অলস্পোর্ট ডেস্ক: একেই বলে তালিবানি শাসন। ভারতীয় টি২০ লেজেন্ডস লিগে খেলার জন্য দেশের ৩ জন ক্রিকেটারকে ৪ মাসের জন্য নির্বাসিত করেছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের(এসিবি) অনুমতি ছাড়া তাঁরা এই লিগে অংশ নিয়েছিল। নির্বাসনের মেয়াদকালে এই ৩ ক্রিকেটার ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক কোনও প্রতিযোগিতায় খেলতে পারবেন না। দেশের বাইরে কোনও লিগে দেশের খেলোয়াড়দের যোগদানের ব্যাপারে আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসন প্রচন্ড কড়া। পুরুষদের তাও ছাড় আছে, মেয়েদের তো খেলাধুলো করার কোনও অনুমতিই নেই। সেই কারণে সদ্য আফগানিস্তান রিফিউজি মহিলা ফুটবলারদের স্বাধীন একটি ব্যানারে জাতীয় দলের স্বীকৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিযোগিতায় খেলার অনুমতি দিয়েছে ফিফা।
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, তাদের ৩ ক্রিকেটার শামিউল্লা শিনওয়ারি, আফতাব আলম, শেহজাদ মহম্মদ নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ছাড়াই ভারতের টি২০ লেজেন্ডস লিগে খেলেছিলেন। তাতেই তাদের বিরুদ্ধে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রয়াল রাইডার্স পাঞ্জাবের হয়ে লেজেন্ডস ক্রিকেট লিগে খেলেছিলেন শামিউল্লা শিনওয়ারি ও আসগর আফগান। তাঁরা দলকে চ্যাম্পিয়ন করতে অগ্রণী ভুমিকাও নেন। শামিউল্লা ব্যানের আওতায় পড়লেও আসগর সেই শাস্তির মুখে আর পড়েননি, আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে ফেলায়। ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
শামিউল্লা গত চারবছর ধরে আফগানিস্তানের জাতীয় ক্রিকেট দলে একটি ম্যাচ খেলারও সুযোগ পাননি। আর আফতাব আলম ও শেহজাদ মহম্মদ দেশের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলেছেন ২০২৩ সালে। এই নির্বাসন দেওয়ার পিছনে আরও একটি যুক্তি দেখিয়েছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। ক্রিকেট প্রশাসক জাফর হান্ড টুইট করেছেন, ‘ বোর্ড সদস্যরা অখুশি তাঁদের দেশের ক্রিকেটাররা আইসিসি ও বিসিসিআই স্বীকৃতি নয় এমন লেজেন্ডস ক্রিকেট লিগে খেলায়। এতে বড়রকম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
নির্বাসিত ক্রিকেটাররা পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন তাঁদের শাস্তি দানের ব্যাপারে। তাঁরা বলেছেন, বোর্ডের কাছে বারবার লেজেন্ডস ক্রিকেট লিগে খেলার জন্য অনুমতি চেয়েও ফল হয়নি। নো অবজেশন সার্টিফিকেট দেওয়ার নাম করে তাঁদের বারবার ঘোরানো হয়েছে। তাই শেষপর্যন্ত বাধ্য হয়েই সেটা ছাড়াই তাঁরা খেলতে চলে যান ভারতে, লেজেন্ডস ক্রিকেট লিগের সংগঠকদের আগেই কথা দিয়ে ফেলায়। আরও একটা ব্যাপার তাঁদের খেলতে যাওয়ার পেছন কাজ করেছে। সেটা হল, আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তাঁদের তিন থেকে চার বছর জাতীয় দলে খেলার যোগ্য মনে করেনি, ফিরেও তাকায় নি। তাই তাদের অনুমতি নেওয়া জরুরি মনে করেননি এই ক্রিকেটাররা।
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের দেশের বাইরে ৩টির বেশি লিগে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিচ্ছে না। এর ফলে আফগানিস্তানের সেরা তিন ক্রিকেটার রশিদ খান, নুর আহমেদ ও রহমতুল্লা গুরবাজকে নিয়ে বিভিন্ন দেশের লিগে টানাটানি বেড়েছে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
