Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
এএফসি কাপ গ্রুপ

অলস্পোর্ট ডেস্ক: পরপর দুটো হারে তারা ধাক্কা তো খেয়েছেই হুয়ান ফেরান্দো অ্যান্ড ব্রিগেড। কিন্তু এই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার ভাবনাও রয়েছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট শিবিরে। বুধবার এ বছরের শেষ ম্যাচে খেলতে নামছে তারা। জানুয়ারিতে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের খেলা না থাকলেও কলিঙ্গ সুপার কাপে অংশ নেবে তারা। সেই টুর্নামেন্টের পর ফেব্রুয়ারিতে ফের যখন আইএসএল শুরু হবে, তখন যাতে শক্তিশালী দল নিয়ে ফিরে আসতে পারেন তাঁরা, এখন সেই ভাবনা চিন্তাই চলছে দিমিত্রিয়স পেট্রাটসদের শিবিরে। 

চোট-আঘাতে জর্জরিত মোহনবাগান শিবির। আশিক কুরুনিয়ান, আনোয়ার আলিদের চোট তো আগেই ছিল। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার সহাল আব্দুল সামাদও সম্প্রতি চোট পেয়ে মাঠের বাইরে রয়েছেন। অনিরুদ্ধ থাপা, মনবীর সিং ও দিমিত্রিয়স পেট্রাটস চোট সারিয়ে সদ্য মাঠে ফিরেছেন। গত ম্যাচে আবার অস্ট্রেলীয় স্টপার ব্রেন্ডান হ্যামিলও হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় পড়েছেন। চোট গ্ল্যান মার্টিন্সেরও। এই অবস্থাতেও জেতার কথা বলছেন ফেরান্দো। 

মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “আমার কাছে দলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দল এখন খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এখন নিজের কথা না ভেবে দলের কথা ভাবতে হবে। এই পরিস্থিতির মধ্যেও কী করে একটা ভাল দল গড়া যায়, সেই নিয়ে ভাবছি। কারা কাল খেলার জন্য তৈরি ও সুস্থ, সেটাই দেখছি। মোদ্দা ব্যাপার হল, কাল তিন পয়েন্ট পেতে হবে। দলের ওপর কতটা চাপ রয়েছে, তা নিয়ে ভাবছি না”। 

মুম্বইয়ে তাঁর দলের একসঙ্গে তিন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন এই ম্যাচে মাঠে ফিরছেন। কারা তাঁরা? এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়ে সবুজ-মেরুন কোচ বলেন, “দলের অবস্থা একই রকম। শুধু আশিস রাই ও হেক্টর ইউস্তে সাসপেনশন কাটিয়ে দলে ফিরছে। তবে চোট-আঘাতের অবস্থা একই রকম। ব্র্যান্ডন হ্যামিলের চোট। গত ম্যাচে ওর হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যা হয়েছে। ও খেলতে পারবে না। সহাল ও গ্ল্যানেরও চোট রয়েছে। ওদেরও এখন মাঠে নামা কঠিন”। 

গত দুই ম্যাচে জিতে আসা কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে যে এই ম্যাচ বেশ কঠিন হতে চলেছে, তা স্বীকার করে নিয়ে স্প্যানিশ কোচ বলেন, “শুধু এই ম্যাচ নয়, সব ম্যাচই কঠিন। তবে এই পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষের চেয়ে নিজেদের দল নিয়েই বেশি ভাবছি। কেরালা খুবই ভাল পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে। মনস্তাত্বিক ভাবে ওরা অবশ্যই এগিয়ে রয়েছে। কারণ, ওরা শেষ দুই ম্যাচেই জিতেছে। তবে আমার কাছে আমার দলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দলকে পরের ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করাই বেশি জরুরি। প্রতিপক্ষ তো আমাদের হাতে নেই। আমার দলই আমার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাই নিজেদের নিয়ে বেশি ভাবাই ভাল”। 

গত ম্যাচে এফসি গোয়ার কাছে চার গোল খেয়েছে তারা। এর পর বুধবারের ম্যাচে গোল না খাওয়ার ওপরই বেশি জোর দেবেন কি না, জানতে চাওয়ায় ফেরান্দো বলেন, “জেতার ওপরই বেশি জোর দিতে চাই আমরা।  এক গোল খেলে আমাদের দু’গোল করতে হবে বা দু’গোল খেলে তিন গোল করতে হবে, তা তো জানাই। আমরা মাঠে নামি জেতার জন্য। সে জন্য গোল দরকার। আক্রমণের শেষ পর্বে জায়গা তৈরি করা, গোলের সুযোগ তৈরি করা, এগুলোই বেশি জরুরি। 

আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে রক্ষণের দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। কিন্তু যদি শুধু রক্ষণের দিকেই নজর থাকে, তা হলে তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে। কারণ, গোল খেয়ে গেলে পুরো পরিকল্পনা বদলাতে হয়। আমরা গোল খাচ্ছি, এটা ঠিকই। কিন্তু গোল খাচ্ছি, যখন ৯-১০জন হয়ে যাচ্ছি, পেনাল্টি থেকে বা ছোট ভুলের জন্য। এগুলো সবই ফুটবলের অঙ্গ। কিন্তু আমাদের একই ভাবে খেলে যেতে হবে, পরিশ্রম করে যেতে হবে, জিততে হবে”। 

