Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

নর্থ ইস্ট ৬(‌আশির, পার্থিব, থোই, জাইরো, আন্দ্রে, আলাদিন-‌পেনাল্টি)‌ ডায়মন্ড হারবার ১ (‌লুকা)‌

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে ডুরান্ড কাপ জয়ের আশা জাগিয়েছিল ডায়মন্ড হারবার বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের মনে। নিজেদের দলকে উৎসাহ জোগাতে শনিবার যুবভারতীতে ‘‌অভিষেকেই বাজিমাত’‌, বাঘের ছবি দেওয়া ‘‌ ডুরান্ডে ডায়মন্ড হারবার, ময়দানে বেঙ্গল টাইগার’‌ টিফো নিয়ে হাজির হয়েছিলেন একদল সমর্থক। কিন্তু তাঁদের সব উন্মাদনায় জল ঢেলে দিয়ে, যুবভারতীর মাঠে ডায়মন্ড হারবাররূপী বাঘকে ‘‌পুনর্মুষিক ভব’ করে ছাড়ল নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড। ডায়মন্ড হারবারের স্বপ্নের দৌড় থামিয়ে তাদের ফাইনালে দুরমুশ করে ৬-‌১ গোলে জিতে পরপর দু’‌বার ডুরান্ড কাপ ঘরে তুলল পেড্রো বেল আলির কোচিংয়ে থাকা নর্থ ইস্ট। অভিষেকে বাংলার দল চিরাগ ইউনাইটেডের ডুরান্ড জয়ের কৃতিত্বকে ডায়মন্ড ছুঁতে পারল না। ১৯৮৯ থেকে ৯১ পরপর ডুরান্ড জয়ের কৃতিত্ব ছিল ইস্টবেঙ্গলের। সেখানে প্রথম আইএসএল দল হিসেবে ব্যাক টু ব্যাক ট্রফি জিতে সেই রেকর্ড স্পর্শ করার জায়গায় রইল নর্থ ইস্ট, পরের মরশুমে কাপ জিতে।

ফাইনালে ওঠার পর ডায়মন্ড হারবার কোচ কিবু ভিকুনা বলেছিলেন, ফুটবলারদের বাড়তি কিছু চেষ্টা করতে নিষেধ করেছেন নর্থ ইস্টের বিরুদ্ধে। এতদিন যেভাবে প্রতি ম্যাচ খেলে এসেছেন, সেটাই তুলে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন ফুটবলারদের। সেটাই দেখা গেল নর্থ ইস্টের বিরুদ্ধে ফাইনাল ম্যাচে। কোচ কিবু কোনওরকম চমকের পথে হাঁটেননি তাঁর পছন্দের ৪-‌৩-‌৩ ছকে ভরসা রেখে। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে যেভাবে প্রতিপক্ষের দুটো উইং ব্লক করে মাঝমাঠের দখল নিয়ে ম্যাচ বের করে নিয়েছিলেন সেমিফাইনালে, সেই কৌশল নিয়েছিলেন ফাইনালেও। সেই স্ট্র‌্যাটেজি প্রথম ২৫ মিনিট ভালই খেটেছিল।

কিন্তু তারপরই ছন্দপতন। ডায়মন্ডের আক্রমণের ঝাঁজটা সামলে নিয়ে নর্থ ইস্ট খেলা ধরে নিতেই হাড়ির হাল হয় ডায়মন্ড হারবারের। আলাদিন আজারে খোলস ছেড়ে বেরুতেই ডায়মন্ড রক্ষণ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। আলাদিন যতবার বল নিয়ে আক্রমণে উঠেছেন, ততবারই ডায়মন্ড রক্ষণে থরহরি কম্পভাব নজরে পড়েছে। সেই সুযোগে অন্যরা একের পর এক গোল চাপিয়ে গেছে ডায়মন্ডের জালে। নর্থ ইস্টের কোচ পেড্রো বেন আলি বুঝিয়ে দিলেন, প্রতিপক্ষকে প্রথম ৩০ মিনিট মেপে নিয়ে কীভাবে আক্রমণে শান দিয়ে কচুকাটা করতে হয়। আলাদিন নিজে পেনাল্টি থেকে শেষ গোল তো করলেনই, তার আগে বাকি ৫ গোলের ক্ষেত্রেও আলাদিনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা ছিল। আর সেকারনে আলাদিনকে গোল্ডেন বুটের পুরস্কার তুলে দিতে দ্বিধা করেননি সংগঠকরা।

৪ মিনিটের মাথায় আলাদিনের জোরালো শট ডায়মন্ড হারবার গোলকিপার মিরশাদ মিচুর বুকে লেগে বেরিয়ে উঁচু হয়ে সামনে পড়ার মুখে পার্থিব গোগোই সেই আলগা বলে হেড নিলে, তা মিরশাদের হাতে চলে গেলে গোল খাওয়া থেকে বাঁচে ডায়মন্ড। তবে ২৪ মিনিটে গিরিকের ক্রশে জবির জোরালো হেড তৎপরতার সঙ্গে ঝাঁপিয়ে না রুখলে ডায়মন্ড হারবার এগিয়ে যেতে পারত। এরপর ম্যাচ চলে যায় পুরোপুরি নর্থ ইস্টের দখলে। ২৯ মিনিটে বক্সের ভেতর ফাঁকায় বল পেয়ে পার্থিব শট নিলে তা গোললাইনে গোলকিপার মিরশাদ রোখেন কর্নারের বিনিময়ে। ৩০ মিনিটে সেই কর্নার থেকে আলাদিনের পা ঘুরে আসা বলে বক্সের মাঝে মায়াকান্ননের শট মিরশাদের হাতে লেগে সামনে পড়লে আশির আখতার তা গোলে ঠেলে দিলে এগিয়ে যায় নর্থ ইস্ট।

