সুচরিতা সেন চৌধুরী: বেশিদিন আগের কথা নয়, দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেদের ব্যর্থতার সপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ভাইচু ভুটিয়াকে একহাত নিয়েছিলেন সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে। শুক্রবার তারই জবাব দিতে কলকাতাকে বেছে নিলেন স্বয়ং প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক ভাইচুং ভুটিয়া। কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবে এদিন ভাইচুংকে সমর্থন করতে হাজির হয়েছিলেন দুই প্রাক্তন ফুটবলার রহিম নবি ও মেহতাব হোসেন। আর এই মঞ্চ থেকেই কল্যাণ চৌবেকে পাল্টা জবাব দিলেন ভারতের অন্যতম সফল ফুটবলার।
কেন কলকাতাকে বেছে নিলেন তিনি, তা শুরুতেই পরিষ্কার করে দিলেন। কারণ এই শহরের সঙ্গে তাঁর আত্মার সম্পর্ক। এখান থেকেই শুরু করেছিলেন ফুটবল কেরিয়ার, এখান থেকেই স্টার হয়ে ওঠা। কলকাতার ফুটবল সমর্থক থেকে সংবাদ মাধ্যম, সবাই ভাইচুংয়ের ফুটবল জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাঁর ভালোবাসার শহর। কিন্তু কল্যাণ চৌবে কি সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন? প্রশ্নটা তুলে দিলেন তিনি।
বলছিলেন, “আমি আর ও সমসাময়িক। আমি দীর্ঘ ১৬ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছি, তাঁর মধ্যে ১২ বছর অধিনায়ক ছিলাম। আমি তো ওকে কখনও সিনিয়র ইন্ডিয়া ফুটবল দলের খেলতে দেখিনি। সেটা ডাহা মিথ্যা। আমি যখন ওর বিরুদ্ধে ফেডারেশনের সভাপতির পদে লড়তে গেলাম তখনই টের পেলাম ও সঠিক মানুষ নয়।” ভাইচুংয়ের মতে, সেটির প্রভাব ভয়ঙ্করভাবে পড়েছে ভারতীয় ফুটবলের পতনে। তাই তাঁর বিশ্বাস, কল্যাণ চৌবে সরে গেলে ভারতীয় ফুটবলের এই অবনতি আটকানো সম্ভব হবে।
বলছিলেন, “যে কেউ আসতে পারে ভারতীয় ফুটবল পরিচালনার দায়িত্বে। তিনি কোনও কর্পোরেট হতে পারেন, রাজনীতিবিদ হতে পারেন বা কোনো ফুটবলার, তবে এমন কেউ আসুক যিনি ভারতীয় ফুটবলের স্বার্থে কাজ করবে। আমার তো এখন মনে হচ্ছে প্রিয় দাশ মুন্সি থেকে প্রফুল প্যাটেলের সময়ের ফেডারেশন গত তিন বছরের থেকে অনেক অনেক গুন ভালো ছিল।” তিনি এও মেনে নিলেন, ফুটবল ফেডারেশনের দায়িত্বে ফুটবলার আনার সিদ্ধান্তে তিনি খুব খুশি ছিলেন। তবে তার ফল যে এতো খারাপ হবে সেটা বুঝতেই পারেননি।
সর্ব ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বলছিলেন, “আমি যখন ফেডারেশনের এক্সিকিউটিভ কমিটিতে ছিলাম তখন বলেছিলাম এজিএম এবং মিটিং গুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ হোক। একমাত্র কল্যাণ বেঁকে বসেছিল। আমরা যখন ফুটবলারদের স্বার্থে ফুটবল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন শুরু করলাম তখনও একমাত্র ও এটার পক্ষে ছিল না। ২০২৭ এশিয়া কাপ বিড করার কথা ছিল, ও সৌদি আরবে গিয়ে টেবলের তলায় কী ডিল করল যে সব ভেস্তে গেল? এর তদন্ত প্রয়োজন আর প্রয়োজন স্বচ্ছতা।”
প্রশ্ন তুললেন গত মরসুমের আই লিগের ফল নিয়েও। “আজও জানা নেই কে আই লিগ চ্যাম্পিয়ন। একটা দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে তাদের ট্রফি দিয়ে দেওয়া হল। এর পর অন্য একটা ক্লাব আদালতে গেল, তার পর সেই দলের থেকে ট্রফি ফেরত চাইছে। এটা কি একটা মজা? ফেডারেশন একটা সার্কাস আর তার ভিতরে থাকা লোকগুলো সব জোকার।”
কলকাতা স্পোর্টস জার্নালিস্ট ক্লাবের মঞ্চ থেকেই কল্যাণ চৌবেকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন ভাইচুং, “আগে একটা ফুটবলার তৈরি করে দেখাক। একটা ২০ জনকে নিয়ে অ্যাকাডেমি করে সেখান থেকে ফুটবলার তুলে এনে ক্লাব, রাজ্য, দেশের হয়ে খেলিয়ে দেখাক। আমি ২০১২ থেকে অ্যাকাডেমি চালাচ্ছি। দেশ জুড়ে ছয় হাজার ফুটবলার প্রশিক্ষণ নেয় ভাইচুং ভুটিয়া অ্যাকাডেমিতে। এবার ফুটবল স্কুলও হচ্ছে।”
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
