অলস্পোর্ট ডেস্ক: ওভালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ টেস্টে ভারতীয় ক্রিকেট দলের রোমাঞ্চকর ৬ রান জয়ের পেছনে একটা কাহিনী আছে। সিরাজ-প্রসিদ কৃষ্ণার দুরন্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি। সেটা বেশ ইন্টারেস্টিং। স্লো ওভার রেটের জন্য ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট কেটে নেওয়ার কথা আইসিসি ম্যাচ রেফারি বললেও, ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচ গৌতম গম্ভীর ও অধিনায়ক শুভমান গিল, সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেননি। বরং জয়ের জন্য ঝাঁপান পয়েন্ট কাটার সতর্কতা মাথায় না রেখে। এতে যা ঘটেছে, তা ইতিহাস। শেষ টেস্ট ম্যাচ নাটকীয়ভাবে জিতে সিরিজ ২-২ করে ভারত।
টেস্টের শেষদিনে ম্যাচ চরম উত্তেজনায় পৌঁছেছিল। ইংল্যান্ডের যেখানে হাতে থাকা ৪ উইকেটে ৩৫ রান তোলা দরকার ছিল ম্যাচ জিততে। সেখানে সিরিজে সমতা ফেরাতে ওই রানের মধ্যে উইকেট তুলে নেওয়া দরকার ছিল ভারতীয় দলের। ওই পরিস্থিতিতে ভারতীয় শিবিরে ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো একটা বার্তা পাঠিয়ে বলেন, শেষ দিনের খেলার শুরুর আগে ভারতীয় দল প্রয়োজনীয় ওভার রেটের তুলনায় ৬ ওভার পিছিয়ে আছে। যদি শেষদিনে ইংল্যান্ডের ইনিংস শেষ করতে না পারে , বা পিছিয়ে থাকা ওভার রেট মেকাপের পথে না হাঁটে, তাহলে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মূল্যবান ৪ পয়েন্ট খোয়াবে।
এটা জেনে ভারতীয় দলের ড্রেসিংরুমে দ্রুত আলোচনা সারেন কোচ গম্ভীর, অধিনায়ক গিল ও সহকারী কোচ শীতাংশু কোটাক। তাঁদের সামনে দুটো পথই খোলা ছিল। একটা হল, রবীন্দ্র জাদেজা ও ওয়াশিংটন সুন্দরকে দিয়ে বল করিয়ে ওভার রেটের ঘাটতি মেটানো। অথবা পেস অ্যাটাক জারি রেখে ইংল্যান্ড ইনিংস শেষ করে জয় তুলে নেওয়া। পরেরটাই সঠিক মনে করে ভারতীয় ক্রিকেট দলের থিংক ট্যাঙ্ক। তার পেছনে যুক্তি ছিল, জাদেজা ও সুন্দরকে দিয়ে বল করাতে গিয়ে ইংল্যান্ডের জেমি স্মিথ ও জেমি ওভারটনের ওপর চাপের ফাঁস আলগা হয়ে গেলে ম্যাচ ও জয় হাতছাড়া হতে পারে। গম্ভীর সাহসী মনোভাব দেখিয়ে ক্রিকেটারদের বলেন, ‘ ম্যাচ রেফারির ওভাররেটের সতর্কবার্তা গুরুত্ব দিচ্ছি না। সরাসরি জিততে পেস অ্যাটাক জারি রাখাই দরকার। তাতে ৪ পয়েন্ট গেলে যাবে। আগে এই ম্যাচটা জিতে সিরিজে সমতা ফেরানো জরুরি।’ ভারতীয় দলের থিংক ট্যাঙ্কের এই সিদ্ধান্তই শেষপর্যন্ত দলকে জয় এনে দেয়। যা আজ সকলের মুখে মুখে ঘুরছে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
