অলস্পোর্ট ডেস্ক: লড়াইটা শুরু হয়েছিল ডুরান্ড কাপ ফাইনালে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে হারের পর থেকেই। কার্লেস কুয়াদ্রাতের হাত ধরে আট ম্যাচ পর মোহনবাগানের বিরুদ্ধে জয়ের হাসি হেসেছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু ফাইনালে যখন আবার ডার্বি ফিরে এল তখন ফিরে এসেছিল হার। কিন্তু হাল ছাড়েননি কুয়াদ্রাত। যখনই ডার্বি প্রসঙ্গ এসেছে তখনই ইস্টবেঙ্গল কোচ মনে করিয়ে দিয়েছেন, যখন সবাই বলেছিল ইস্টবেঙ্গল ৫ গোলে হারবে তখন আমরা জিতেছিলাম। সময় বদলেছে। সত্যি যে সময় বদলেছে তার সব থেকে বড় প্রমান টানা আট ম্যাচে অপরাজিত থেকেই সেমিফাইনাল খেলতে নামা। খালিদ জামিলের জামশেদপুরে বিরুদ্ধে যে কলিঙ্গ সুপার কাপ সেমিফাইনাল সহজ হবে না সেটা মেনে নিয়েই খেলতে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল কিন্তু প্রথম থেকেই ম্যাচের রাশ নিজেদের দখলে রেখেছিল। যার ফল ২-০ গোলে সেমিফাইনাল জিতে মরসুমের দ্বিতীয় ফাইনালে পৌঁছে গেল লাল-হলুদ ব্রিগেড। প্রতিপক্ষ নিশ্চিত করতে অপেক্ষা করতে হবে আরও একদিন। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুম্বই এফসি ও ওড়িশা এফসির মধ্যে যে দল জিতবে তার সঙ্গেই ফাইনাল খেলতে হবে কার্লেসের দলকে।
ডার্বির দলে এদিন মাত্র একটিই পরিবর্তন করেছিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। বোরহা হেরেরা কার্ড সমস্যার জন্য না থাকায় তাঁর জায়গায় প্রথম দলে এলেন বিষ্ণু। ম্যাচ শুরু ১৯ মিনিটর মধ্যেই গোল করে দলকে এগিয়ে দিলেন হিজাজি মেহের। এই নিয়ে সুপার কাপে দ্বিতীয় গোল করে ফেললেন ইস্টবেঙ্গলের এই ডিফেন্ডার। বাঁ দিকের কর্নার থেকে উড়ে আসা বল বক্সের মধ্যে থেকে গোলমুখে রেখেছিলেন সল ক্রেসপো। পিছন থেকে আসা হিজাজি ছোট্ট টোকায় সেই বল ফিনিশ করেন। গোলকিপার আগেই কেটে গিয়েছিলেন। ১-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে খেলার তেজ বাড়ায় লাল-হলুদ ব্রিগেড কারণ এক গোলের ব্যবধান জয়ের জন্য কখনওই যথেষ্ট নয়।
এর মধ্যে জামশেদপুর যে গোলের সুযোগ পায়নি তা নয়। তাঁদের একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ আটকে দেন ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভসুখন গিল। এদিন ইস্টবেঙ্গলের গোলের নিচে রীতিমতো প্রাচীর তৈরি করেছিলেন তিনি। যেখানে আটকে গেল জামশেদপুর। আর কিছুটাবাধা হয়ে দাঁড়াল ক্রসবার।৩০ মিনিটে মানজোরোর শট ঝাঁপিয়ে বাইরে পাঠান গিল। ৩৩ মিনিটে নিশ্চিত গোল করেই ফেলেছিল খালিদ জামিলের দল। গোলের নিচে সেই সময় কিছুটা প্রস্তুতও দেখায় কিন্তু শেষটা ছিল তাঁর দখলেই। প্রথমার্ধের শেষে জামশেদপুরের পর পর আক্রমণে ব্যস্ত থাকতে হয় ইস্টবেঙ্গল রক্ষণকে।
৪০ মিনিটে পেনাল্টির দাবি ওঠে ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে কিন্তু রেফারি তাতে কান দেননি। এর পর অবশ্য পেনাাল্টি পেয়েও তা গোলে রাখতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল না হলে ফল ৩-০ হতে পারত। ৮১ মিনিটে পেনাল্টি পেয়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। বক্সের মধ্যে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফাউল করে পেনাল্টি পাইয়ে দেয় জামশেদপুর। কিন্তু আজকের দিনটি ক্লেটন সিলভার ছিল না। তাঁর শট ক্রসবারে লেগে বেরিয়ে যায়। ৮৪ মিনিটে জাশেদপুরের গোলমুখি শট অল্পের জন্য ক্রসবারে লেগে বেরিয়ে যায়। তার আগে অবশ্য দ্বিতীয় গোল করে ফেলেছে ইস্টবেঙ্গল।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু দুই মিনিটের মধ্যেই ইস্টবেঙ্গলের হয়ে ২-০ করে দেন সিভেরিও টোরো। চকিতেই গোল করে যায় ইস্টবেঙ্গল জামশেদপুর কিছু বুঝে ওঠার আগেই। রক্ষণ থেকে বল নিয়ে ওভারল্যাপে উঠে গিয়েছিলেন নিশু কুমার। বাঁ দিক থেকে বক্সের মধ্যে তাঁর মাপা পাস ধরে তা প্রতিপক্ষের জালে জড়াতে ভুল করেননি সিভেরিও। গোলের নিচে রেহনেশের কিছুই করারছ ছিল না। এর পরও ইস্টবেঙ্গল গোলের নিচে নিজের সেরাটা দিয়ে গিয়েছেন গিল। এর পরই জোড়া পরিবর্তন করেন কুয়াদ্রাত। নিশুর জায়গায় মন্দার ও বিষ্ণুর জায়গায় অজয় ছেত্রীকে নামান। ৭০ মিনিটে সিভেরিওকে তুলে সুহেরকে নামান তিনি। সাত মিনিটের অতিরিক সময় দেওয়া হলেও খেলার ফল আর বদলায়নি।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
