Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

সুচরিতা সেন চৌধুরী: দুই দলের একটি করে গোলের শট ক্রসপিসে লেগে ফিরল। একাধিকবার বাধা হল পোস্টও। বাকিটা ফিনিশিংয়ের অভাবে ভুগল দুই দলই। বরং তুল্যমূল্য হিসেবে ইস্টবেঙ্গলকে রীতিমতো চাপে রাখল ডায়মন্ড হারবার। তার মধ্যেই দু’বার এগিয়ে গেল কলকাতার নবাগত দল। যাদের এখন চতুর্থ প্রধান বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। তার যথেষ্ট প্রমান ডুরা‌ন্ড কাপ ২০২৫ সেমিফাইনালে দেখা গেল। ডার্বির ইস্টবেঙ্গল এক ম্যাচ বাদেই এতটা কেন বদলে গেল সেটাই এখন অস্কার ব্রুজোঁর কাছে সব থেকে বড় প্রশ্ন। প্রশ্ন, দুই অসম দলের লড়াইয়ে এভাবে কেন মুখ থুবড়ে পড়ল লাল-হলুদ ব্রিগেড? আত্মতুষ্টি নাকি অত্যধিক উত্তেজনা? যেখানে অস্কার ব্রুজোঁকে মাত দিলেন কিবু ভিকুনা। ২-১ গোলে ইস্টবেঙ্গলকে ছিটকে দিয়ে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের মুখোমুখি ডায়মন্ড হারবার।

প্রথমবার ডুরান্ড কাপ খেলতে নেমেই ফাইনালে পৌঁছে গেল ডায়মন্ড হারবার। স্বাভাবিকভাবেই আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে দল। তা ম্যাচের আগের সাংবাদিক সম্মেলনেই কোচ কিবু ভিকুনার কথায় স্পষ্ট ছিল। তিনি সোচ্চারে বলেছিলেন, ‘‘ইস্টবেঙ্গল ভালো দল হলে আমরাও তো ভালো দল, না হলে এখানে তো থাকতাম না।’’ দুই সেমিফাইনালিস্টের লড়াই বুধবার শুরু থেকেই ছিল হাড্ডাহাড্ডি। পর পর আক্রমণে যখন নাজেহাল লাল-হলুদ ডিফেন্স তখন কাউন্টার আক্রমণকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করল অস্কারের ছেলেরা। তবে ডার্বির ইস্টবেঙ্গলকে প্রথম থেকে পাওয়া গেল না ডুরান্ড সেমিফাইনালে। যে প্রভসুখন ডার্বিতে নিশ্চিত তিনটি গোল বাঁচিয়েছিলেন এদিন যেন শুরু থেকেই নড়বড়ে দেখাল তাঁকে, দুটো গোলই এল তাঁরই বদান্যতায়। বরং এদিন তাঁকে ছাঁপিয়ে গেল ডায়মন্ড হারবার গোলকিপার মিরশাদ, যিনি ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন। তিনি একাই বাঁচালেন একাধিক গোল। যদিও গোলে শট থেকে কর্নার, সবেতেই এগিয়ে থাকল ইস্টবেঙ্গল।

৩০ সেকেন্ডেই ইস্টবেঙ্গলের জোড়া ভুলে প্রায় গোল করেই ফেলেছিল নবাগত দল ডায়মন্ড হারবার। অজিত কুমারের সেন্টার সিবলে বুক দিয়ে নামিয়ে ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেন, কিন্তু প্রভসুখন জায়গায় না থাকায় প্রায় গোল হয়েই যাচ্ছিল। বক্সের মধ্যে ততক্ষণে পৌঁছেও গিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের লুকা। তবে শেষ পর্যন্ত সেই বল ক্লিয়ার করতে সক্ষম হয় ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ। এর পর আট মিনিটে আবার আক্রমণ সেই ডায়মন্ড হারবারেরই। ডানদিক থেকে জবি জাস্টিনের সেন্টার ধরে বক্সের বাইরে থেকেই পলের শট ইস্টবেঙ্গল রক্ষণকে কাটিয়ে প্রভসুখনের হাতে গিয়ে জমা না হলে বিপদ হতে পারত।

ইস্টবেঙ্গলের তরফে প্রথম আক্রমণ এল ম্যাচের ১৫ মিনিটে। যখন মহেশের থেকে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে গিয়েছিলেন দিয়ামান্তাকস। কিন্তু তাঁর পায়ে বল আসতেই তাঁকে ছেকে ধরে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডাররা। সেই সুযোগে বক্সের মধ্যে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা মিগুয়েলকে বল ঠেলেন দিমি। কিন্তু মিগুয়েলের শট বক্সের গা ঘেষে চলে যায় বাইরে। ২২ মিনিটে আনোয়ারের দূরপাল্লার একটি শট শরীর ছুঁড়ে কর্নারের বিনিময়ে বাঁচিয়ে দেন ডায়মন্ড হারবার গোলকিপার মিরশাদ। না হলে এটা থেকে গোল হতেই পারত। ২৪ মিনিটে অবশ্য বড় চাপ তৈরি করল ডায়মন্ড। বক্সের বা দিক থেকে লুকার বাড়ানো বল ধরে একটু পিছিয়ে স্যামুয়েলকে ব্যাকপাস করেন জবি জাস্টিন। সেই বল সরাসরি গোলে শট নেন স্যামুয়েল কিন্তু তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ক্রসবার। সেই বল ধরে কাউন্টার আক্রমণে একাই টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন দিয়ামান্তাকস কিন্তু ফাউল দেন রেফারি। সব মিলে প্রথমার্ধের শুরু থেকেই দুই কলকাতার দলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখতে পেল যুবভারতী।

