অলস্পোর্ট ডেস্ক: লিগ শিল্ডের লক্ষ্যে মোহনবাগানের শেষ দুই ম্যাচ যে ‘মাস্ট উইন’ তা জেনেই খেলতে নেমেছিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। মোহনবাগানের সঙ্গে এই বেঙ্গালুরু এফসির মাঠের শত্রুতার কথা সবারই জানা। শেষ আই লিগ এই মাঠেই জিতেছিল মোহনবাগান। আর আইএসএল ২০২৩-২৪-এর শুরুটা ভাল করেও মাঝে বেশ কিছু খারাপ ফলের জন্য শেষটা স্বাভাবিকভাবেই কঠিন করে ফেলেছিল মোহনবাগান। লিগের শেষ দুই ম্যাচের একটি ছিল ইদের দিন বেঙ্গালুরুরতে। সুনীলরা যদিও কলকাতায় ইস্টবেঙ্গলের কাছে হারের পরই প্লে-অফ থেকে ছিটকে গিয়েছিল। তবুও ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচ জিততে চেয়েছিল তারা। কিন্তু গতবারের চ্যাম্পিয়নরা রীতিমতো নাস্তানাবুদ করে হারাল গতবারের চ্যাম্পিয়নদের।
হেড কোচ হাবাসকে ছাড়া ঘরের মাঠে হারতে হয়েছিল মোহনবাগানকে। কিন্তু পঞ্জাব ম্যাচ থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে দল। দিল্লিতে পঞ্জাবের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয়কে বেঙ্গালুরুর মাটিতে ৪-০-তে নিয়ে যান দিমিত্রি, শুভাশিস, মনবীররা। প্রথমার্ধ ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে শেষ করেছি দল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে রীতিমতো জ্বলে উঠল পুরো দল। কাকে ছেড়ে কাকে আটকে তখন বেঙ্গালুরু ডিফেন্ডাররা। কখনও মনবীর তো কখনও থাপা, কখনও আবার সাদিকু। একজনকে ধরলে আর একজন গোল করে চলে যাচ্ছেন।
এদিন প্রথম থেকেই ম্যাচ ঘিরে ছিল টান টান উত্তেজনা। দুই পক্ষের ফুটবলার থেকে কোচ কে দেখা গেল বার বার উত্তেজনায় জরিয়ে পড়তে। শুরুতেই হলুদ কার্ড দেখলেন বেঙ্গালুরু গোলকিপার গুরুপ্রীত সিং সান্ধু। বাদ গেলেন না বেঙ্গালুরু কোচও। এদিন শুরু থেকেই গোলে জন্য ঝাঁপাতে শুরু করে মোহনবাগান। যার ফল ১৭ মিনিটেই গোলের মুখ খুলে ফেলে। মোহনবাগান। প্রথম শট যদিও পোস্টে লেগে ফিরেছিল হেক্টর ইউয়েস্তের। ফিরতিবলে দিমিত্রির পাস থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের নামর পাশে গোল লিখে নিলেন তিনি। এক মিনিট পরে আরও একবার সুযোগ চলে এসেছিল।
একগোলে পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফেরার জন্য ঝাঁপাতে শুরু করে হোম টিম। যার ফলে পেনাল্টিও তুলে নেয় তারা। সুনীল ছেত্রীকে বক্সের মধ্যে ফাউল করে বসেন আনোয়ার আলি। কিন্তু এদিন ভাগ্য মোটেও সঙ্গে ছিল না বেঙ্গালুরুর। না হলে সুনীল ছেত্রী পেনাল্টি মিস করেছেন এমনটা খুব একটা হয়েছে বলে মনে পড়ছে না। সুনীল শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ব্যবধান ধরে রাখে মোহনবাগান। ১- গোলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করে মোহনবাগান।
প্রথমার্ধ। এগিয়ে থেকে। শেষ করলেও সাবধানী ছিল মোহনবাগান। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে রীতিমতো অলআউট ঝাঁপাতে দেখা গেল দলকে। বিরতিতে কী ভোকাল টনিক তারা পেয়েছিলেন সেটা জানার আগ্রহ নিশ্চই সবার থাকবে। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই মোহনবাগানের হয়ে ২-০ করে দেন মনবীর সিং। ৫১ মিনিটে জনি কাউকোর পাস থেকে গোলকিপারের ডান দিকের কোণা দিয়ে অসাধারণ ফিনিশ মনবীরের।
এরপর আবার ব্যবধান বাড়াতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ম্যাচের ৫৪ মিনিটের নিজের নামের পাশে গোল লিখে নিলেন অনিরুদ্ধ থাপা। জনি কাউকোর শট কোনওরকমে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন গুরপ্রীত। কিন্তু নিজের দখলে রাখতে পারেননি। ফিরত বল পেয়ে যান দিমিত্রি পেত্রাতোস। তাঁর মাপা পা থেকেই বেঙ্গালুরু জালে বল জড়ান থাপা। ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। শেষ গোলটি আসে ম্যাচের ৬০ মিনিটে, মনবীরের পাস থেকে গোল করেন সাদিকু। এই মোহনবাগান দলে যে সকলেই গোল করতে পারেন তা আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল। এর পরও সুযগ এসেছিল কিন্তু আর গোল হয়নি।
লিগ চ্যাম্পিয়নশিপের লক্ষ্যে শেষ ম্যাচে ঘরের মাঠে মোহনবগানের প্রতিপক্ষ মুম্বই সিটি। এই মুহূর্তে। লিগ টেবলের শীর্ষে রয়েছে মুম্বই। তাদের হারিয়েই লিগ শিল্ড জিতে নিতে চাইবে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। ২১টি করে ম্যাচ খেলে মুম্বইয়ের পয়েন্ট ৪৭ ও মোহনবাগানের ৪৫।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