৪৩ মিনিটে সেটপিস থেকে গোল শোধ করার জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল ডায়মন্ড। রবিলাল ও স্যামুয়েল নিজেদের মধ্যে পাস খেলে নেন। স্যামুয়েলের তোলা বল পোস্টের কোন দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার মুখে মিকেল কোরটাজারের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপরই দ্বিতীয়বার ছন্দপতন ডায়মন্ডের অতিরিক্ত উৎসাহে রক্ষণ আলগা রেখে গোল করতে উঠে যাওয়ায়। সেই সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগালেন নর্থ ইস্টের আক্রমণের সেরা অস্ত্র আলাদিন আজারে। প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময়ের প্রথম মিনিটে ডায়মন্ডের এক ফুটবলারের পা থেকে কাড়া বল আলাদিন পেয়ে তা সামনে পার্থিবকে থ্রু বাড়াতে দেরি করেননি। বাঁপ্রান্তে বল ধরে পার্থিব গতি বাড়িয়ে ভেতর দিকে কাট করে ঢুকে এসে ডানপায়ে কোনাকুনি শট নিলে, তা দ্বিতীয় পোস্টের কোন দিয়ে জালে জড়িয়ে যায় গোলকিপার মিরশাদের হাতের নাগাল এড়িয়ে। বিশ্বমানের গোল বললে ভুল হবে না।

প্রথম গোলের পরও ভিভিআইপি বক্সের বাইরে টেনশনে দাঁড়িয়ে ছিলেন নর্থ ইস্টের কর্ণধার জন আব্রাহাম। পাশে ক্লাব সিইও মান্দার তামানেকে নিয়ে। দ্বিতীয় গোলের পর জনকে দেখা যায় বক্সের ভেতর গিয়ে সকলের সঙ্গে হাত মেলাতে। ৫০ মিনিটে আলাদিনের মাপা মাইনাস থেকে থোই সিং ‌৩-‌০ করার পর ভিভিআইপি বক্সে জনের বাড়তি উচ্ছ্বাস ধরা পড়ে। সেটাই স্বাভাবিক। কারণ অনেক সমস্যার মাঝে স্রেফ প্যাশন ও ভালবাসা না থাকলে একটা ক্লাবকে এভাবে বছরের পর বছর বয়ে নিয়ে চলা কম কথা নয়। তাই এই জয় জনের বললে এতটুকু ভুল হবে না। জন তখনই বুঝে গিয়েছিলেন ম্যাচ তাঁদের পকেটে ঢুকে গেছে।

তৃতীয় গোলের পর সম্ভবত আত্মতুষ্টি ভর করেছিল নর্থ ইস্ট শিবিরে। তাতেই ৬৮ মিনিটে রবিলাল মান্ডির কর্নারে জবির নেওয়া হেড লুকা মায়সেনের গায়ে লেগে দিক বদলে গোলে ঢুকে যায় নর্থ ইস্ট গোলকিপার গুরমিতকে ধোঁকা দিয়ে। ডায়মন্ডের এই সান্ত্বনা গোল হার বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। উল্টে ডায়মন্ডের গোলে বল জড়ালেন বদলি হিসেবে নামা জাইরো ৮২ মিনিটে(‌৪-‌১)‌ বুদ্ধিদীপ্ত শটে। ৮৬ মিনিটে আলাদিনের পাস থেকে নর্থ ইস্টের আন্দ্রে জোস পঞ্চম গোল করলে ‌৫-‌১। এখানেই দুর্দশার শেষ নয় ডায়মন্ড হারবারের। ৯২ মিনিটে আলাদিনের শট পোস্টে লেগে ফেরার মুখে আলাদিনের পায়েই পড়েছিল। তিনি বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়লে, তাঁকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় নর্থ ইস্ট। আলাদিন পেনাল্টি থেকে গোল করে হাফডজনের কোটা পূরণ করে দেন(‌‌৬-‌১)‌। ডুরান্ড সেরা ও সর্বোচ্চ (‌৮)‌ গোলদাতার পুরস্কার পেলেন আলাদিন। সেরা গোলকিপার গুরমিত।

ডায়মন্ডহারবার:‌ মিরশাদ, রবিলাল, কোরটাজার, সাইরুয়াত, অজিত(‌ব্রাইস)‌, স্যামুয়েল(‌নরহরি)‌, পল, লালিয়ানসাঙ্গা, গিরিক(‌নরেশ)‌, লুকা, জবি(‌থারপুইয়া)‌।

নর্থ ইস্ট:‌ গুরমিত, সামতে, জাবাকো, আশির, রিডিম, পার্থিব(‌ম্যাকরাটন)‌, মায়াকান্নন, আন্দ্রে, থোই(‌জিতিন)‌, ম্যানুয়েল(‌জাইরো)‌, আলাদিন।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *