মুনাল চট্টোপাধ্যায় : কানাঘুষো ছিলই, সেটাই সত্যি হল। শনিবার মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন আমিরুদ্দিন ববি। তাঁর জায়গায় মহমেডানের নতুন সভাপতি হলেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সাদা কালো তাঁবুতে ঘর ভরতি প্রচারমধ্যেমের সামনে ক্লাবের ট্রাস্টি বোর্ডের কর্তা, কার্যকরী কমিটির সদস্য, উৎসাহী কিছু সমর্থকদের উপস্থিতিতে নতুন সভাপতি হুমায়ুনকে ফুল মালায় বরণ করে স্বাগত জানান বিদায়ী সভাপতি আমিরুদ্দিন। হুমায়ুনের হাতে তিনি তুলে দেন ১ নম্বর লেখা সাদা কালো জার্সি।
কেন সরে দাঁড়ালেন সভাপতি পদ থেকে? এটা কি সমর্থকদের আক্রোশ থেকে বাঁচতে, রাজনৈতিক চাপ, নাকি আর্থিক সংকট মেটাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে? আমিরুদ্দিন ববি তাঁর বিদায়ী ভাষণে বলেন, ‘ কোনও চাপের কাছে নতিস্বীকার করে সভাপতি পদ ছাড়িনি। যা করেছি, সেটা ক্লাবের ভালর স্বার্থে। ২০১৭ থেকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। মাঝে ৮ মাস দায়িত্বে ছিলাম না, অন্য সভাপতি সাময়িকভাবে দায়িত্ব নেওয়ায়। আমার কার্যকালে, বলা ভাল আমাদের কমিটি সময়কালে ক্লাব অনেক সাফল্যের মুখ দেখেছে। অনেক উত্থান পতনের সাক্ষী এই ক্লাব। কলকাতা লিগ জিতেছে। ডুরান্ড ফাইনাল খেলেছে। জাতীয় লিগে খেলেছে। আইলিগ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আইএসএল খেলেছে। ময়দানে সবচেয়ে সুদৃশ্য ক্লাব পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে আমাদের সময়। মহমেডান মাঠে ফ্লাডলাইট বসেছে। জল নিকাশী ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ হয়েছে। কিন্তু গত দু’মরশুম ইনভেস্টারের অসহযোগিতার কারণে ক্লাবকে ভীষণভাবে ভুগতে হয়েছে। তাঁর জের পড়ছে ক্লাবের ফুটবল বিভাগের পারফরমেন্সে। সেই সংকট কাটিয়ে উঠতেই আমাদের প্রিয় হুমায়ুন কবীরকে সভাপতি পদে দায়িত্ব দিয়ে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছি।’
আমিরুদ্দিন ববি আরও বলেন, ‘ ইনভেস্টার বাঙ্কারহিল তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করেনি। এমনকি ওরা যে শ্রাচীকে এনেছিল ক্লাবকে অর্থ দিয়ে পাশে দাঁড়াবে এই আশায়, তারাও নিজেদের প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেনি। এতে ভুগতে হয়েছে মহমেডান। আইএসএলে খুব খারাপ ফল হয়েছে। আইএসএল থেকে আমাদের অবনমন হয়ে গেছে। তবে এনিয়ে আমরা আদালতে গিয়েছি। বিষয়টি এখনও বিচারাধীন। দেখা যাক, শেষপর্যন্ত কী হয়। তবে আপাতত আমাদের দরকার ছিল দ্রুত সমস্যা সমাধানের। আর্থিক সংকট মেটানোর। মাঝে আর এক বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকে বলেছিলেন, তিনি মহমেডান ক্লাবের দায়িত্ব নিতে চান। তবে তিনি ৯ জুন পর্যন্ত সময় চেয়েছিলেন। ইতিমধ্যেই হুমায়ুন কবীর ভাইয়ের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়। তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান। সেইমতো শনিবার সেই বৈঠকে খোলামেলা আলোচনা হয় ক্লাব ট্রাস্টি ও কার্যকরী কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে। হুমায়ুন ভাইকে জানানো হয়, ক্লাবের আর্থিক দেনার পরিমান ১৩ কোটির ওপর। বাঙ্কারহিলের কাছে ১০ শতাংশ শেয়ার এখনও আছে। ক্লাব চালাতে গেলে ইনভেস্টার লাগবেই। সব জেনেশুনেই হুমায়ুন ভাই সভাপতি হতে রাজি হয়েছেন। ক্লাব সদস্যদের একটা কথাই বলতে চাই, কাজ করতে গেলে কিছু ভুল ত্রুটি হতেই পারে। তার জন্য গঠনমূলক সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু গালাগালি প্রাপ্য নয়। বিশেষ করে দুর্নীতির অভিযোগ তোলাটা খুব খারাপ। এখন থেকে হুমায়ুন ভাই সভাপতির দায়িত্বে থেকে ক্লাবকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন, এব্যাপারে চরম আশাবাদী। আমরা পাশে থেকে তাঁকে সবরকম সহযোগিতা করব। তিনি চাইলে বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন পদাধিকারী বাছতে পারেন।’
আপাতত শুধুমাত্র সভাপতি পদেই বদল হয়েছে। বাকি কমিটিতে কোনও বদল হয়নি অন্তত এখন পর্যন্ত। সচিব পদ থেকে অব্যহতি চেয়েছিলেন ইস্তিয়াক(রাজু) আমেদ। সঙ্গে করে পদত্যাগপত্র নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু সভাপতি হুমায়ুন কবীর তাঁকে পদত্যাগ করতে দেননি। জানালেন ইস্তিয়াক নিজেই।
সভাপতি হয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘ মহমেডান ক্লাবের ঐতিহ্য ও ইতিহাস সকলের জানা। বাকি দুই প্রধান মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে এক আসনে রাখা হয় মহমেডানকে। বর্তমানে ক্লাব একটা সমস্যার মাঝে রয়েছে। আর্থিক সংকট বেশ বড়। জেনেছি ১৩ কোটির ওপর দেনা রয়েছে। এটা যে এক দু’দিনের মধ্যে মেটানো সম্ভব হবে এমন নয়। তবে খুব দ্রুত সেটানোর উদ্যোগ নেব। তবে আমি একা কিছু করতে পারব না। সকলের মিলিত চেষ্টাতেই সংকট ক্লাব কাটিয়ে উঠতে পারবে এই আশা রাখি। সদস্য-সমর্থকদেরও বলব, অনর্থক সমালোচনা না করে পাশে থাকুন। ক্লাবের সুসময় ফেরাতে।’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
