অলস্পোর্ট ডেস্ক: বেঙ্গালুরুতে ভারতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ খালিদ জামিল কাফা নেশনস কাপ খেলার কথা মাথায় রেখে ১৬ আগস্ট থেকে প্রস্তুতি শুরু করেছেন। প্রথম দিনের শিবিরে ২২ জন ফুটবলার যোগ দিলেও বাকি ১৩ জন যোগ দেননি ডুরান্ড কাপে নিজেদের দলের খেলা থাকায়। সেই তালিকায় ছিলেন মোহনবাগান সুপার জায়েন্টের ফুটবলার অনিরুদ্ধ থাপা, দীপক টাংরি, আপুইয়া, লিস্টন কোলাসো, মনবীর সিং, সাহাল আব্দুল সামাদ, গোলকিপার বিশাল কাইথ। রবিবার কোয়ার্টারফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হেরে ডুরান্ড কাপ অভিযান শেষ হয়ে গেছে সবুজ মেরুনের। তাও তারা পরিষ্কার ভাবে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে মেল করে জানিয়ে দিয়েছে, কাফা নেশনস কাপের জন্য জাতীয় শিবিরে বা খেলার জন্য একজনও ফুটবলার ছাড়বে না।
এই ধরনের সিদ্ধান্ত যে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট নেবে, সেটা আগেই আঁচ করা গিয়েছিল। তার উল্লেখও ছিল খালিদ জামিল সরকারিভাবে ভারতীয় সিনিয়র ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব নেওয়ার দিনই। ক্লাব ও ফেডারেশনের মধ্যে ফুটবলার ছাড়া নিয়ে সংঘাত দীর্ঘদিনের। এই প্রশ্নটা তাই ছিল, কাফা নেশনস কাপের জন্য সব দল ফুটবলার ছেড়ে কি খালিদকে সহযোগিতা করবে? সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট কর্তৃপক্ষ নিজেদের ও কোচ হোসে মোলিনার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিবিরে কোনও ফুটবলার না ছাড়ার। খালিদও সম্ভবত বুঝেছিলেন সেটা। তাই জাতীয় শিবিরে সুনীলকে না ডাকলেও গোলকিপার গুরপ্রীতকে ডেকেছেন, বিশাল কাইথকে পাবেন না ধরে নিয়ে।
মোহনবাগানের যুক্তি, কাফা নেশনস কাপ একটা আমন্ত্রণী টুর্নামেন্ট। ফিফা উইন্ডোর অন্তর্গত কোনও প্রতিযোগিতা বা খেলা নয়। তাই জাতীয় শিবির বা জাতীয় দলে এইমুহূর্তে ফুটবলার ছাড়া বাধ্যতামূলক নয়। এমনিতেই চোটের কারণে শিবিরে যেতে পারতেন না মনবীর। তিনি এই কারণে ডার্বিতেও খেলেননি। মোহনবাগান ম্যানেজমেন্ট চায় না জাতীয় শিবিরে গিয়ে শুভাশিস বসুর মতো ডাক পাওয়া বাকি ফুটবলারদের কেউ কেউ চোট নিয়ে ফিরে আসুক। শুভাশিসের চোটটা দলের পক্ষে যথেষ্ট ক্ষতিকর হয়েছে। ডুরান্ড কোয়ার্টারফাইনাল ডার্বিতে শুভাশিসের অভাবটা বেশ বোঝা গেছে। সুপার জায়ান্ট টিম ম্যানেজমেন্টের আরও একটা বড় অসন্তোষের কারণ, গত মরশুমে আশিক কুরুনিয়ান জাতীয় দলে থাকার সময় চোট নিয়ে ফিরেছিলেন। এবার শুভাশিস। দেশে ফিরে ক্লাব দলে যোগ দেওয়ার পর ফেডারেশন তাঁদের সুস্থ করে তোলার দায়িত্ব নেওয়া দূরে থাক, খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন পর্যন্ত মনে করেনি।
তাই কোনও অবস্থাতেই জাতীয় শিবিরে ফুটবলার ছাড়ছে না মোহনবাগান। বিশেষ করে ডুরান্ড ডার্বিতে ফুটবলারদের শারীরিক সক্ষমতা ও মাঠে নড়াচড়া দেখে। ডার্বির আগেই দলের চিফ কোচ হোসে মোলিনা বলেছিলেন, ফুটবলাররা কেউ পুরো ফিট নয়। সেরা খেলা দেওয়ার জায়গায় পৌঁছতে সময় লাগবে। দরকার আরও অনুশীলনের। সুতরাং ডুরান্ড কোয়ার্টারফাইনালে হারের পর জাতীয় শিবিরে ফুটবলার পাঠিয়ে নিজেদের দলের প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটাতে নারাজ চিফ কোচ মোলিনা।
ডুরান্ড কাপ হাতছাড়া হলেও তাঁর সামনে এখন এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-র গুরুত্বপূর্ণ খেলা। ১৬ সেপ্টেম্বর যুবভারতীতে গ্রুপের প্রখম ম্যাচে আহাল এফসির মুখোমুখি হবে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। সেই ম্যাচের জন্য দলকে পুরোপুরি ফিট করে তুলতে চান মোলিনা। একইসঙ্গে ফুটবলারদের মধ্যে বোঝাপড়াটাও। জাতীয় শিবিরে ফুটবলার চলে গেলে সেটা কিছুতেই সম্ভব নয়। কারণ এখন ফুটবলাররা চলে গেলে, তাঁদের ফিরতে ফিরতে ৫ বা ৬ সেপ্টেম্বর হয়ে যাবে কাফা নেশনস কাপের গ্রুপ পর্বের খেলা শেষে। আর যদি ৪ সেপ্টেম্বর গ্রুপের শেষ খেলার পর ভারতীয় দলে টুর্নামেন্টে টিঁকে যায়, তাহলে ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় ফাইনাল বা তৃতীয়-চতুর্থ স্থান নির্ণায়ক ম্যাচের খেলা শেষ করে ফিরতে ফিরতে ১০ সেপ্টেম্বর। সেক্ষেত্রে মোলিনার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-র খেলার প্রস্তুতি মার খাবে। সেটা তিনি চান না।
একই কারণে অনূর্ধ্ব ২৩ ভারতীয় ফুটবল শিবির ও দলে ডাক পাওয়া দীপেন্দু বিশ্বাস, সুহেল বাট, প্রিয়াংশু দুবে ও অভিষেক সিংকেও ছাড়বে না মোহনবাগান এসজি কর্তৃপক্ষ। যুক্তি সেই এক, এঁরা সকলেই সিনিয়র দলে খেলছে। তাই অনূর্ধ্ব ২৩ ইরাক দলের বিরুদ্ধে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার জন্য ২৩ আগস্ট কুয়ালালামপুরগামী ভারতীয় দলে ফুটবলারদের পাঠানোর প্রশ্নই ওঠে না। ৩ থেকে ৯ সেপ্টম্বর কাতারে অনুষ্ঠেয় এএফসি অনূর্ধ্ব ২৩ এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের ম্যাচ খেলার আগে ভেবে দেখবে ফুটবলার ছাড়া সম্ভব কিনা?
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
