া দরকার। কবে আমাদের খেলোয়াড়রা সবাই চোট সারিয়ে ফিরে আসবে আমি জানি না। এই ধরনের গুরুতর চোট সারিয়ে দ্রুত ফিরে আসা মোটেই সোজা নয়। ওদের সময় দিতেই হবে”।

দলের রক্ষণ নিয়ে উঠছে অনেক প্রশ্ন। তবে এই নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নন আইএসএল খেতাব জয়ী কোচ। তাঁর বিশ্বাস, দল আবার সেরা ছন্দে ফিরবে। আশাবাদী ফেরান্দো বলেন, “এখন আমাদের দলের অবস্থা ভাল নয় বলে ডিফেন্স নিয়ে এত প্রশ্ন উঠছে। যখন সবাই ফিট হয়ে আবার মাঠে নামবে, তখন আমরা সেরা পারফরম্যান্স দেখাব। এখন এত সমস্যা দলের মধ্যে। তাই সেরাটা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আগে কী হয়েছে, সে সব নিয়ে এখন ভাবতে বসলে চলবে না। এখন আমাদের পরিকল্পনা তৈরি করতে বসতে হবে এবং খেলোয়াড়দের কত দ্রুত তরতাজা করে তোলা যায়, সেটাই বেশি ভাবতে হবে। আশা করি, দলের ছেলেরা আবার খেলার জন্য তৈরি হয়ে যাবে। সমস্যার সন্মুখীন হতে হবে, তার সমাধান করতে হবে। গত দশদিনে আমরা আটজন খেলোয়াড়কে হারিয়েছি। গত কয়েক দিনে কী কী হয়েছে, সবাই জানেন”।

তা সত্ত্বেও আজ যারা খেলেছে, তারা আপ্রাণ চেষ্টা করেছে ভাল খেলার। এটাই সত্যি, যা খুব কঠিন। যখন হ্যামিল চোট পেয়ে বেরিয়ে গেল, তখন রানা, কিয়ান, হ্নামতেরা রক্ষণে নেমে খেলেছে। ওরা কিন্তু ওই জায়গায় খেলতে অভ্যস্ত নয়। তবু খেলেছে। কারণ, ওরা দলকে সাহায্য করতে চায়। স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে পারলে এই ম্যাচেরই চেহারা দেখতেন অন্যরকম হয়ে যেত”।

ব্রেন্ডান হ্যামিলের চোট নিয়ে তিনি বলেন, “ওর চোট কতটা গুরুতর, তা আমি জানি না। মেডিক্যাল স্টাফের সঙ্গে কথা বলা হয়নি। ও বুধবারের ম্যাচে খেলতে পারবে কি না জানি না। এসব ব্যাপারে জানতে ২৪ ঘণ্টা লাগে অন্তত। এই রকম পরিস্থিতিতে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা ছাড়া কোনও উপায় নেই। সমাধান করতে পারলে সাফল্য আসতেও পারে আবার নাও পারে”।

এ দিন ম্যাচের পরে সমর্থকদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তাঁদের উদ্দেশ্যে কোচ বলেন, “সমর্থকদের ক্ষোভ খুবই স্বাভাবিক। তবে ওদের চেয়েও বেশি হতাশ আমি। আমার বিদায় চেয়ে অনেকেই চিৎকার করতে পারেন। আমি তাদের শ্রদ্ধা করি। কিন্তু আমি এখানে কাজ করতে এসেছি, কাজ করে যাব। সমর্থকেরা পাশে থাকবেন, এটাই চাই আমি। তবে আমাকে আমার চ্যালেঞ্জ নিয়ে লড়াই করে যেতে হবে। পরের ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করতে হবে”।

(লেখা আইএসএল ওয়েব সাইট থেকে)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *