Photo Courtesy: BAI Media
অলস্পোর্ট ডেস্ক: সাইনা নেহওয়াল ও পিভি সিন্ধুর পর ভারতের মহিলা ব্যাডমিন্টনের সাফল্যের ধারাটা বজায় রাখবেন কে? এই প্রশ্নটা যখন অনেকের মনেই উঁকি মারতে শুরু করেছে, তখন ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের আকাশে উজ্জ্বল তারার মতোই আবির্ভাব দেবিকা সিহাগের। সাইনা বা সিন্ধুরা যেখানে বিশ্বের কাছে অতি পরিচিত নাম, অলিম্পিক পদজয়ী দুই সফল তারকা, সেখানে দেবিকার পরিচিতি খুবই সামান্য। সেই দেবিকাই নজির গড়লেন সাইনা ও সিন্ধুর পর ভারতের তৃতীয় মহিলা ব্যাডমিন্টান সিঙ্গলস খেলোয়াড় হিসেবে থাইল্যান্ড মাস্টার্স ওয়ার্ল্ড টুর ৩০০ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়ে। ব্যাডমিন্টন প্রফেসনাল সার্কিটে এই টুর্নামেন্ট র্যাঙ্কিংয়ের দিক থেকে বিশ্বের ৪ নম্বরে। ওয়ার্ল্ড টুর ১০০, ৭৫০ ও ৫০০ ইভেন্টের ঠিক পরেই এই স্থান।
থাইল্যান্ড মাস্টার্স ওয়ার্ল্ড টুর ৩০০ ইভেন্টের ফাইনালে মালয়েশিয়ার প্রতিপক্ষ গো জিন ওয়েইয়ের থেকে ২১-৮ ও ৬-৩ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন দেবিকা আধঘন্টা খেলা চালানোর মাথায়। তখনই জিন ওয়েই পেশির চোটের কারণে চেয়ার আম্পায়ারের কাছে গিয়ে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁর অবসরের কারণে দেবিকার জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে হাতজোড় করে অভিবাদন জানান থাইল্যান্ডের পাতুমওয়ানের নিমিবুতর স্টেডিয়ামের দর্শকদের। কোচ সায়ালি গোখলে হেসে দেবিকার পছি চাপড়ে দেন কাছে এলে। ব্যস এটুকুই, প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট জিতেও বাড়তি কোনও উচ্ছ্বাস দেখাননি ২০ বছরের দেবিকা খেতাব পকেটে পুরে। এটাই দেবিকার চরিত্র। অল্পে সন্তুষ্ট হওয়া তাঁর ধাতে। তাঁর লক্ষ্য আরও বেশি, আরও বড়। সাইনা বা সিন্ধুর মতো পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া।
দেবিকা র্যাঙ্কিং বিশ্বে ৬৩। থাইল্যান্ড মাস্টার্স ৩০০ ইভেন্টে তিনিই সবচেয়ে কম র্যাঙ্কিং খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হলেন, ইন্দোনেশিয়ার পুতরি কুসুমা ওয়ারদানির পর। পুতরির র্যাঙ্কিং ছিল ২০০। জিতেছিলেন ২০২১ স্পেন মাস্টার্স। আবাছাই হিসেবে থাইল্যান্ড মাস্টার্সে খেলতে নেমে তিনজন বাছাই প্রতিযোগীকে হারিয়ে খেতাব জিতে দেবিকা বুঝিয়েছেন সাইনা, সিন্ধুর পর ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের সাফল্যের ধারা বজায় থাকবে।
দেবিকার নিজের উপলব্ধি, ‘ এই জয়টা আমার কাছে একটা আলাদা অনুভূতি। একটা বড় ব্রেক। গত তিন চার মাস ধরে আমার ছন্দপতন ঘটছিল বারবার। অল্পের জন্য ম্যাচ হারছিলাম তৃতীয় সেটে গিয়ে। এবার সেই ভুলটা শুধরে নিতে পারায় সাফল্য এসেছে। ভাল খেলা খেলেছি। ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। অনেককিছু শিখলাম টুর্নামেন্ট চলাকালীন। এটা পরবর্তী টুর্নামেন্টগুলোতে কাজ লাগবে।’
দেবিকা ২০১৭ থেকে সেন্টার অফ ব্যাডমিন্টন এক্সেলেন্সের চিফ কোচ বিমল কুমারের কাছে প্রশিক্ষণ নেন। দেবিকার শুরুটা অবশ্য মা সুনীল মানের হাত ধরে। হরিয়ানার হানসি শহরে জন্মালেও দেবিকার পরিবার চলে এসেছিল চন্ডীগড়ে। বাবা একজন আইনজীবী, মা সুনীল মান স্কুল শিক্ষিকা। বিকেলের সময় কাটানোর জন্য দেবিকাকে পাঞ্চকুলার তাউ দেবীলাল স্টেডিয়ামের ব্যাডমিন্টন কোর্টে ৯ বছরের দেবিকাকে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর মা। ভাবেননি দেবিকা আজ এই জায়গায় পৌঁছে যাবে। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট জিতবে। ব্যাডমিন্টন কোর্টে ৬ মাস কাটানোর পরই দেবিকা নিজের দক্ষতা দেখাতে শুরু করে। জেলা, রাজ্য স্তর পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছে যায়। তখনই দেবিকার পরিবার একটা বড় সিদ্ধান্ত নেয়। পাঞ্চকুলায় থেকে বেশিদূর এগোন যাবে না বুঝে ১২ বছরের দেবিকাকে বেঙ্গালুরুতে সেন্টার অফ এক্সলেন্স অ্যাকাদেমিতে পাঠিয়ে দেন তাঁর বাবা-মা। ২০১৮তে প্রথমবার জাতীয় জুনিয়ার প্রতিযোগিতা জেতেন দেবিকা। আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।
তবে কিছুদিন আগে দেবিকাকে ঝামেলায় ফেলেছিল হাঁটুর সমস্যা। উচ্চতায় বেশি, কিন্তু দেবিকার পা তুলনামূলক ভাবে কমজোরি। এতে দেবিকা হাঁটুর ব্যথা অনুভব করে খেলার সময়। সাচ্ছন্দ বোধ করেন না কোর্টে নড়াচড়া করতে। এই সমস্যা মেটানোয় মন দেন তাঁর কোচেরা। গত ৬ মাস আগে দেবিকা তাঁর আদর্শ পিভি সিন্ধুর সঙ্গে বেঙ্গালুরু জাতীয় শিবিরে অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছিলেন। এটা দারুন ভাবে কাজে লেগেছে। যেমন নিজের ভুলগুলো সিন্ধুর সঙ্গে অনুশীলন করে শুধরে নিতে পেরেছেন, তেমন শিখেছেন নতুন অনেককিছুই। কেটেছে হাঁটুর ব্যথা নিয়ে খেলার ভয়ও। সেটাই সাফল্য এনে দিয়েছে। দেবিকার সাফল্যে শুভেচ্ছা জানিয়ে সিন্ধু বলেছেন, প্র্যাকটিস পার্টনার যখন বড় টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়, তখন সেটা নিঃসন্দেহে আনন্দ দেয়। এটা ভেবে ভাল লাগছে সাইনা, আর আমার পর ভারতের মহিলা ব্যাডমিন্টনের ব্যাটনটা ঠিক হাতেই যাবে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার্য়্য