কেন এত চোট-আঘাত, তার ব্যাখ্যা দিয়ে কোচ বলেন, “গ্ল্যান, সহালদের চোট হয়েছে ট্যাকল করতে গিয়ে। এই মরশুমে আমাদের দুজন পেশীগত সমস্যায় ভুগেছে। বাকি সবার মারাত্মক ট্যাকলের জন্য চোট হয়েছে। পেশীর সমস্যার ক্ষেত্রে ডাক্তার, ফিজিওদের কিছু করার  থাকে না। ওদের সারিয়ে তোলার জন্য দিনরাত খাটছে দলের চিকিৎসকেরা। জানি না এখনও কত দিন লাগবে ওদের মাঠে ফিরতে। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারিও কেটে যেতে পারে”। 

গোল খাওয়ার জন্য যেমন শুধু ডিফেন্ডারদের দোষ দিতে চান না ফেরান্দো, তেমনই গোল করার জন্যও বাড়তি কৃতিত্ব দিতে রাজি নন তিনি। বলেন, “দলের সবাই যেমন আক্রমণে ওঠে, তেমনই সবাই মিলেই রক্ষণ সামলায়। গোল খেলে তাতে দলের সবারই দায়িত্ব থাকে। গোল করলেও তা কে করল, সেটা বড় কথা নয়। সে কামিংস হতে পারে, আরমান্দো, মনবীর, বা ব্রেন্ডান যে কেউ হতে পারে। গত দুটো ম্যাচে আমাদের সমস্যা ছিল। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে আমাদের শেষ পর্যন্ত ন’জনে খেলতে হয়েছিল। গত ম্যাচের মাঝখানে চোট-আঘাত হওয়ায় আমাদের পুরো পরিকল্পনা বদলাতে হয়। ফুটবলে দু-একজনের পারফরম্যান্সের ওপর কিছু নির্ভর করে না। পুরো দল কেমন খেলছে, সেটাই আসল কথা। দায়িত্ব পুরো দলের। কালও আমাদের পুরো দলকেই ভাল খেলতে হবে”। 

দলের বিদেশি ডিফেন্ডার হেক্টর ইউস্তে অবশ্য বলছেন, বুধবারের ম্যাচে যাতে গোল খেতে না হয়, তার ওপর বিশেষ নজর দেবেন। মুম্বইয়ের ম্যাচের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ওরা দু-তিনটে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পেরেছিল। প্রথম গোলটা ভাল হলেও, দ্বিতীয়টা আমাদের কারও পায়ে লেগে গতিপথ বদলে হয়। সব সময় সব কিছু নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয় না। কাল গোল না খাওয়ার দিকে আমাদের আরও ফোকাস করতে হবে। গোল করার পাশাপাশি গোল বাঁচানোও দরকার”।

বুধবার সঙ্গী ব্রেন্ডান হ্যামিল না থাকায় কিছুটা হলেও চিন্তিত তিনি। বলেন, “ব্রেন্ডানকে ছাড়া সত্যিই কাজটা কঠিন হবে। কারণ, ও আমাদের দলের খুব গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ওর চারিত্রিক দৃঢ়তা অসাধারণ। এই রকম একটা কঠিন সময়ে ওর মতো একজন খেলোয়াড়কে খুব প্রয়োজন ছিল আমাদের। তবে আমাদের দল শক্তিশালী। আশা করি, ওর যোগ্য পরিবর্ত আমরা পেয়ে যাব”।   

দলের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার আনোয়ার আলির অনুপস্থিতিও যে টের পাচ্ছেন, তাও স্বীকার করেন ইউস্তে। বলেন, “আনোয়ার এ দেশের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার। আশিক, আনোয়ার, সহালের মতো ফুটবলারদেরও অভাব বোধ করছি আমরা। কিন্তু এগুলো যেহেতু আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, তাই এই নিয়ে বেশি ভেবে শক্তিক্ষয় করছি না। আমাদের হাতে যে ফিট খেলোয়াড়রা আছে, তাদের নিয়েই বছরের শেষ ম্যাচে লড়তে হবে। আমি আত্মবিশ্বাসী, আমরা ঘুরে দাঁড়াবই”।    

বুধবার আদ্রিয়ান লুনার মতো আগ্রাসী ফুটবলার না থাকায় সুবিধা হবে কি না, তা জিজ্ঞাসা করায় ইউস্তে বলেন, “আদ্রিয়ান লুনা খুবই ভাল ফুটবলার। অনেক গোল করেছে। কাউকেই চোট পেতে দেখতে ভাল লাগে না। তবে ওদের আরও ভাল ভাল খেলোয়াড় রয়েছে এবং সবাই ভাল খেলছেও। কাল ওদের আটকানো কঠিন হবে। ওরা নিশ্চয়ই ভাল প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে এবং নিশ্চয়ই কাল জেতার চেষ্টা করবে”। 

এই ম্যাচে ব্লাস্টার্স যে আগ্রাসী ফুটবলই খেলবে, তা ধরেই নিচ্ছেন তিনি। সেই প্রসঙ্গে বলেন, “হতে পারে আমাদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষরা একটু বেশিই আগ্রাসী ফুটবল খেলে। কারণ, আমরা এ দেশের অন্যতম সেরা দল। কিন্তু আমরা প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই সমান তীব্রতা নিয়ে খেলি। আমাদের কাছে প্রতি ম্যাচই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটা ম্যাচ খুবই কঠিন হয়ে উঠেছে আমাদের কাছে। বিশেষ করে শেষ ম্যাচটা। আমরা প্রতি ম্যাচেই জেতার লক্ষ্য নিয়ে খেলি। একটা জয়ই আমাদের আবার ছন্দে ফিরিয়ে আনবে”। 

(লেখা আইএসএল ওয়েব সাইট থেকে)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *