নর্থইস্ট ইউনাইটেডের কোচ জুয়ান পেদ্রো বেনালি ও অধিনায়ক মিশেল জাবাকো। —নিজস্ব চিত্র
সুচরিতা সেন চৌধুরী: আর মাত্র একটা ম্যাচ। তার পরই ডুরান্ড কাপ শেষের ঘণ্টা বেজে যাবে ভারতীয় ফুটবল মরসুমে। এবার অনেক টানাপড়েনের মধ্যেই শুরু হয়েছে ফুটবল মরসুম। প্রতিবারের মতো ডুরান্ড কাপ দিয়ে শুরু হলেও আইএসএল নিয়ে জটিলতার কারণে বহু দল নাম তুলে নিয়েছে। আইএসএল খেলা প্রায় সব দলই এই মরসুমের জন্য টিমই তৈরি করেনি। যার ফলে তারা ডুরান্ড খেলার জন্য সবুজ সঙ্কেত দেয়নি। যার ফলে ডায়মন্ড হারবারের মতো আই লিগের দল জায়গা করে নিয়েছে ভারতের এই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্টে। এই পরিস্থিতিতে বড় বড় নামের অনুপস্থিতিতে নিজেদের চিনিয়েছে সেদিক থেকে দেখতে গেলে ছোট দল। যদিও ডুরান্ড কাপ ফাইনালে পৌঁছনোর পর ডায়মন্ড হারবার এফসিকে আর ছোট দল বলা যায় না। আর সেই বার্তাই ফাইনাল খেলতে নামার আগে দিয়ে গেলেন নর্থইস্ট ইউনাইটেড কোচ জুয়ান পেদ্রো বেনালি।
তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, ‘‘ছোট দল, বড় দল বলে কিছু হয় নাকি, যখন ম্যাচটা ফাইনাল। তবে হ্যাঁ ডায়মন্ড হারবার খুব ভালো দল। ওরা সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের মতো দলকে হারিয়েছে যাদের নাকি এবার ডুরান্ড কাপ জয়ের মূল দাবিদার হিসেবেই ভাবা হচ্ছিল। তাই আমাদের জন্য প্রতিপক্ষ নতুন দল হোক বা পুরনো, লড়াইটা সব সময়ই কঠিন।’’ তবে এর সঙ্গে এও জুড়ে দেন তিনি, ‘‘আমি একই রকম আত্মবিশ্বাসী যতটা শেষ ম্যাচে ছিলাম বা শেষ ফাইনালে।’’
গত মরসুমে এই ডুরান্ড কাপে, এই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনেই মোহনবাগানকে ফাইনালে হারিয়ে ক্লাবের প্রথম ট্রফি জিতে নিয়েছিল নর্থইস্ট ইউনাইটেড। ভারতীয় ক্লাব ফুটবলে যাত্রা শুরু করার পর এটিই ছিল তাদের একমাত্র ট্রফি। ব্যাক টু ব্যাট ফাইনালে পৌঁছে আত্মবিশ্বাসী উত্তর-পূর্ব ভারতের এই দল। অভিনেতা জন আব্রাহামের মালিকানায় লড়াই করে দল চালিয়ে যাওয়ার প্রতিফলন স্পষ্ট এই দলের প্রতিটি সদস্যের মধ্যে। তাই যখনই মালিকের কথা ওঠে তখনই তাঁর প্রতি সম্মানের প্রকাশ দেখা যায়। গত বছর ডুরান্ড ফাইনালে গ্যালারিতে ছিলেন তিনি, এই বছরও তাঁকে একইভাবে পাশে চাইছে তাঁর দল। সঙ্গে কোচ চাইছেন, ফুটবল দেখতে আসুক কলকাতার ফুটবলপ্রেমী সমর্থকরা।
তিনি বলছিলেন, ‘‘সমর্থকদের অবশ্যই ডুরান্ড ফাইনালে মাঠে আসা উচিত, ফুটবলকে সমর্থন করতে।’’ সমর্থন ফুটবলকে উজ্জিবিত করে সে যাকেই সমর্থন করুক না কেন। কারণ তাঁর মতে ফাইনালে কেউ ফেভারিট হয় না। তবে ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই যে লুকা আর আলাদিনকে নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে রয়েছে তা নিয়ে রীতিমতো ওয়াকিবহাল নর্থইস্ট কোচ। বলছিলেন, ‘‘আমাকে কেউ একজন বলল, এই ম্যাচে নাকি লড়াই হবে লুকা আর আলাদিনের মধ্যে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।’’ তিনি সব কথাই ব্যাখ্যা করেন দর্শন মেনে, মাঝে তাতে জুড়ে দেন কিছুটা হাস্যরসও। যা দেখে মনেই হবে সামনে যতই কঠিন ম্যাচ থাক না কেন, দারুণ ফুরফুরে মেজাজেই রয়েছেন তিনি। তবে আত্মবিশ্বাসে কোনও ঘাটতি নেই। পাশাপাশি প্রতিপক্ষ ডায়মন্ড হারবারকেও হালকাভাবে নিচ্ছে না।
বলছিলেন, ‘‘ডায়মন্ড হারবার দু’দিন আগেই সেমিফাইনাল ম্যাচ খেলেছে। খুব কঠিন ম্যাচ ছিল। ওদের জন্যও যেমন সহজ নয় তেমন আমাদের জন্যও সহজ হবে না। কারণ আমাদের অনেক ট্র্যাভেল করতে হয়েছে। কখনও ৩৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় বোড়োল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার দু’দিনের মধ্যে শিলংয়ের ঠান্ডার খেলতে নামা, তার পর কলকাতা।’’ তাও ১৯ অগস্ট সেমিফাইনাল হয়ে যাওয়ার পর ম্যাচের একদিন আগে কেন ফাইনাল খেলতে কলকাতা পৌঁছল তাঁর দল? এই প্রশ্নে অবশ্য রীতিমতো স্বমেজাজে কোচ। মজা করে বললেন, ‘‘আমরা খুব ভাগ্যবাণ, কারণ আমাদের জায়গা থেকে এখানে পৌঁছতে মাত্র ৫০ মিনিট সময় লাগে। তাই আমরা নিজেদের পছন্দের বিছানা, বালিশ ছেড়ে আসতে চাইনি।’’
তবে এটাও জানিয়ে দিলেন, তাঁদের প্রস্তুতির আরও সময় প্রয়োজন। দলে পাঁচ জন নতুন ফুটবলার যোগ দিয়েছে, যাঁদের ভাষা আলাদা, খাওয়া আলাদা, তাদের দলের সঙ্গে মিশতে সময় দিতে হবে। ম্যাচের আগের দিন সকালে আসাটা যে কোনও ‘ট্যাকটিক্যাল মুভ’ ছিল না তাও পরিষ্কার করে দিলেন তিনি। দলের অধিনায়ক ও সিনিয়র প্লেয়ার মিচেল জাবাকোও আত্মবিশ্বাসী দল নিয়ে। বলছিলেন, ‘‘আমরা আমাদেক প্রতিপক্ষ সম্পর্কে জানি। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ১০০ শতাংশ দিতে হবে, তবেই রেজাল্ট আসবে।’’
পুরো দল নিয়েই ফাইনাল খেলতে পৌঁছেছে নর্থইস্ট ইউনাইটেড। তবে প্রথম একাদশ ম্যাচের আগেই জানা যাবে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
