অলস্পোর্ট ডেস্ক: ফিল সল্টকে ছেড়ে দেওয়া যে বড় ভুল ছিল সেটা আইপিএল ২০২৫-এর উদ্বোধনী ম্যাচেই প্রমাণ করে দিলেন তিনি। গত মরসুমে পরিবর্ত হিসেবে কলকাতা নাইটা রাইডার্সে যোগ দিয়ে দলকে চ্যাম্পিয়ন করার পিছনে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু এই মরসুমে তাঁকে ধরে রাখেনি কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্ট। সেই সুযোগে নিলামে তাঁকে তুলে নিয়েছিল আরসিবি। আর তারই মান রাখলেন সল্ট। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে জমজমাট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর টস জিতে প্রথমে নাইটদের ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন রয়্যাল অধিনায়ক রজত পাতিদার। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৭৪-৮-এ থামে কলকাতা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
এদিন কলকাতার হয়ে ব্যাট হাতে ওপেন করতে নেমেছিলেন কুইন্টন ডে কক ও সুনীল নারিন। রানিনকে তাঁর চেনা দাপটে পাওয়া গেলেও ডে কক প্রথম ম্যাচে তাঁর সেরাটা দিতে পারলেন না। মাত্র ৪ রান করে ফিরে যান তিনি। তাঁর জায়গায় তিন নম্বরে নেমে নারিনের সঙ্গে কলকাতার ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। এই দু’য়ের ব্যাটে শুরুটা ভালই হয়ে গিয়েছিল কলকাতার। কিন্তু নারিন ৪৪ ও রাহানে ৫৬ রানে ফিরে যান প্যাভেলিয়নে।
এর পর সহঅধিনায়ক ও দলের সব থেকে দামী প্লেয়ার ভেঙ্কটেশ আইয়ার নেমে ভরসা দিতে পারেননি। ৬ রানে আউট হন তিনি। এখানে কিছুটা খেলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন অঙ্গকৃশ রঘুবংশী। ৩০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। কিন্তু আরও কোনও বড় রান আসেনি। রিঙ্কু সিং ১২, আন্দ্রে রাসেল ৪, হর্ষিত রানা ৫ রান করে আউট হয়ে যান। রমনদীপ সিং ৬ ও স্পেনসার জনসন ১ রান করে অপরাজিত থাকেন। নিধার্রিত ওভারে কলকাতার ইনিংস শেষ হয় ৮ উইকেটে ১৭৪ রানে।

এদিন বেঙ্গালুরুর হয়ে বল হাতে সফল ক্রুনাল পাণ্ড্যে। তিন উইকেট তুলে নেন তিনি। এছাড়া দুই উইকেট নেন জোশ হেজেলউড ও একটি করে উইকেট নেন যশ দয়াল, রসিখ সালাম ও সুয়াশ শর্মা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওপেনিং জুটিতেই জয়ের রান লিখে দিয়েছিলেন বেঙ্গালুরুর দুই ওপেনার ফিল সল্ট ও বিরাট কোহলি। ১৭৫ রানের লক্ষ্যে নেমে ওপেনিং জুটিতেই তাঁরা তুলে নেন ৯৫ রান। বাকিটা ছিল সময়ের অপেক্ষা। যেখানে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে হাফসেঞ্চুরি হাঁকালেন বিরাট কোহলি।
ফিল সল্ট যখন আউট হন তখন তাঁর নামের পাশে ৩১ বলে ৫৬ রান লেখা হয়ে গিয়েছে। এক কথায় রাহানের জবাব ছিলেন সল্ট। তিন নম্বরে নামা দেবদত্ত পাড়িক্কল ১০ রান করে ফিরে যান প্যাভেলিয়নে। যাতে ধাক্কা খায় আরসিবির রানের গতি। তবে একদিকে হাল ধরে রেখেছিলেন বিরাট কোহলি। অধিনায়ক রজত পাতিদার রানকে সচল করলেন ঠিকই কিন্তু শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে পারলেন না। ১৬ বলে ৩৪ রান করে ফিরে গেলেন প্যাভেলিয়নে। অধিনায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেললেন তিনি।
বাকি কাজটি কোহলির সঙ্গে করে দিলেন লিয়াম লিভিংস্টোন। কোহলি ৩৬ বলে ৫৯ রান করে অপরাজিত থাকলেন। অন্যদিকে ১৫ রানে অপরাজিত থাকলেন লিভিংস্টোন। ১৬.২ ওভারে ১৭৭-৩-এ থামল বেঙ্গালুরু। ২২ বলে বাকি থাকতেই ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল আরসিবি। বরুণ চক্রবর্থী, সুনীল নারিন, বৈভব অরোরা একটি করে উইকেট পেলেন ঠিকই কিন্তু এদিন বলে দাপট দেখাতে ব্যর্থ কেকেআর বোলিং। হেরে আইপিএল ২০২৫ শুরু করল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
