অলস্পোর্ট ডেস্ক: পূর্বাভাস ছিলই। ক্রিকেট দেবতা সদয় ছিলেন বলে, না হলে এজবাস্টন টেস্টের প্রথম দিন থেকেই আবহাওয়া দফতর অশনী সঙ্কেত দিয়েই রেখেছিল, বৃষ্টি যে কোনও সময় ভেস্তে দিতে পারে ইংল্যান্ড বনাম ভারত দ্বিতীয় টেস্ট। কিন্তু চতুর্থ দিন পর্যন্ত ভদ্রতা দেখিয়ে শেষ দিন যখন ভারতের জয় শুধুমাত্র সাত উইকেট দূরে তখন ম্যাচ শুরুতে বিলম্ব ঘটাতে বড় ভূমিকা নিল সেই বৃষ্টিই। হাতে যত সময়ই থাক না কেন ৬০০-র উপর রানের লক্ষ্যমাত্র এক ইনিংসে পেরিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। বরং সেদিক থেকে দেখতে গেলে ১০ উইকেট একদিনে তুলে নেওয়া অনেক সহজ। চতুর্থ দিনের শেষে সেই কাজ অনেকটাই এগিয়ে রেখেছিলেন ভারতীয় বোলাররা। আকাশদীপ দুই ও মহম্মদ সিরাজ এক উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডকে ৭২-৩-এ থামিয়েছিল। শেষ দিন ছিল সাত উইকেটের অপেক্ষা। আর তাতে বাধ সাধল প্রকৃতি। তবে ওভার কমিয়ে শেষ পর্যন্ত খেলা শুরু হল। এবং প্রত্যাশা মতো শেষ হাসি হাসল ভারত। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-১-এ সমতায় ফিরল শুভমান গিলের ভারত।
ভারতীয় সময় দুপুর সাড়ে তিনটের বদলে খেলা শুরু হল বিকেল ৫টা নাগাদ। যার ফলে ৯০ ওভারের জায়গায় খেলা হবে ৮০ ওভার। টেস্ট ক্রিকেটে ১০ ওভার নষ্ট খুব একটা বেশি প্রভাব ফেলার কথা নয়, তবে এই ম্যাচ যে জায়গায় রয়েছে সেক্ষেত্রে প্রতিটি ওভার গুরুত্বপূর্ণ। শেষ ভারতের হয়ে বোলিং শুরু করেন প্রসিধ কৃষ্ণা। এখনও পর্যন্ত নজর কাড়তে ব্যর্থ তিনি। তবে শুরুটা মাত্র ১ রান দিয়ে করে দিলেন। তার পরের ওভারেও একি পথে হাঁটলেন আকাশ দীপও। ইংল্যান্ড ব্যাটারদের শেষ দিন বৃষ্টি ভেজা আউট ফিল্ডে রান তুলতে রীতিমতো যে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তা প্রথম দুই ওভারেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। ৮০ ওভার খেলার সুযোগ ছিল। কিন্তু ৬৮.১ ওভারে ২৭১ রানে শেষ হয়ে গেল ইংল্যান্ডের ইনিংস। ৩৩৭ রানে দ্বিতীয় টেস্ট জিতে নিল ভারত।
চতুর্থ দিনের শেষ উইকেটের পর পঞ্চম দিনের প্রথম উইকেট দিনের চতুর্থ ওভারেই তুলে নিয়েছিলেন আকাশ দীপ। যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই শেষ দিন শুরু করলেন তিনি। আকাশ দীপের বলে মাত্র ২৪ রান করে বোল্ড হয়ে ফিরলেন ওলি পোপ। দ্বিতীয় রানে হ্যারি ব্রুককে প্যাভেলিয়নে পাঠিয়ে দিনের দ্বিতীয় উইকেটও তুলে নেন আকাশ। এর পর বেন স্টোকসকে ৩৩ রানে ফেরান ওয়াশিংটন সুন্দর। এর মধ্যেই হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলেন জেমি স্মিথ। তিতি যখন আউট হন তাঁর নামের পাশে ৮৮ রান লেখা হয়ে গিয়েছে। তাঁকে ফেরানোর কারিগরও সেই আকাশ দীপ। প্রথম ইনিংসে চার উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া টেস্ট বোলারের তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেললেন তিনি।
তার আগেই ক্রিস ওকস ফেরে ৭ রানে। তাঁকে ফিরিয়ে শেষ পর্যন্ত উইকেটে নাম লেখালেন প্রসিধ কৃষ্ণা। শেষ বেলায় উইকেট পেলেন রবীন্দ্র জাডেজাও। প্রথম টেস্টে ভারতীয় দলকে যে ফিল্ডিং নিয়ে প্রভূত সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল, দ্বিতীয় টেস্টে যেন সেই রোগও অনেকটা সারিয়ে ফেলল ভারত। রবীন্দ্র জাডেজার বলে জোশ টংকে ২ রানে ফেরাতে রীতিমতো কঠিন বলকে মুষ্টিবদ্ধ করলেন মহম্মদ সিরাজ। ক্রিস ওকসের শটও জমা পড়েছিল তাঁরই হাতে। কিন্তু শেষ উইকেটে শোয়েব বশিরের যে ক্যাচটা ফেললেন সেটা তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল। তবে ব্রাইডন কার্সকে ৩৮ রানে ফিরিয়ে শেষ কাজটি করে দিলেন সেই আকাশদীপ। দ্বিতীয় টেস্টে জয়সূচক উইকেটের সঙ্গেই নিজের নামের পাশে ১০ উইকেট লিখে নিয়েই শেষ করলেন। ১২ রানে অপরাজিত থাকবেন শোয়েব বশির। যার সঙ্গে এজবাস্টনের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের রেকর্ড করে ফেলল ভারত।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
