সুচরিতা সেন চৌধুরী, ভুবনেশ্বর: জয় এসেছে। কলিঙ্গ সুপার কাপের প্রথম ম্যাচে শ্রীনিধিকে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে হায়দরাবাদ এফসিকে হারিয়ে এই মুহূর্তে গ্রুপে ভাল জায়গায় মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। জয় এলেও স্বস্তি কি এল কলকাতার দলের? মোহনবাগানের সহকারি কোচ ক্লিফোর্ড মিরান্ডা মেনে নিচ্ছেন বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে দলে, যা প্লেয়াররা নিজেরাও জানেন। তিনি বলছিলেন, “রক্ষণে কিছু সমস্যা রয়েছে। আর যা যা সমস্যা রয়েছে তা প্লেয়াররাও জানে, তারা সকলেই অভিজ্ঞ।” ক্লিফোর্ডের কথায় দলের প্লেয়াররাই সমস্যার সমাধান করে ফেলবেন। এর পরেই তাদের সামনে ইস্টবেঙ্গল। তার আগে এই কষ্টার্জিত জয় মোহনবাগানকে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।
তবে মোহনবাগান কোচ প্রতিপক্ষ দায়দরাবাদ এফসির প্রশংসা না করে পারলেন না। আগের ম্যাচে এই দলের প্রশংসা শোনা গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাতের মুখেও। ক্লিফোর্ড বলছিলেন, “ওরা দারুণ দল। পুরো ভারতীয় দল নিয়ে এমন একটা ম্যাচ খেলল। ওদের পরিকল্পনা ছিল চাপ তৈরি করা এবং ম্যাচ বের করে নেওয়া এবং তাতে তারা অনেকটাই সফল।” এর সঙ্গে তিনি জুড়ে দেন, “আমরা যে প্রথমার্ধে খারাপ খেলেছি তেমনটা নয়। বল নিয়ে ভাল মুহূর্ত তৈরি হয়নি। প্রথম গোল যে পরিস্থিতিতে খেয়েছি সেটা ফুটবলে হয়ে থাকে। অনেক সুযোগ তৈরি করেছি কিন্তু গোল হয়নি।” এবং এই সুযোগ তৈরি করাকেই ভাল দিক হিসেবে দেখছেন তিনি।
তাঁর দলে যে একাধিক প্লেয়ার নেই সেটা অতীতে বার বারই বলেছেন। সেটা আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন হায়দরাবাদ এফসি কোচ সিংতো। তবে তিনি এও বলতে ভুললেন না সেই দলে রয়েছেন পাঁচজন তারকা বিদেশিও। তিনি বলছিলেন, “আমরা জানি মোহনবাগানের সাত-আটজন ফুটবলার কাতারে জাতীয় দলে রয়েছেন। কিন্তু ওদের দলে পাঁচ জন ভাল বিদেশিও রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যেভাবে দল খেলেছে সেটা অদম্য একটা খিদে নিজেকে প্রমান করার।” এবং তিনি বিশ্বাস করেন এখান থেকে একদিন বিভিন্ন ক্লাব থেকে জাতীয় দল তাদের সেরা ভারতীয় প্লেয়ার পাবে।
তবে রেফারিং নিয়ে সরাসরি দেগে না দিলেও সন্তুষ্ট নন হায়দরাবাদ কোচ। লাল কার্ড সঙ্গে পেনাল্টি। তিনি বলছিলেন, “পেনাল্টিটা কতটা ঠিক ছিল সেটা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। আমি আবার ভিডিওটা দেখব।” তবে এটা ঠিক যে দলটা ৮০ মিনিট পর্যন্ত জিতছিল সেই দল ৯০ মিনিটে হেরে গেল, এখান থেকে দলকে মোটিভেট করা কঠিন। তিনি বলছিলেন, “ছেলেরা সেরাটা দিয়ে খেলেছে। আর একটা ম্যাচ বাকি রয়েছে, চেষ্টা করব সেখানেও একইভাবে সেরাটা দিতে।” যা আইএসএল-এর দ্বিতীয় পর্যায়ে কাজে লাগবে তো বটেই।
এদিকে মোহনবাগানের সহকারি কোচের ভাগ্য ভাল সেটা মেনে নিতে নারাজ তিনি। যেভাবে শেষ বেলায় দল হারতে হারতে জয় তুলে নিল সেটা ভাগ্য নয়তো কী? এর জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “ভাগ্যই যদি হয় তাহলে এত গোল মিস করাকে কী বলা হবে?” তবে দলের রক্ষণ থেক উইং প্লে, সবেতেই আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে বলে মনে করছেন তিনি। বলেন, “দেখলে মনে হয় রক্ষণ সামলানো খুব সহজ কাজ কিন্তু ওটাই সব থেকে কঠিন বিষয়। যা ভুল হয়েছে সেটা কিছুটা একাগ্রতার সমস্যা।”
এদিন দিমিত্রিকে দেখা গেল রক্ষণে নেমে রক্ষণ সামলাতে। সেটাই যে দলের পরিকল্পনা ছিল মেনে নিলেন ক্লিফোর্ড মিরান্ডা। অন্যদিকে, আগের দিন পুরো দমে অনুশীলন করেও কেন প্রথম দল তো দুরঅস্ত, বেঞ্চেও দেখা গেল না আর্মান্দো সাদিকুকে সেটাও খোলসা করেছেন কোচ। তিনি জানান, “ওর এদিন প্রথম দলেই খেলার কথা ছিল। কিন্তু মিটিংয়ের পর টিম হোটেল থেকে বেরনোর আগে দেখা যায় ওর ফুড পয়জন হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ওকে হোটেলে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”
সামনেই ডার্বি। মরসুমের তৃতীয় ডার্বির আসর বসতে চলেছে কলকাতার বাইরে ভুবনেশ্বরে। ডুরান্ড কাপে জোড়া ডার্বির পর এবার কলিঙ্গ সুপার কাপের লিগ পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। দুই ম্যাচ জিতেই ডার্বি খেলতে নামছে মোহনবাগান।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.co
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