সুযোগ এল দুই পক্ষের কাছেই। ইস্টবেঙ্গল বার বার প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে গেল ঠিকই কিন্তু ফিনিশ করতে পারল না। বল হোল্ড করে রাখাটা একাধিকবার সমস্যার সৃষ্টি করল। যখন ইস্টবেঙ্গল আক্রমণে উঠল তখন পুরো ডায়মন্ড হারবার নেমে গেল বক্সে। তৈরি হল জটলা। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে মহেশের বক্সের মধ্যে থেকে গোলমুখি শট গোলকিপারের হাতে লেগে, পোস্টে লেগে ছিটকে আসে। সেই বলে মিগুয়েলের শট আবারও গোলকিপারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে, শেষ পর্যন্ত ক্লিয়ার করেন মিকেল। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্যভাবে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জোড়া পরিবর্তন করলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। নুঙ্গাকে তুলে প্রভাত লাকড়া ও এডমুন্ডকে তুলে জিকসনকে নামিয়ে দিলেন তিনি। যদিও প্রভাত লাকড়াকে বেশিক্ষণ মাঠে রাখলেন না অস্কার। তুলে নামালেন বিষ্ণুকে। ৫৪ মিনিটে ফাঁকা গোলে বল রাখতে ব্যর্থ দিয়ামান্তাকস। মিগুয়েলের কর্নার থেকে বক্সের মধ্যেই আনোয়ারের হেড উড়ে এসেছিল দিয়ামান্তাকসের কাছে। তখন তাঁর সামনে শুধুই গোলকিপার, তবুও তাঁর হেড বাইরে গেল। এর পরেই প্রায় একই মুহূর্তের অ্যাকশন রিপ্লে দেখালেন বিপিন সিং। একা সেন্টার ধরে ফাঁকা গোলেও বল রাখতে পারলেন না তিনি। ৬৪ মিনিটে জিকসনের গোলমুখি শট বাঁচিয়ে দেন গোলকিপার।

৬৬ মিনিটে গোলের মুখ খোলে ডায়মন্ড হারবার। পলের ফ্রি কিক বক্সের মধ্যে ব্যাকহেড করে ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেন আনোয়ার আলি। কিন্তু সেই বল বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার আগেই মিকেলের দুরন্ত বাইসাইকেল কিক চলে যায় গোলে। প্রভসুখন আবারও জায়গা ছেড়ে পুরো গোলটাকে ফাঁকা করে দিয়েছিলেন। সেই সুযোগেই এগিয়ে গেল ডায়মন্ড হারবার। তবে সেই উচ্ছ্বাস এক মিনিটই স্থায়ী হল। প্রায় মাঝ মাঠ থেকে বল নিয়ে সোলো রানে ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া আনোয়ারের শট সরাসরি জরিয়ে যায় জালে। গোলকিপার সঠিক দিকে ঝাঁপালেও নাগাল পাননি। ৭৯ মিনিটে মিগুয়েলের শট ক্রসবারে লেগে ফেরে। তার আগেই বাবার শেষকৃত্য সেরে ফিরে ৭৩ মিনিটে ক্রেসপোর পরিবর্তে মাঠে নামেন রশিদ। ৮৩ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বল জটলার মধ্যে থেকে গোলে পাঠান প্রাক্তন ইস্টবেঙ্গলি জবি জাস্টিন। হাতের ফাঁক দিয়ে গোল হজম করে দলকে আবারও পিছিয়ে দেন প্রভসুখন। এর পর আর ফিরতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। তৃতীয় গোলও হজম করে ফেলেছিলেন প্রভসুখন কিন্তু অফসাইডের জন্য মহেশের ভুল পাস ধরে লুকার গোল বাতিল হওয়ায় ব্যবধান বাড়ল না।

ইস্টবেঙ্গল: প্রভসুখন সিংহ গিল, মহম্মদ রকিপ, আনোয়ার আলি, কেভিন সিবিলে, লাল চুংনুঙ্গা (প্রভাত লাকড়া/পিভি বিষ্ণু)), মিগুয়েল ফিগুয়েরা, মহেশ সিংহ, সাউল ক্রেসপো (মহম্মদ রশিদ), বিপিন সিংহ (ডেভিড), এডমুন্ড লালরিনডিকা (জিকসন সিং) ও দিমিত্রিয়স দিয়ামানতাকোস।

ডায়মন্ড হারবার: মিরশাদ মিচু, রবিলাল মান্ডি (নরেশ সিং), মিকেল কোর্তাসার, সাইরুয়াতকিমা (মেলরয় মেলউইন), লালিয়ানসাঙ্গা রেনথেই, অজিত কুমার, পল রামফানজ়াউভা (বিক্রমজিত সিং), হোলিচরণ নাজ়ারি (গিরিক খোসলা), স্যামুয়েল লালমুনপুইয়া (আঙ্গুসানা), জবি জাস্টিন ও লুকা মায়সেন।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *