Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক: এবার স্বপ্ন দেখতেই পারে বাংলার ফুটবল। যে আশা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে ফুটবলার থেকে প্রশাসক, ফুটবলপ্রেমী থেকে ক্লাবগুলো, সেই স্বপ্ন সফল হতে চলেছে। বাংলার ফুটবলের স্বার্থে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়ে আইএফএ (বাংলার ফুটবল নিয়ামক সংস্থা)-এর সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধল শ্রাচী গ্রুপ। লক্ষ্য গ্রাসরুট থেকে ফুটবলার তুলে এনে দেশকে উপহার দেওয়া। শনিবার শহরের এক হোটেলে এই নতুন উদ্যোগের ঘোষণা করা হল। সেখানে যেমন উপস্থিত ছিলেন শ্রাচী স্পোর্টসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাহুল টোডি তেমনই ছিলেন আইএফএ-এর সভাপতি অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। এক সঙ্গেই তাঁরা ঘোষণা করলেন এক অভাবনীয় উদ্যোগের।

আপাতত তিন বছরের জন্য চুক্তি হয়েছে আইএফএ ও শ্রাচী স্পোর্টসের মধ্যে। বছরে আড়াই কোটি, তিন বছরের সাড়ে সাত কোটি টাকা আপাতত খরচ করবে এই সংস্থা। এই চুক্তিতে খেলা আয়োজন যেমন আইএফএ-র দায়িত্ব তেমনই কমার্শিয়াল, প্রোডাকশন এবং স্পনসরের দায়িত্ব থাকছে শ্রাচীর কাছেই। তাদেরই উপর নির্ভর করছে এবার কলকাতা প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগ টেলিভিশনের পর্দায় দেখানো হবে কিনা। যদিও আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত ইঙ্গিত দিয়েই রাখলেন, হয়তো এবারও ওটিটি-তেই দেখা যাবে কলকাতা লিগ। তিনি বলছিলেন, ‘‘এখন তো অনেকবেশি সফল ওটিটি। যেভাবে মানুষ স্টেডিয়ামে গিয়ে টিকিট কেটে খেলা দেখে সেভাবেই একটা সামান্য টাকা দিয়ে খেলা দেখতে হবে।’’ তবে গত বছর যে সমস্যা খেলা দেখানোর ক্ষেত্রে হয়েছিল তেমনটা আর এ বছর হবে না সেটাও নিশ্চিত করা হয়েছে।

আপাতত এই তিন বছরের চুক্তিতে তিনটি টুর্নামেন্ট রয়েছে। তার মধ্যে কলকাতা ফুটবল লিগ, আইএফএ শিল্ড ও কলকাতা ফুটসাল লিগ। তবে আরও অনেক বড় স্বপ্ন দেখছে স্পনসর সংস্থা। তাদের স্পোর্টস উইং বাংলা জুড়ে এবং পরবর্তী সময়ে গোটা দেশ জুড়েই ফুটবলের উন্নতিতে কাজ করতে চায়। যার ভিত্তিপ্রস্থ হয়তো স্থাপন হয়ে গেল এদিনই। এক কথায় ফুটবলের কমার্শিয়ালাইজেশনের দিকেই লক্ষ্য নিয়ে এগোবে এই সংস্থা। যে কারণে বাংলার ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার সঙ্গেই সরাসরি কাজ করার পথ বেছে নিয়েছে তারা। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ডিভিশনের ক্লাবের সঙ্গেও চুক্তিবদ্ধ হওয়ার ইচ্ছের কথা জানালেন শ্রাচী স্পোর্টসের চেয়ারম্যান তমাল ঘোষাল। তারা বদলে দিতে চায় বাংলার ফুটবলের রূপ।

আইএফএ চেয়ারম্যান সুব্রত দত্ত বলছিলেন, ‘‘আমরা শ্রাচী স্পোর্টসকে স্বাগত জানাই। খেলাকে একটা বৃহত্তর জায়গায় নিয়ে যেতে এই যৌথতা বড় ভূমিকা নেবে। আমার বিশ্বাস এই যুগ্ম চলা অনেক রাস্তা খুলে দেবে।’’ সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাহুল টোডি বলছিলেন, ‘‘ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে এমন একটা যুগান্তকারী চুক্তি করতে পেরে আমি আনন্দিত। আমরা এক সঙ্গে বাংলার ফুটবলে বিপ্লব ঘটাতে পারি। প্লেয়ারদের তুলে আনা, ফ্যানদের আরও একাত্ম করা এবং প্রতিটি ধাপে এই ফুটবল সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দেওয়া।’’ এক কথায় বলা যেতেই পারে অভিনব উদ্যোগ, অসাধারণ ভাবনা।  

ইতিমধ্যেই শ্রাচী স্পোর্টসের আবাসিক অ্যাকাডেমির কাজ প্রায় শেষের পথে। আগামী জুন মাসের মধ্যেই তা কাজ করতে শুরু করে দেবে বলে জানালেন চেয়ারম্যা‌ন তমাল ঘোষাল। বলছিলেন, ‘‘অ্যাথলেটিক ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের কাজ প্রায় সম্পূর্ণ। জুনের মধ্যে শুরু হয়ে যাবে। যেখানে ২০০০ ছাত্র-ছাত্রী যোগ দিতে পারবে। আমাদের লক্ষ্য সর্বত্র খেলাকে পৌঁছে দেওয়া। স্কুল, কলেজ সর্বত্র। খেলাকে পাঠ্য করে তোলা।’’ এই স্কুলের সঙ্গে ক্রিকেটের তরফে যেমন যুক্ত রয়েছে সন্দীপ পাটিল, তেমনই ফুটবলে ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায় ও টেনিসে লিয়েন্ডার পেজের মতো তারকা। তাদের মতে, খেলার দায়িত্ব সামলাতে দেওয়া উচিত খেলোয়াড়দেরই, তাঁরাই বোঝে এর মর্ম। এটাই হয়তো সব থেকে বড় সত্য। এই ভাবনা থেকেই নতুন করে ভাল থাকার স্বপ্ন দেখছে বাংলার ফুটবল।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *