নিজের স্মৃতি শেয়ার করলেন রায়না, ছবি সৌজন্যে ট্যুইটার
অলস্পোর্ট ডেস্কঃ ক্রিকেটারদের মানসিক যন্ত্রণার কথা অনেক সময়েই প্রকাশ পায় না। এমন বহু ক্রিকেটার রয়েছেন যারা দল থেকে বাদ পরার পর মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন। এবার সেই বিষয় নিয়েই মুখ খুললেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার সুরেশ রায়না । ২০০৭ সালে রায়না হাঁটুর চোটের কারণে প্রায় ছ-মাস শয্যাশায়ী ছিলেন। এই সময় দল থেকে বাদ পড়ে মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েছিলেন তিনি।
২০০৭ সালে টি২০ বিশ্বকাপ থেকেও চোটের কারণে বাদ পড়তে হয়েছিল সুরেশ রায়নাকে। সেই সময় শারীরিক কষ্টের থেকেও মানসিক চাপে বেশি ছিলেন তিনি। যদিও এই খারাপ সময়ে বাড়ির লোক এবং বন্ধুরা রায়নার পাশে ছিল। সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা জিও সিনেমাতে শেয়ার করে প্রাক্তন ক্রিকেটারটি বলেছেন, “যখন আমি চোট পাই, শারীরিক কষ্টের থেকে মানসিক যন্ত্রণা আমার ওপর বেশি প্রভাব ফেলেছিল। সেই সময় আমার পরিবারের লোক পাশে ছিল সবসময়। তাঁরা আমাকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার দিকে মন দিতে বলেছিল। আমার নেওয়া ঋণ শোধের ব্যাপারে চিন্তা করতে বারণ করেছিল। সেই সময় আমাকে সবথেকে বেশি ভাবাচ্ছিল কিভাবে আমি দলে ফিরব। কারন সেই সময় দলে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি ছিল এবং সামনে ছিল ২০০৭ টি-২০ বিশ্বকাপ।“
এই বিষয়ে রায়না আরও বলেন আরও বলেন, “ঠিক করেছিলাম আমি আমার ভাগ্যকে ভগবানের হাতে ছেড়ে দেব। এই সময়টা আমি পরিবার আর বন্ধুদের সঙ্গে ভালভাবে কাটাবো ঠিক করেছিলাম। কারণ ১৯৯৮-এর পর থেকে আমি এক টানা ১০-১২ দিন বাড়িতে থাকার সুযোগ পাইনি। পরিবারের আশীর্বাদ ও ভালবাসায় কিভাবে দিনগুলো জলের মত কেটে গিয়েছিল বুঝতে পারিনি।“
রায়না মানসিকভাবে ভেঙ্গে যাওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সমস্যাতেও পড়েছিলেন। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি মানসিকভাবে খুবই ভেঙে পরেছিলাম। আমি ভেবে উঠতে পারছিলাম না কিভাবে ঋণ শোধ করব। যদি আমি কখনও আর খেলতে না পারি তাহলে আর্থিকভাবে সব শেষ হয়ে যেত। তারপর আমি বুঝলাম হাঁটুর চোট সারানো ছাড়া আমার হাতে আর কিছুই নেই। যেভাবে চলছে সেভাবেই আমাকে এগোতে হবে।“
রায়না তাঁর খারাপ সময় কাটিয়ে খুব দ্রুত ভারতীয় দলে ফিরে এসেছিলেন। ভারতের হয়ে তিনি মোট ১৮টি টেস্ট, ২২৬টি একদিনের ম্যাচ এবং ৭৮টি টি-২০ ম্যাচ খেলেছেন। টেস্টে তাঁর মোট রান ৭৬৮ এবং একদিনের ম্যাচে তিনি মোট ৫৬১৫ রান করেন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
